বাঁচার শেষ সুযোগ, বিমানের শব্দে আকাশ যেন কেঁপে উঠেছিল হঠাৎ
- Update Time : ০৬:১১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জুন ২০২৫
- / ৩৬৩ Time View

আশা মনি
আকাশ যেন কেঁপে উঠেছিল হঠাৎ। বিমানের ভেতর শব্দ করছিল কিছু একটা—অস্বাভাবিক, অশনি সংকেতময়। যাত্রীরা সবাই তখনও বসে, কেউ আতঙ্কে মুখ চেপে ধরেছে, কেউ প্রার্থনায়। ১১এ নম্বর সিটে বসা রমেশ শুধু বসে ছিলেন না—তিনি বুঝে গিয়েছিলেন, সময় খুব কম। পেছনে তাকালে হয়তো দেখা যেত জীবনের সমস্ত স্মৃতি, সামনে কেবল একটাই রাস্তা—মরণ কিংবা বাঁচার ঝুঁকি।
বিমানটি দ্রুত নিচে নামছিল। তীব্র গতি, কানের পর্দা ফাটিয়ে দেওয়ার মতো শব্দ, আর ভেতরের ভয়ের বাতাস—সব মিলিয়ে রমেশ বুঝে গিয়েছিলেন, এটা স্বাভাবিক অবতরণ নয়। এটা মৃত্যু নামক অজানা গন্তব্যের দিকে ছুটে চলা এক প্রলয়যাত্রা।
কিন্তু রমেশ সবার মতো ছিলেন না। তার সিটের পাশেই ছিল বিমানের জরুরি নির্গমন দরজা। সাধারণ অবস্থায় এই দরজা খোলা সম্ভব নয়। কারণ মাঝ আকাশে বিমানের ভিতরের ও বাইরের এয়ার প্রেসারের পার্থক্য একে তালাবদ্ধ করে রাখে। কিন্তু এখন? এখন তো বিমান অনেক নিচুতে—মাটি প্রায় ছোঁয়া যাচ্ছে! মনে হলো যেন প্রেসারের ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।
তিনি আর দেরি করেননি। মনের সব ভয় দূরে ঠেলে দিয়ে দরজার লক খুলে ফেললেন। হয়তো ভাগ্যই দরজাটি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এক মুহূর্তের সিদ্ধান্তে, তিনি দরজা ঠেলে খুলে দিলেন, আর সেখান থেকে ঝাঁপ দিলেন নিচে—জীবনের দিকে, জীবনের জন্য।
বিমান তখনও তীব্র গতিতে নিচে নামছিল। রমেশ পড়লেন, হয়তো আঘাত পেয়েছিলেন, হয়তো মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর কিছু সময় জ্ঞান হারিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বেঁচে ছিলেন। চারপাশে তখন শুধু ধ্বংসস্তূপের গন্ধ, দূরে ধোঁয়ার কুন্ডলি, আর বিমানের ধ্বংসস্তুপ।
আর বেঁচে ছিল একটাই নাম—রমেশ।
এই ঝাঁপই হয়তো তার বেঁচে থাকার একমাত্র রাস্তা ছিল। সাহস, বুদ্ধি আর ভাগ্যের এক দুর্লভ মিশেলই তাকে ফিরিয়ে দিল জীবনের বুকে।
একজন সাধারণ মানুষ হয়ে উঠলেন অসাধারণ এক গল্পের নায়ক।




















