০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্যামনগরে আওয়ামীলীগ নেতা সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৪:২৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫
  • / ১৭৫ Time View

সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার ৭ নং মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক

দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের মৃত বিশে গাজীর পুত্র, সিরাজুল ইসলামের , দুর্নীতি অনিয়ম ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন । সোমবার( ২১ শে অক্টোবর) বেলা ১১ টায় হরিনগর বাজার মোটরসাইকেল স্ট্যান্ডে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ৭নং মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবুল হোসেন গাজী ,মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মাসিদুর রহমান বাবু,বিশিষ্ট সমাজ সেবক রাজ্জাক সরদার।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,দলীয় পদ পদবী ব্যবহার করে সাতক্ষীরা চার আসনের প্রাক্তন জাতীয় সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দারের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া চাঁদাবাজি এবং অর্থ বাণিজ্যে মেতে ওঠেন।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের মাধ্যমে এমপি কোটায় প্রাপ্ত পানি সংরক্ষণের জন্য সরকারি ট্যাংকি সরকার নির্ধারিত জামানাতের বাইরে কয়েক গুণ বেশি টাকা আদায় করে ও তাদেরকে কোন ট্যাংকি সরবরাহ করেন নাই। দুস্থ অসহায় গৃহহীন পরিবারদের দেওয়ার জন্য সরকারি পাকা ঘর( বিল্ডিং ) এর বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার চুক্তিতে ৪০/৫০ হাজার টাকা হারে প্রায় ১০ থেকে ২০ জনের সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ২৮ নং দক্ষিণ কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি থাকাকালীন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের আশ্বাসে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্বকালিনগর গ্রামের , শ্যাম দুলাল মিস্ত্রীর ছেলে, সোমনাথ মিস্ত্রীর নিকট হইতে তিন লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করে তাকে কোন চাকরি না দিয়ে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেছে।

সাবেক এমপি সাহেবের সার্বিক সহযোগিতায় চুনকুড়ি মোলবাড়ি জামে মসজিদ পূর্ণনির্মাণের জন্য মোটা অংকের অনুদান (বরাদ্দ) পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মসজিদ ফান্ডের ১০ হাজার টাকা লইয়া কোন কাজ না করিয়া উক্ত টাকা আত্মসাৎ করিয়াছে। এছাড়া নিরীহ মানুষদের নাশকতা এবং রাষ্ট্রদ্রোহী সহ বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে আবার তাদেরকে থানা থেকে ফাইনাল রিপোর্ট করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের নিকট থেকে অর্থ আদায় করে আবার তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট করিয়েছে। এলাকায় ব্যবসায়িকদেরকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় ভীতি দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করেছে। চাঁদাবাজির ঘটনায় ভুক্তভোগী দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের- আবুল হোসেনের পুত্র মনিরুল ইসলাম ও হরিনগর গ্রামের নুরুল হক গাজীর ছেলে আকবর গাজী। সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আমলি ৫ নং আদালতে পৃথক পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে যাহা এখনো চলমান আছে।

এছাড়া সিরাজুল ইসলাম নিজেকে প্রভাব খাটিয়ে বন বিভাগের নিকটে অন্যায় ভাবে বিভিন্ন সময় মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারকতা প্রকাশ করলে বন বিভাগের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশের মাধ্যমে তার লালসার শিকার হন বনবিভাবসহ নিরীহ জেলে বাউয়লীরা। (৫ আগস্ট )এর পর এলাকা থেকে পরিবারসহ আত্মগোপনে থাকার পরও মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজের মাধ্যমে তাহার চাঁদাবাজি কার্যক্রম অব্যাহত রাখিয়াছে সে কারণে সরেজমিনে তদন্ত-পূর্বক উক্ত চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী সিরাজুল ইসলামকে গ্রেফতারের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতি পূরনের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভুগী সহ মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলে বাউল ও ইউনিয়নবাসী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামী শ্রমিক বিভাগ মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সভাপতি বাবলুর রহমান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলের সমিতি সাতক্ষীরা জেলার সভাপতি আজিবর রহমান, ব্যবসায়ী আকবর হোসেন, জেলে আব্দুর রউফ, শহীদ শেখ, সাইফুল শেখ, জলিল উদ্দিন মোল্লা প্রমুখ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

শ্যামনগরে আওয়ামীলীগ নেতা সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

Update Time : ০৪:২৮:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ এপ্রিল ২০২৫

সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার ৭ নং মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক

দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের মৃত বিশে গাজীর পুত্র, সিরাজুল ইসলামের , দুর্নীতি অনিয়ম ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন । সোমবার( ২১ শে অক্টোবর) বেলা ১১ টায় হরিনগর বাজার মোটরসাইকেল স্ট্যান্ডে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ৭নং মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবুল হোসেন গাজী ,মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মাসিদুর রহমান বাবু,বিশিষ্ট সমাজ সেবক রাজ্জাক সরদার।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,দলীয় পদ পদবী ব্যবহার করে সাতক্ষীরা চার আসনের প্রাক্তন জাতীয় সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দারের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া চাঁদাবাজি এবং অর্থ বাণিজ্যে মেতে ওঠেন।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের মাধ্যমে এমপি কোটায় প্রাপ্ত পানি সংরক্ষণের জন্য সরকারি ট্যাংকি সরকার নির্ধারিত জামানাতের বাইরে কয়েক গুণ বেশি টাকা আদায় করে ও তাদেরকে কোন ট্যাংকি সরবরাহ করেন নাই। দুস্থ অসহায় গৃহহীন পরিবারদের দেওয়ার জন্য সরকারি পাকা ঘর( বিল্ডিং ) এর বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার চুক্তিতে ৪০/৫০ হাজার টাকা হারে প্রায় ১০ থেকে ২০ জনের সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ২৮ নং দক্ষিণ কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি থাকাকালীন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগের আশ্বাসে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্বকালিনগর গ্রামের , শ্যাম দুলাল মিস্ত্রীর ছেলে, সোমনাথ মিস্ত্রীর নিকট হইতে তিন লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করে তাকে কোন চাকরি না দিয়ে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেছে।

সাবেক এমপি সাহেবের সার্বিক সহযোগিতায় চুনকুড়ি মোলবাড়ি জামে মসজিদ পূর্ণনির্মাণের জন্য মোটা অংকের অনুদান (বরাদ্দ) পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মসজিদ ফান্ডের ১০ হাজার টাকা লইয়া কোন কাজ না করিয়া উক্ত টাকা আত্মসাৎ করিয়াছে। এছাড়া নিরীহ মানুষদের নাশকতা এবং রাষ্ট্রদ্রোহী সহ বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে আবার তাদেরকে থানা থেকে ফাইনাল রিপোর্ট করিয়ে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের নিকট থেকে অর্থ আদায় করে আবার তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট করিয়েছে। এলাকায় ব্যবসায়িকদেরকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় ভীতি দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করেছে। চাঁদাবাজির ঘটনায় ভুক্তভোগী দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের- আবুল হোসেনের পুত্র মনিরুল ইসলাম ও হরিনগর গ্রামের নুরুল হক গাজীর ছেলে আকবর গাজী। সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আমলি ৫ নং আদালতে পৃথক পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে যাহা এখনো চলমান আছে।

এছাড়া সিরাজুল ইসলাম নিজেকে প্রভাব খাটিয়ে বন বিভাগের নিকটে অন্যায় ভাবে বিভিন্ন সময় মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারকতা প্রকাশ করলে বন বিভাগের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশের মাধ্যমে তার লালসার শিকার হন বনবিভাবসহ নিরীহ জেলে বাউয়লীরা। (৫ আগস্ট )এর পর এলাকা থেকে পরিবারসহ আত্মগোপনে থাকার পরও মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজের মাধ্যমে তাহার চাঁদাবাজি কার্যক্রম অব্যাহত রাখিয়াছে সে কারণে সরেজমিনে তদন্ত-পূর্বক উক্ত চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী সিরাজুল ইসলামকে গ্রেফতারের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতি পূরনের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভুগী সহ মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলে বাউল ও ইউনিয়নবাসী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামী শ্রমিক বিভাগ মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সভাপতি বাবলুর রহমান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলের সমিতি সাতক্ষীরা জেলার সভাপতি আজিবর রহমান, ব্যবসায়ী আকবর হোসেন, জেলে আব্দুর রউফ, শহীদ শেখ, সাইফুল শেখ, জলিল উদ্দিন মোল্লা প্রমুখ।