খুলনার দাকোপ উপজেলার কামারখোলা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী 'সাতঘরিয়া/সাহারাবাদ পাড়া খাল' অবৈধভাবে দখল করে মাছ শিকারের মহোৎসব চলছে। গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় ও বহিরাগত কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি খালের বিভিন্ন পয়েন্টে নেটপাটা, চারো (মাছ ধরার ফাঁদ) এবং আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশন ও উন্মুক্ত জলাশয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব করছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই খালটি এলাকার কৃষি কাজ, গবাদি পশুর পানি পান এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বেশ কিছু বছর যাবৎ একশ্রেণীর অসাধু মানুষ ও বহিরাগতরা সরকারি আইন অমান্য করে পুরো খালজুড়ে ঘন জাল ও পাটা পেতে রেখেছে। এর ফলে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা জানান, খালটি উন্মুক্ত জলাশয় হওয়া সত্ত্বেও তারা এখানে কোনো প্রকার মাছ ধরতে পারছেন না। উপরন্তু, বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, যা ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি করছে। বহিরাগতদের এই অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে গেলে নানা রকম হুমকি-ধমকির শিকার হতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, "সরকারি সম্পদ এভাবে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত এখানে অভিযান চালাক। ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করে এই নেটপাটা ও চারোগুলো উচ্ছেদ করা হোক এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হোক।
এ বিষয়ে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন কামারখোলা ইউনিয়নের সচেতন মহল।