শ্যামনগরে জমি দখল ও জোরপূর্বক খাল খননের অভিযোগ, লবণাক্ত পানির ব্যবসায় কৃষকের ক্ষতি
- Update Time : ১১:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫
- / ২০১ Time View

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তির উপর দিয়ে জোরপূর্বক লবণাক্ত পানির খাল খনন ও সুইচগেট নির্মাণ করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন একাধিক কৃষক।
সরজমিন অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগী আব্দুর রশিদের ভাষ্যমতে, শ্যামনগরের অটুলিয়া ইউনিয়নের সাপেরদুনী এলাকায় হাজী কোরবান গাজীর ছেলে—নাসির গাজী, খাইরুল গাজী, নওশের গাজী ও নাজিম গাজীসহ একটি চক্র কয়েক বছর ধরে প্রায় ৪–৫০০ বিঘা ফসলি জমি নষ্ট করে লবণাক্ত পানি সরবরাহ করে চিংড়ি চাষের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য প্রতি বিঘা জমির মালিকদের কাছ থেকে আদায় করা হয় ৪০০–৬০০ টাকা।
সাপেরদুনী খালে পানির চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে চক্রটির নজর পড়ে আব্দুর রশিদের জমির উপর। পরবর্তীতে ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালে বাবুর সহায়তায় তার পৈতৃক এবং নিজের মালিকানাধীন বসত ভিটার উপর দিয়ে, গাছ গাছালি কেটে জমিতে জোরপূর্বক খাল খনন ও সুইচগেট নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগ তার।
আব্দুর রশিদ জানান, “দীর্ঘদিন ধরে জমি দখলের চেষ্টা করছে এই কুচক্রী মহলটি। আমি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রতিবাদ করায় তাদের লোকজন আমার উপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার পুকুরের দুই–তিন লাখ টাকার মাছ ও প্রায় পাঁচ লাখ টাকার গাছ নষ্ট করেছে। লবণ পানির ড্রেন ব্যবসা চালাতে আমার জমির উপর দিয়েই খাল কেটে সুইচগেট নির্মাণ করেছে তারা। আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি।”
স্থানীয়দের মতে, আটুলিয়ার মালিবাড়ি গ্রামে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। এলাকাবাসী ও মাছচাষীদের সুবিধার জন্য কারিতাস এনজিও খোলসাখালি খালের উপর একটি সুইচগেট নির্মাণ করে, যেখান থেকে পানি সরবরাহ হতো/ শত শত বিঘা ঘেরে। কিন্তু নাসির গাজী ও তার সহযোগীরা সরকারি খালটি দখল করে তা ব্যক্তিগত ঘেরে পরিণত করে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেন। ভুক্তভোগীরা একাধিকবার অভিযোগ করলেও ইউপি চেয়ারম্যান বাবু ও সাবেক এমপি আতাউল হক দোলনের ছত্রছায়ায় কোনো প্রতিকার মেলেনি। শেষমেশ ওই লবণাক্ত পানি সরবরাহের উদ্দেশ্যে আব্দুর রশিদের জমির উপর দিয়েই জোরপূর্বক খাল খনন ও সুইচগেট নির্মাণ করা হয়।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালে বাবু বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে ঘটনাস্থলে গিয়েছি, চিংড়ি চাষীদের সুবিধার জন্যই খাল খনন করা হয়েছে।”
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির জানান, “ভুক্তভোগী সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
(পরবর্তী পর্বে থাকছে: স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ও লবণাক্ত পানির প্রভাব)




















