খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির ২ যুবককে ডিসকাউন্টে মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে খুলনা শহরে ডেকে নিয়ে অস্ত্রের মুখে অপহরণ ও পরে তাদের কাছে থাকা মোটরসাইকেল ক্রয়ের নগদ টাকা, ব্যবহৃত মোটর সাইকেল, স্বর্ণালংকার, মোবাইল, ঘড়ি ছিনতাইয়ের পর মুক্তিপণের দাবিতে বেধড়ক মারপিটের ঘটনায় খুলনা সদর থানায় স্বামী-স্ত্রীসহ অজ্ঞাতনামা আরোও ১০/১৫ জনের নামে মামলা হয়েছে।
থানা পুলিশ মামলার প্রধান আসামী রাসেল মোড়ল নামে একজনকে আটক করলেও ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধার কিংবা অপর কোন আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেনি।
মামলার বিবরনে জানানো হয়, গত ২ মে দুপুর আনুমানিক ১২ টার দিকে পাইকগাছা উপজেলার কাশিমনগর গ্রামের ইবাদুল মোড়লের ছেলে সালাম মোড়ল ও রামনগর গ্রামের শ্রীকান্ত মন্ডলের ছেলে জয়ন্ত মন্ডল মোটর সাইকেল ক্রয় ও মোবাইল মেরামতের জন্য খুলনায় যায়। এসময় পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে পাইকগাছার রামনগরের মৃত মাহাবুবুল ওরফে বাছা মোড়লের ছেলে রাসেল মোড়ল (২৯) ও তার স্ত্রী এলিজা সুলতানা রহিমা (২৮) বর্তমানে খুলনার সদর থানার নাজিরঘাট রোডের তাবলীগ মসজিদ সংলগ্ন তাদেরকে ডিসকাউন্টে মোটর সাইকেল কিনে দেওয়ার কথা বলে খুলনা আজম খান কর্মাস কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ডেকে নেয়। এসময় রাসেল দম্পতির সাথে আরোও ৫/৬ জন অজ্ঞাত পরিচয় যুবক যুক্ত হয়ে তাদেরকে জোরপূর্বক অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
এসময় টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা তাদেরকে লোহার রড, হাতুড়ি, প্লাসসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ব্যাপক মারপিট করে। এবং পিস্তল ঠেকিয়ে তাদেরকে জীবননাশের হুমকি দেয়।
এসময় সালাম মোড়ল তার কাছে থাকা মোটরসাইকেল ক্রয়ের ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা, স্যামসং গ্ল্যালাক্সি এস-২৩ আল্ট্রা ব্যান্ডের মোবাইল ফোন, হাতে থাকা টাইটান ব্রান্ডের ঘড়ি, মানিব্যাগে থাকা ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরসাইকেলের কাগজপত্র ও সাথে থাকা জয়ন্তর কাছে থাকা নগদ সাড়ে ৫ হাজার টাকা, মোবাইল, ঘড়ি ও একটি পালসার মোটরসাইকেল, মূল্যবান কাগজপত্র ছিনতাই করে নেয়। এসময় রাসেল মোড়ল তার ব্যবহৃত ০১৭১৪-৮০২০৬৫ নং মোবাইল থেকে আটক সালামের ভাই সেলিম মোড়লকে ফোন করে বিকাশে টাকা দাবী করে। ভয়ে সেলিম তাদের দেওয়া ২টি মোবাইল নং ০১৯১০-৮০৫৩৯১ ও ০১৪১০-৯০৩৯৭৯ নম্বরে এজন্ট শাখা থেকে আরোও আরোও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পাঠায়। এরপর রাত সাড়ে ১২ টার দিকে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়ার আগে তাদের উলঙ্গ করে ভিডিও ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়, এরপর মাদকদ্রব্যসহ ভিডিও ধারণ তবে তাদের চেহারা মাদকসেবীদের মত না হওয়ায় জুয়া খেলার ভিডিও ধারণ ও জোরপূর্বক এর সাথে সম্পৃক্ত থাকার স্বীকারোক্তি নেয়।
পরের দিন সকাল ১০ টার দিকে তারা গুরুতর আহতাবস্থায় কাশিমনগরস্থ ডা: গোলাম মোস্তফার কাছ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও তার পরামর্শে পরে ৫ মে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেয়। এরপর খানিকটা সুস্থ্য হয়ে গত ৮ মে খুলনা সদর থানায় একটি মামলা করে। যার নং-৭।
এরপর সদর থানা পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত পাইকগাছার কপিলমুনির রামনগর এলাকার রাসেল মোড়লকে খুলনা থেকে গ্রেফতার করেছে।
সৈকত ইমরান
পাইকগাছা, খুলনা।