০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জলঢাকায় পাম্পে তেলের তীব্র সংকট, খোলাবাজারে চড়া দামে তেল বিক্রি 

ভবদিশচন্দ্র, জলঢাকা ( নীলফামারী) প্রতিনিধি
  • Update Time : ০২:৫২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • / ৬৮ Time View

 

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, পরিবহন চালক এবং কৃষকরা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় সবকটি পাম্পে তেল না থাকায় সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখা হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার মাঝে মধ্যে সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে সকাল থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না।

প্রয়োজনীয় কাজে বের হয়ে মাঝপথে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ছেন শত শত মানুষ। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন গণমাধ্যমকর্মী, পল্লী বিদ্যুৎ কর্মচারী এবং জরুরি সেবা প্রদানকারী পশু চিকিৎসকরা। উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দিজেন্দ্রলাল জানান, পাম্প বন্ধ থাকায় তিনি মোটরসাইকেল ঠেলে টেঙ্গনমারী বাজারে গিয়ে খোলাবাজার থেকে ২ লিটার পেট্রোল ৫০০ টাকায় কিনতে বাধ্য হয়েছেন।

 

এদিকে ডিজেল সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। সেচ মৌসুমে জমিতে পানি তুলতে না পারায় চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনে সেচ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

 

এদিকে সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খোলাবাজারে চড়া দামে তেল বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত দামের তুলনায় লিটারপ্রতি বেশি দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ভোক্তারা। অভিযোগ রয়েছে, পাম্পে তেল না থাকলেও রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে বেশি দামে পেট্রোল ও অকটেন সহজেই পাওয়া যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

 

স্থানীয় একাধিক চালক জানান, “পাম্পে তেল নেই বলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, কিন্তু বাইরে গেলেই বেশি দামে তেল পাওয়া যায়। বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে।”

এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা দ্রুত এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে উপজেলার পাম্প মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে কিসামত বটতলা ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারী জানান, “ডিপো থেকে তেল না আসায় গত সাত দিন ধরে আমাদের এখানে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে সীমিত আকারে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে।”

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, “ফিলিং স্টেশনগুলো নিয়মিত সিসি ক্যামেরার আওতায় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা খোলাবাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, উপজেলার একটি পাম্পে যমুনা কোম্পানি লিমিটেডের তেল গত কয়েকদিন ধরে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং খোলাবাজারে অবৈধ বিক্রি বন্ধে নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

জলঢাকায় পাম্পে তেলের তীব্র সংকট, খোলাবাজারে চড়া দামে তেল বিক্রি 

Update Time : ০২:৫২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

 

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, পরিবহন চালক এবং কৃষকরা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় সবকটি পাম্পে তেল না থাকায় সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখা হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার মাঝে মধ্যে সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে সকাল থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই তেল পাচ্ছেন না।

প্রয়োজনীয় কাজে বের হয়ে মাঝপথে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ছেন শত শত মানুষ। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন গণমাধ্যমকর্মী, পল্লী বিদ্যুৎ কর্মচারী এবং জরুরি সেবা প্রদানকারী পশু চিকিৎসকরা। উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দিজেন্দ্রলাল জানান, পাম্প বন্ধ থাকায় তিনি মোটরসাইকেল ঠেলে টেঙ্গনমারী বাজারে গিয়ে খোলাবাজার থেকে ২ লিটার পেট্রোল ৫০০ টাকায় কিনতে বাধ্য হয়েছেন।

 

এদিকে ডিজেল সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। সেচ মৌসুমে জমিতে পানি তুলতে না পারায় চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনে সেচ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

 

এদিকে সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খোলাবাজারে চড়া দামে তেল বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত দামের তুলনায় লিটারপ্রতি বেশি দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ভোক্তারা। অভিযোগ রয়েছে, পাম্পে তেল না থাকলেও রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে বেশি দামে পেট্রোল ও অকটেন সহজেই পাওয়া যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

 

স্থানীয় একাধিক চালক জানান, “পাম্পে তেল নেই বলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, কিন্তু বাইরে গেলেই বেশি দামে তেল পাওয়া যায়। বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে।”

এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা দ্রুত এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে উপজেলার পাম্প মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে কিসামত বটতলা ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারী জানান, “ডিপো থেকে তেল না আসায় গত সাত দিন ধরে আমাদের এখানে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তবে সীমিত আকারে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে।”

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, “ফিলিং স্টেশনগুলো নিয়মিত সিসি ক্যামেরার আওতায় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা খোলাবাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, উপজেলার একটি পাম্পে যমুনা কোম্পানি লিমিটেডের তেল গত কয়েকদিন ধরে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং খোলাবাজারে অবৈধ বিক্রি বন্ধে নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে।