একসাথে আরও শক্তিশালী জলাতঙ্কমুক্ত বিশ্ব গড়ি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খুলনার পাইকগাছায় বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় জলাতঙ্ক রোগের ভয়াবহতা, সংক্রমণের কারণ, প্রতিরোধের উপায় এবং কুকুরসহ অন্যান্য প্রাণীর কামড়ের পর দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে ময়না, জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনি ডা. সুজন কুমার সরকার, মেডিকেল অফিসার ডা. সঞ্জয় কুমার মণ্ডল ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শকিলা আফরোজ।
ডা. আহসানারা বিনতে ময়না বক্তব্যে বলেন, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ হলেও সচেতনতা ও সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। বিশেষ করে কুকুর, বিড়াল বা অন্য কোনো প্রাণী কামড়ালে ক্ষতস্থান নিয়ে অবহেলা না করে দ্রুত সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকা ও অন্যান্য চিকিৎসা গ্রহণ করলে রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা যায়।
ডা. সুজন কুমার সরকার বলেন, জলাতঙ্ক প্রতিরোধে শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি কুকুরসহ অন্যান্য প্রাণীর টিকাদান, বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, প্রাণীর আচরণ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বাড়ির শিশুদের বিশেষভাবে সতর্ক করতে হবে, যাতে তারা অপরিচিত বা আক্রমণাত্মক প্রাণীর কাছাকাছি না যায়।
বক্তারা আরো বলেন, প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে দেরিতে চিকিৎসা নেন। এতে জলাতঙ্কের ঝুঁকি বাড়ে। তাই কোনো প্রাণীর কামড় বা আঁচড়কে ছোট করে না দেখে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা জরুরি। সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে জলাতঙ্কে মৃত্যু এড়ানো সম্ভব।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. ইমরান হোসেন, ডা. অর্ণব ঘোষ, ডা. প্রান্ত সরকার, ডা. আবু জাফর, ডা. তানভীর আহম্মেদ, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক উদয় কুমার মণ্ডল, সিনিয়র নার্স খাদিজা খাতুন, ইতি রানী বিশ্বাস, শারমিন সুলতানা, পরিসংখ্যানবিদ জাহাঙ্গীর আলম ও দেব্রত সরকারসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সচেতনতা বাড়াতে বক্তারা বলেন, যে সকল প্রাণীর কামড়ে ভ্যাকসিন দিতে হবে। কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেঁজি, বানর, বাদুর।
যে সকল প্রাণীর কামড়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রয়োজন নাই। ইঁদুর, খরগোস, কাঠবিড়ালী, গুঁইসাপ, মানুষ।
যে সকল অবস্থায় ভ্যাকসিন নিতে সমস্যা নাই। মায়ের দুগ্ধদান কালে, গর্ভাবস্থায়, ছোট বাচ্চা, অন্য যে কোন অসুস্থতায়, বৃদ্ধ অবস্থায়। র্যাবিস আক্রান্ত গরুর দুধ বা মাংস খেলে জলাতংক হওয়ার সম্ভাবনা নাই বলে জানান বক্তারা।
সভায় জলাতঙ্ক প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো, প্রাণীর কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ এবং সম্মিলিতভাবে জলাতঙ্কমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রেরক
মোঃ শফিয়ার রহমান।
পাইকগাছা খুলনা প্রতিনিধি।
০১৭১২-৩৩৩১৯৫