০২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দাকোপের বানীশান্তা পতিতাপল্লিতে মাদক সিন্ডিকেটের দখল, অনিরাপদ জীবনে শঙ্কা

‎শিপন খলিফা,দাকোপ প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৪:৫৪:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১০৮ Time View

 

খুলনার দাকোপ উপজেলার বানীশান্তা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ওয়াপদা রাস্তার বাইরে এবং পশুর নদীর কোল ঘেঁষে অবস্থিত বানীশান্তা পতিতা পল্লি।

 

‎বাংলাদেশের ২য় সমুদ্র বন্দর মোংলা বন্দরের নিকটবর্তি এই পল্লির অবস্থান। অন্যদিকে বিশ্বের দীর্ঘতম বনাঞ্চল সুন্দরবনের কাছাকাছি হওয়ায় এই পল্লির পরিচিতিটাও দেশ জুড়ে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উক্ত পল্লিতে পর্যটকরা ঘুরতে আসে। মোংলা বন্দর কেন্দ্রিক হওয়ায় উক্ত পল্লিতে জাহাজি শ্রমিকদের আনাগোনাও ব্যাপক।প্রায় ১১০-১২০ জন মহিলার আবাস্থল বানীশান্তা পতিতা পল্লি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানাবিধ কারণে সমাজের সবচেয়ে ঘৃণিত স্থানে নিরুপায় হয়ে তাদের বসবাস। দীর্ঘ ৫০-৬০ বছরের পুরানো এ পতিতা পল্লি ধিরে ধিরে নিঃশেষের পথে। একসময়ের প্রায় ৩০০ মহিলার আবাস্থল এখন ১১০-১২০ এ নেমে এসেছে। ৩০-৩৫ বছর পূর্বে পতিতা পল্লিটিতে মোংলা প্রশাসনের কিছুটা নিয়ন্ত্রিনে থাকলেও বিগত ২০-২৫ বছর উক্ত পতিতা পল্লির পূর্ণ দায়িত্ব নেয় দাকোপ উপজেলা প্রশাসন। দাকোপ উপজেলা প্রশাসন বানীশান্তা পতিতা পল্লির দায়িত্ব নেওয়ার পূর্বে উক্ত পল্লিতে চোরাকারবারি ও মাদকের অভায়রণ্য ছিলো। প্রায় সময় উক্ত পল্লিতে হত্যার ঘটনা ঘটতো। কিন্তু দাকোপ উপজেলা প্রশাসন বানীশান্তা পতিতা পল্লির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর উক্ত পল্লির পরিবেশ অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর দেশের আইন শৃঙ্খলা অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বানীশান্তা ইউনিয়নের এবং বহিরাগত অনেক মাদক ব্যবসায়ীর বিচরণ ঘটেছে। নাম জানাতে অনিচ্ছুক পল্লির কয়েকজন নারী জানান, প্রতিদিন স্থানীয় ও বহিরাগত ব্যক্তিরা এসে দোকান পাটে বসে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করে,দেশি-বিদেশি মদ খেয়ে হই হুল্লোড় করে এবং উশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করে। ঐসব মাদক কারবারিদের জন্য আমাদের এখানে দেশ-বিদেশের কাস্টমার আসা অনেকটা কমে গিয়েছে। তাই আমাদের আয় রোজগার এখন তেমন হয়না। মাদক কারবারিদের যদি আমরা কিছু বলি তাহলে তারা আমাদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখায় এবং পতিতা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। তিনি আরও বলেন আগে দাকোপ থানার পুলিশেরা আমাদের পতিতায় ডিউটি করতো তখন মাদকদ্রব্য অনেক নিয়ন্ত্রণে ছিলো,এভাবে প্রকাশ্যে গাঁজা,ইয়াবা ও মদ বিক্রি করতে পারেনি। আমরা ঘরের দরজাও নির্ভয়ে খুলে রাখতে পারতাম। কিন্তু এখন আমরা দিনের বেলায় আতঙ্কে থাকি। উক্ত পতিতা পল্লির মহিলারা আরও জানান আমরা পূর্বে যেমন ভাবে আয় রোজগার করেছি ঠিক তেমনিভাবে আয় রোজগার করতে চাই। এই মাদক কারবারিদের জন্য আমাদের আয় রোজগারের অনেক ক্ষতি হচ্ছে এবং আমরা আমাদের আগামী ভবিষ্যৎ নিয়েও অনেক শঙ্কিত। বানীশান্তা পতিতা পল্লির নারীরা উক্ত বিষয়ে দাকোপ থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আতিকুর রহমানের নিকট উক্ত পল্লির নিরাপত্তা জোরদারে সচেষ্ট ভূমিকা পালনের দাবি জানান।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

দাকোপের বানীশান্তা পতিতাপল্লিতে মাদক সিন্ডিকেটের দখল, অনিরাপদ জীবনে শঙ্কা

Update Time : ০৪:৫৪:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

 

খুলনার দাকোপ উপজেলার বানীশান্তা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ওয়াপদা রাস্তার বাইরে এবং পশুর নদীর কোল ঘেঁষে অবস্থিত বানীশান্তা পতিতা পল্লি।

 

‎বাংলাদেশের ২য় সমুদ্র বন্দর মোংলা বন্দরের নিকটবর্তি এই পল্লির অবস্থান। অন্যদিকে বিশ্বের দীর্ঘতম বনাঞ্চল সুন্দরবনের কাছাকাছি হওয়ায় এই পল্লির পরিচিতিটাও দেশ জুড়ে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উক্ত পল্লিতে পর্যটকরা ঘুরতে আসে। মোংলা বন্দর কেন্দ্রিক হওয়ায় উক্ত পল্লিতে জাহাজি শ্রমিকদের আনাগোনাও ব্যাপক।প্রায় ১১০-১২০ জন মহিলার আবাস্থল বানীশান্তা পতিতা পল্লি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানাবিধ কারণে সমাজের সবচেয়ে ঘৃণিত স্থানে নিরুপায় হয়ে তাদের বসবাস। দীর্ঘ ৫০-৬০ বছরের পুরানো এ পতিতা পল্লি ধিরে ধিরে নিঃশেষের পথে। একসময়ের প্রায় ৩০০ মহিলার আবাস্থল এখন ১১০-১২০ এ নেমে এসেছে। ৩০-৩৫ বছর পূর্বে পতিতা পল্লিটিতে মোংলা প্রশাসনের কিছুটা নিয়ন্ত্রিনে থাকলেও বিগত ২০-২৫ বছর উক্ত পতিতা পল্লির পূর্ণ দায়িত্ব নেয় দাকোপ উপজেলা প্রশাসন। দাকোপ উপজেলা প্রশাসন বানীশান্তা পতিতা পল্লির দায়িত্ব নেওয়ার পূর্বে উক্ত পল্লিতে চোরাকারবারি ও মাদকের অভায়রণ্য ছিলো। প্রায় সময় উক্ত পল্লিতে হত্যার ঘটনা ঘটতো। কিন্তু দাকোপ উপজেলা প্রশাসন বানীশান্তা পতিতা পল্লির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর উক্ত পল্লির পরিবেশ অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর দেশের আইন শৃঙ্খলা অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বানীশান্তা ইউনিয়নের এবং বহিরাগত অনেক মাদক ব্যবসায়ীর বিচরণ ঘটেছে। নাম জানাতে অনিচ্ছুক পল্লির কয়েকজন নারী জানান, প্রতিদিন স্থানীয় ও বহিরাগত ব্যক্তিরা এসে দোকান পাটে বসে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করে,দেশি-বিদেশি মদ খেয়ে হই হুল্লোড় করে এবং উশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করে। ঐসব মাদক কারবারিদের জন্য আমাদের এখানে দেশ-বিদেশের কাস্টমার আসা অনেকটা কমে গিয়েছে। তাই আমাদের আয় রোজগার এখন তেমন হয়না। মাদক কারবারিদের যদি আমরা কিছু বলি তাহলে তারা আমাদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখায় এবং পতিতা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। তিনি আরও বলেন আগে দাকোপ থানার পুলিশেরা আমাদের পতিতায় ডিউটি করতো তখন মাদকদ্রব্য অনেক নিয়ন্ত্রণে ছিলো,এভাবে প্রকাশ্যে গাঁজা,ইয়াবা ও মদ বিক্রি করতে পারেনি। আমরা ঘরের দরজাও নির্ভয়ে খুলে রাখতে পারতাম। কিন্তু এখন আমরা দিনের বেলায় আতঙ্কে থাকি। উক্ত পতিতা পল্লির মহিলারা আরও জানান আমরা পূর্বে যেমন ভাবে আয় রোজগার করেছি ঠিক তেমনিভাবে আয় রোজগার করতে চাই। এই মাদক কারবারিদের জন্য আমাদের আয় রোজগারের অনেক ক্ষতি হচ্ছে এবং আমরা আমাদের আগামী ভবিষ্যৎ নিয়েও অনেক শঙ্কিত। বানীশান্তা পতিতা পল্লির নারীরা উক্ত বিষয়ে দাকোপ থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আতিকুর রহমানের নিকট উক্ত পল্লির নিরাপত্তা জোরদারে সচেষ্ট ভূমিকা পালনের দাবি জানান।