০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফকিরহাটের সাবেক ওসি সহ ১০ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

মোঃ ইকরামুল হক রাজিব বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৭:৪৮:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫
  • / ৬৩৬ Time View

খুলনার তেরখাদা থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরদার মোশাররফ হোসেনসহ ১০ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (২৫ জুন) খুলনার তেরখাদা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম মোস্তফা ভুট্টো খুলনা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম জানান, আদালতের বিচারক মো. নাজমুল কবির মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় আরও যেসব পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে তারা হলেন: তৎকালীন ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর কবির, সেকেন্ড অফিসার আব্দুল কাইয়ুম, এসআই চঞ্চল কুমার হালদার, এসআই রুবেল, এসআই এনামুল, এসআই প্রতাপ, এসআই অলিফ ঘোষ, এসআই মোহাম্মদ শাহিন কাদির ও এসআই বিশ্বজিৎ মিত্র। বর্তমানে প্রধান আসামি সরদার মোশাররফ হোসেন খুলনার পুলিশ ক্রাইম শাখায় কর্মরত রয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিগত সরকারের আমলে বিএনপি-জামায়াতপন্থী নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে, গ্রেপ্তার ও ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে এসব পুলিশ কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করতেন। বাদী মোস্তফা ভুট্টো দাবি করেন, ২০২৩ সালের ২০ জুন থানায় ডেকে নিয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং অস্বীকৃতি জানালে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়। আবার ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই দোকান থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। এক লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করার পরও তাকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলুর বাবা—যিনি ১১ বছর আগে মারা গেছেন—তাকেও একটি মামলায় আসামি করা হয়েছিল।

বাদী মোস্তফা ভুট্টো বলেন, “তৎকালীন সময়ে মামলা করার পরিবেশ ছিল না। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আশা করি ন্যায়বিচার পাবো।”

উল্লেখ্য, ওসি মোশাররফ হোসেন এর আগে খুলনার রূপসা থানায় কর্মরত ছিলেন। সে সময় তিনি স্থানীয় সাবেক এমপি আব্দুস সালাম মূর্শেদীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রূপসায় তার বিরুদ্ধে জমি দখল, সালিশ বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ থাকলেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং এমপির আশীর্বাদে তিনি একাধিকবার “শ্রেষ্ঠ ওসি” হিসেবে পুরস্কৃত হন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ফকিরহাটের সাবেক ওসি সহ ১০ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

Update Time : ০৭:৪৮:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫

খুলনার তেরখাদা থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরদার মোশাররফ হোসেনসহ ১০ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (২৫ জুন) খুলনার তেরখাদা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম মোস্তফা ভুট্টো খুলনা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম জানান, আদালতের বিচারক মো. নাজমুল কবির মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় আরও যেসব পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে তারা হলেন: তৎকালীন ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর কবির, সেকেন্ড অফিসার আব্দুল কাইয়ুম, এসআই চঞ্চল কুমার হালদার, এসআই রুবেল, এসআই এনামুল, এসআই প্রতাপ, এসআই অলিফ ঘোষ, এসআই মোহাম্মদ শাহিন কাদির ও এসআই বিশ্বজিৎ মিত্র। বর্তমানে প্রধান আসামি সরদার মোশাররফ হোসেন খুলনার পুলিশ ক্রাইম শাখায় কর্মরত রয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিগত সরকারের আমলে বিএনপি-জামায়াতপন্থী নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে, গ্রেপ্তার ও ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে এসব পুলিশ কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করতেন। বাদী মোস্তফা ভুট্টো দাবি করেন, ২০২৩ সালের ২০ জুন থানায় ডেকে নিয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং অস্বীকৃতি জানালে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়। আবার ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই দোকান থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। এক লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করার পরও তাকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলুর বাবা—যিনি ১১ বছর আগে মারা গেছেন—তাকেও একটি মামলায় আসামি করা হয়েছিল।

বাদী মোস্তফা ভুট্টো বলেন, “তৎকালীন সময়ে মামলা করার পরিবেশ ছিল না। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আশা করি ন্যায়বিচার পাবো।”

উল্লেখ্য, ওসি মোশাররফ হোসেন এর আগে খুলনার রূপসা থানায় কর্মরত ছিলেন। সে সময় তিনি স্থানীয় সাবেক এমপি আব্দুস সালাম মূর্শেদীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রূপসায় তার বিরুদ্ধে জমি দখল, সালিশ বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ থাকলেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং এমপির আশীর্বাদে তিনি একাধিকবার “শ্রেষ্ঠ ওসি” হিসেবে পুরস্কৃত হন।