পাইকগাছায় জ্বালানি সংকটে বিপাকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা
- Update Time : ০৮:২২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
- / ৯৬ Time View

উপজেলা পাইকগাছাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে জেলা শহর থেকে উপজেলা, ইউনিয়ন কিংবা গ্রামে যেতে বহু মানুষ ভাড়ার মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভর করেন। দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা, অন্য যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী সড়ক, দুর্গম এলাকায় দ্রুত পৌঁছানোর প্রয়োজন সব মিলিয়ে এসব এলাকায় ভাড়ার মোটরসাইকেল গুরুত্বপূর্ণ বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
পাইকগাছার কয়রার বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়কের দুরবস্থা ও গণপরিবহনের সীমিত থাকার কারণে এই এলাকার হাজারো মানুষ মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল।
পাইকগাছায় ভাড়ার মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন কয়েক হাজার মানুষ। বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে তাদের অনেকেই এখন জীবন-জীবিকা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।
পাইকগাছার দেলুটি ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামের কমলেশ জানান,গত ২০ বছর ধরে এলাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বটিয়াঘাটা, দাকোপ, কয়রা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করেন। দুর্গম পথ হওয়ায় এসব অঞ্চলে মোটরসাইকেলের মাইলেজও কম পাওয়া যায়। এর ওপর বর্তমান তেল সংকট তার মতো চালকদের জন্য নতুন বিপদ ডেকে এনেছে। প্রতিদিন যে পরিমাণে তেল দরকার তা কোনোভাবেই সংগ্রহ করতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে কাছাকাছি এলাকায় যাতায়াত করছেন। আবার প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা শুধু তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
পাইকগাছার গড়ইখালী ইউনিয়নের ছমির সানা বলেন, আগে প্রতিদিন খরচ বাদে ৫০০ থেকে ১২০০ টাকা আয় করতাম। এখন তা নেমে এসেছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। কবে এই সমস্যার সমাধান হবে, সেটাও বলতে পারছি না।
চাঁদখালী ইউনিয়নের আজিজ সরদার জানান, পাইকগাছায় হাজারের বেশি মোটরসাইকেল চালক আছেন। যাদের শতকরা ৬০ শতাংশ এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছে শুধুমাত্র জ্বালানি তেলের অভাবে।
সেলাদানা এলাকার শিক্ষিকা অনিতা রানী জানান, প্রতিদিন তাকে শিক্ষাকতার জন্য দেলুটি যেতে হয়। আগে খুব সহজেই মোটরসাইকেল পাওয়া যেত। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, তারপরও অনেক সময় যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল পাওয়া যায় না। যদিও দুই একটা পাওয়া যায় তার ভাড়া অনেক বেশি।’
লতা ইউনিয়নের মিজান সানা জানান, যারা শুধু মোটরসাইকেল চালিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের অনেকেই ঋণ নিয়ে মোটরসাইকেল কিনে এই পেশায় এসেছেন। তেল সংকটের কারণে তাদের আয় কমে যাওয়ায় তাদের কিস্তির টাকা দিতে ও সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ ও সুন্দরবন একাডেমির পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির জানান, বেকার তরুণরা সাধারণত রাইড-শেয়ারিং মোটরসাইকেল সেবার সঙ্গে যুক্ত থাকেন। এই সংকটে তারা আরও বেশি অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে পড়বেন।
তিনি বলেন, ‘সরকারের উচিত যেকোনো উপায়ে এই পেশায় নিয়োজিত মানুষদের সহায়তা দেওয়া। আয় কমতে থাকলে শুধু তাদের পরিবারই নয়, দুর্গম এলাকার মানুষের জরুরি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়বে।
সৈকত ইমরান
পাইকগাছা, খুলনা।



















