০৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‎সুন্দরবনের দস্যুদের মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এলেন ছয় জেলে

‎ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট
  • Update Time : ০৮:৫৬:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • / ৮২ Time View

 

‎সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত বাগেরহাটের শরণখোলার ছয় জেলে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছেন। শনিবার (২ মে) ভোররাতে তারা নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছান। গত ২০ এপ্রিল পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কোকিলমনি ও চাতরা খাল এলাকা থেকে বনদস্যু ‘শরীফ’ ও ‘নানাভাই’ বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিপণের দাবিতে তাদের অপহরণ করেছিল।

‎ফিরে আসা জেলেরা হলেন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার পানিরঘাট এলাকার কালাম ফরাজী, আনোয়ার বয়াতী ও কবিরুল এবং পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার হরিণটানা গ্রামের মহসিন ও আবদুস সালাম। অপর এক জেলের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

‎জেলে কালাম ফরাজীর স্ত্রী নাজমা বেগম জানান, ১৩ দিন বনদস্যুদের হাতে বন্দি থাকার পর মুক্তিপণ দিয়ে তার স্বামীসহ অন্য জেলেরা শনিবার ভোরে বাড়িতে ফিরেছেন।

‎নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করার শর্তে শরণখোলা বাজারের দুই মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, ২০ এপ্রিল জেলেদের অপহরণের পর বনদস্যুরা মুক্তিপণ দাবি করে আসছিল। কয়েক দফা আলোচনার পর দস্যুদের দাবি অনুযায়ী দেড় লাখ টাকা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। এরপর আজ ভোররাতে দস্যুরা তাদের ছেড়ে দেয়।

‎ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছেন, সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে তাদের আটকে রাখা হয়েছিল। তাদের কাছে থাকা তথ্যমতে, এখনো কয়েকজন মৌয়াল (মধু সংগ্রহকারী) ওই বনদস্যু বাহিনীর হাতে জিম্মি রয়েছেন।

‎এ বিষয়ে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, ‘সুন্দরবনে মুক্তিপণ দিয়ে জেলেদের ফিরে আসার খবর কেউ আমাদের জানায়নি। এমনকি অপহরণের বিষয়েও থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

‎সুন্দরবনের দস্যুদের মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এলেন ছয় জেলে

Update Time : ০৮:৫৬:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

 

‎সুন্দরবনে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত বাগেরহাটের শরণখোলার ছয় জেলে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছেন। শনিবার (২ মে) ভোররাতে তারা নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছান। গত ২০ এপ্রিল পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কোকিলমনি ও চাতরা খাল এলাকা থেকে বনদস্যু ‘শরীফ’ ও ‘নানাভাই’ বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিপণের দাবিতে তাদের অপহরণ করেছিল।

‎ফিরে আসা জেলেরা হলেন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার পানিরঘাট এলাকার কালাম ফরাজী, আনোয়ার বয়াতী ও কবিরুল এবং পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার হরিণটানা গ্রামের মহসিন ও আবদুস সালাম। অপর এক জেলের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

‎জেলে কালাম ফরাজীর স্ত্রী নাজমা বেগম জানান, ১৩ দিন বনদস্যুদের হাতে বন্দি থাকার পর মুক্তিপণ দিয়ে তার স্বামীসহ অন্য জেলেরা শনিবার ভোরে বাড়িতে ফিরেছেন।

‎নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করার শর্তে শরণখোলা বাজারের দুই মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, ২০ এপ্রিল জেলেদের অপহরণের পর বনদস্যুরা মুক্তিপণ দাবি করে আসছিল। কয়েক দফা আলোচনার পর দস্যুদের দাবি অনুযায়ী দেড় লাখ টাকা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। এরপর আজ ভোররাতে দস্যুরা তাদের ছেড়ে দেয়।

‎ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছেন, সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে তাদের আটকে রাখা হয়েছিল। তাদের কাছে থাকা তথ্যমতে, এখনো কয়েকজন মৌয়াল (মধু সংগ্রহকারী) ওই বনদস্যু বাহিনীর হাতে জিম্মি রয়েছেন।

‎এ বিষয়ে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, ‘সুন্দরবনে মুক্তিপণ দিয়ে জেলেদের ফিরে আসার খবর কেউ আমাদের জানায়নি। এমনকি অপহরণের বিষয়েও থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’