উত্তরবঙ্গের শস্যভাণ্ডারখ্যাত নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায় মাঠ জুড়ে দুলছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। বোরো ধানের সবুজ শীষ এখন রূপ নিয়েছে সোনালী রঙে। কৃষকের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে আশার আলো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন তারা।
বদলগাছীর মাঠে এখন শুধু ধান আর ধান। হালকা বাতাসে দুলছে সোনালী শীষ, আর কৃষকের মনে দুলছে নতুন স্বপ্নের ঢেউ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা থাকলেও আশা জাগাচ্ছে শীষের ভার। কয়েকদিনের মধ্যেই পুরো উপজেলায় ধান কাটা শুরু হবে।
কৃষকরা বলছেন, ধানের চারা রোপণ থেকে শুরু করে পরিচর্যা পর্যন্ত কৃষি অফিসের সহযোগিতা এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর মাঠে রোগবালাই প্রায় নেই বললেই চলে। ধান কাটা-মাড়াই পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন নিশ্চিত বলে মনে করছেন তারা।
বদলগাছী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ১১ হাজার ৭৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ইউনিয়নগুলো হলো—বদলগাছী সদর, আধাইপুর, কোলা, পাহাড়পুর, বিলাশবাড়ী, মথুরাপুর, মিঠাপুর এবং বালুভরা।
উপজেলার ভান্ডারপুর গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন এবং বালুভরা ইউনিয়নের সাজ্জাদ হোসেন জানান, এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বোরো ধানের ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। আর কয়েকটা দিন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়িয়ে গেলে সোনালী স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে।
বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের কৃষক খোরশেদ আলম বলেন, "আমরা জিরাসাইল, কাটারি ও আটাশ জাতের ধানের পাশাপাশি কিছু নতুন জাতের ধানের চাষ করেছি। শুরু থেকেই আবহাওয়া ভালো থাকায় শীষগুলো খুব সুন্দরভাবে বেড়েছে। আশা করছি বাম্পার ফলন হবে।"
বদলগাছী সদর ইউনিয়নের কৃষক জব্বার আলী জানান, আগাম রোপণের ধান দুই-চার দিনের মধ্যে কাটা শুরু হবে। তবে পুরোপুরি মাড়াই কার্যক্রম শুরু হতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
মথুরাপুর ইউনিয়নের সৌরভ হোসেন বলেন, "ঝড় ও শিলাবৃষ্টির শঙ্কা মাথায় নিয়ে মাঠে রয়েছি। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তবে এবারে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন পূরণ হবে।"
বদলগাছী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবাব ফারহান প্রথম আলোকে বলেন, "চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়েছেন। সঠিক সার প্রয়োগ, পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যায় কৃষকরা সচেষ্ট ছিলেন।"
তিনি আরও জানান, এবছর বদলগাছীতে কোথাও মাঝড়া পোকার আক্রমণ হয়নি। প্রতি বিঘায় জিরাসাইল, আটাশ ও কাটারি ধান গড়ে ২৪ থেকে ২৬.২৭ মণ ফলন হবে। মোটা জাতের ধানে আরও বেশি ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে কাটামাড়াই শুরু হবে। সুন্দরভাবে ধান ঘরে তোলার জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।