০৪:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুর শংকর নগর কওমিয়া মাদ্রাসায় নূরানী বিভাগের বই বিতরণ

মোঃ হুসাইন শেখ| রামপাল, বাগেরহাট, প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৫:৩৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩৬ Time View

 

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় অবস্থিত চাঁদপুর শংকর শামছুল উলুম সিদ্দিকীয়া কওমিয়া মাদ্রাসা, মাদ্রাসায় নূরানী বিভাগের বই বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে নূরানী বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী, তাদের অভিভাবকবৃন্দ এবং মাদ্রাসার সকল শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

বই বিতরণের আগে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, যুগের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলাই উন্নতির লক্ষণ। বর্তমানে সারা বাংলাদেশে নূরানী শিক্ষা ব্যবস্থার একটি নতুন জনপ্রিয় সৃষ্টি হয়েছে। আগে কওমি মাদ্রাসাগুলোতে মূলত আরবি, কোরআন, হাদিস ও উর্দু শিক্ষা দেওয়া হতো এবং বাংলা, ইংরেজি ও অঙ্ক পড়ার জন্য শিশুদের স্কুল বা আলিয়া মাদ্রাসায় যেতে হতো। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই যদি শিশুদের কোরআনি শিক্ষা দেওয়া না যায়, তাহলে বড় হয়ে তারা কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক হারিয়ে ফেলে।

তিনি আরও বলেন, পারিবারিক ও দ্বীনি শিক্ষা না থাকলে অনেকেই ইসলামী মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে যায়। এই বাস্তবতা অনুধাবন করেই কারী বিলায়েত সাহেব শিশুদের জন্য নূরানী শিক্ষা ব্যবস্থার সূচনা করেন, যেখানে একই সঙ্গে কোরআন শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করা হয়। এর ফলে কেউ চাইলে আলেম হতে পারে, আবার কেউ সাধারণ শিক্ষায়ও এগিয়ে যেতে পারে।

তিনি জানান, শুরুতে এই ব্যবস্থা নিয়ে অনেকের দ্বিধা থাকলেও ধীরে ধীরে নূরানী শিক্ষা বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বর্তমানে অনেক এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চেয়ে নূরানী মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। এমনকি এ বিষয়টি জাতীয় পর্যায়েও আলোচিত হয়েছে।

মাওলানা হুমায়ুন কবির বলেন, দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও এই মাদ্রাসায় নূরানী বিভাগ চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে মাদ্রাসার শিক্ষকরা উদ্যোগ গ্রহণ করায় আলহামদুলিল্লাহ নূরানী বিভাগ চালু হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক এসেছে

শিশুদের কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, অঙ্ক ও ইংরেজি শেখাবেন। একই সঙ্গে নামাজ, দোয়া, খুতবা, তারাবির নামাজ ও জানাজার নামাজ পড়ানোসহ ইমামতির যোগ্য করে গড়ে তোলা হবে—ইনশাআল্লাহ।

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিশুদের নিয়মিত মাদ্রাসায় পাঠানো, অকারণে অনুপস্থিত না রাখা এবং বাড়ির কাজগুলো ঠিকমতো করিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। নির্ধারিত ছুটির বাইরে যেন সন্তানরা মাদ্রাসা কামাই না করে, সেদিকে খেয়াল রাখার অনুরোধ জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন খুলনার মাদানী নগর মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মোজাফফর হোসাইন। তিনি বলেন, কচিকাঁচা শিশুরা আল্লাহর বড় নিয়ামত। যদি আমরা তাদের সঠিক দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হবে আলোকিত। আর তা না হলে এই প্রজন্ম আমাদের মাথায় ব্যাথার কারন হবে দাঁড়াবে।

তিনি আরও বলেন, নূরানী শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো ছোট বয়সেই শিশুদের মনে ঈমান, আখিরাত ও ইসলামী আকিদার বীজ বপন করা। এই বয়সে দেওয়া শিক্ষা তাদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং ভবিষ্যতে যে পথেই তারা চলুক না কেন, ইসলামী মূল্যবোধ তাদের পথভ্রষ্ট হতে দেবে না।

আলোচনা সভা শেষে পর্যায়ক্রমে নূরানী বিভাগের সকল ছাত্র-ছাত্রীর হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়। নতুন বই পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামী শনিবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নূরানী বিভাগের নিয়মিত ক্লাস শুরু

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

চাঁদপুর শংকর নগর কওমিয়া মাদ্রাসায় নূরানী বিভাগের বই বিতরণ

Update Time : ০৫:৩৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

 

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় অবস্থিত চাঁদপুর শংকর শামছুল উলুম সিদ্দিকীয়া কওমিয়া মাদ্রাসা, মাদ্রাসায় নূরানী বিভাগের বই বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে নূরানী বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী, তাদের অভিভাবকবৃন্দ এবং মাদ্রাসার সকল শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

বই বিতরণের আগে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা দারুল উলুম মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, যুগের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলাই উন্নতির লক্ষণ। বর্তমানে সারা বাংলাদেশে নূরানী শিক্ষা ব্যবস্থার একটি নতুন জনপ্রিয় সৃষ্টি হয়েছে। আগে কওমি মাদ্রাসাগুলোতে মূলত আরবি, কোরআন, হাদিস ও উর্দু শিক্ষা দেওয়া হতো এবং বাংলা, ইংরেজি ও অঙ্ক পড়ার জন্য শিশুদের স্কুল বা আলিয়া মাদ্রাসায় যেতে হতো। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই যদি শিশুদের কোরআনি শিক্ষা দেওয়া না যায়, তাহলে বড় হয়ে তারা কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক হারিয়ে ফেলে।

তিনি আরও বলেন, পারিবারিক ও দ্বীনি শিক্ষা না থাকলে অনেকেই ইসলামী মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে যায়। এই বাস্তবতা অনুধাবন করেই কারী বিলায়েত সাহেব শিশুদের জন্য নূরানী শিক্ষা ব্যবস্থার সূচনা করেন, যেখানে একই সঙ্গে কোরআন শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করা হয়। এর ফলে কেউ চাইলে আলেম হতে পারে, আবার কেউ সাধারণ শিক্ষায়ও এগিয়ে যেতে পারে।

তিনি জানান, শুরুতে এই ব্যবস্থা নিয়ে অনেকের দ্বিধা থাকলেও ধীরে ধীরে নূরানী শিক্ষা বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বর্তমানে অনেক এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চেয়ে নূরানী মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। এমনকি এ বিষয়টি জাতীয় পর্যায়েও আলোচিত হয়েছে।

মাওলানা হুমায়ুন কবির বলেন, দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও এই মাদ্রাসায় নূরানী বিভাগ চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে মাদ্রাসার শিক্ষকরা উদ্যোগ গ্রহণ করায় আলহামদুলিল্লাহ নূরানী বিভাগ চালু হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক এসেছে

শিশুদের কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, অঙ্ক ও ইংরেজি শেখাবেন। একই সঙ্গে নামাজ, দোয়া, খুতবা, তারাবির নামাজ ও জানাজার নামাজ পড়ানোসহ ইমামতির যোগ্য করে গড়ে তোলা হবে—ইনশাআল্লাহ।

তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিশুদের নিয়মিত মাদ্রাসায় পাঠানো, অকারণে অনুপস্থিত না রাখা এবং বাড়ির কাজগুলো ঠিকমতো করিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। নির্ধারিত ছুটির বাইরে যেন সন্তানরা মাদ্রাসা কামাই না করে, সেদিকে খেয়াল রাখার অনুরোধ জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন খুলনার মাদানী নগর মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মোজাফফর হোসাইন। তিনি বলেন, কচিকাঁচা শিশুরা আল্লাহর বড় নিয়ামত। যদি আমরা তাদের সঠিক দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হবে আলোকিত। আর তা না হলে এই প্রজন্ম আমাদের মাথায় ব্যাথার কারন হবে দাঁড়াবে।

তিনি আরও বলেন, নূরানী শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো ছোট বয়সেই শিশুদের মনে ঈমান, আখিরাত ও ইসলামী আকিদার বীজ বপন করা। এই বয়সে দেওয়া শিক্ষা তাদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে এবং ভবিষ্যতে যে পথেই তারা চলুক না কেন, ইসলামী মূল্যবোধ তাদের পথভ্রষ্ট হতে দেবে না।

আলোচনা সভা শেষে পর্যায়ক্রমে নূরানী বিভাগের সকল ছাত্র-ছাত্রীর হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়। নতুন বই পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, আগামী শনিবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নূরানী বিভাগের নিয়মিত ক্লাস শুরু