১১:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি ডেপুটি জেলারসহ ৮ কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত।

রিপোট মো:নওশাদ ভুইয়া
  • Update Time : ০২:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৮৮ Time View

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে নজিরবিহীন এক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ মামলার এক আসামির জামিনের কাগজপত্র ব্যবহার করে কারাগার থেকে পালিয়ে গেছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক দুর্ধর্ষ আসামি। এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও গাফিলতির দায়ে একজন ডেপুটি জেলারসহ ৮ জন কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ: কারা সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন আগে একটি সাধারণ মামলার আসামির জামিননামা কারাগারে পৌঁছায়। সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ওই আসামির নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কারামুক্ত হয়ে বেরিয়ে যায়। কারাগারের গেটে সাধারণত মুক্তির আগে আসামির ছবি ও আঙুলের ছাপ (Biometrics) যাচাই করার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে তা করা হয়নি অথবা কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর গণনা এবং নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

প্রশাসনিক ব্যবস্থা: ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় কারা অধিদপ্তর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে। দায়িত্ব অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় ডেপুটি জেলার (নাম পাওয়া গেলে যুক্ত করবেন) এবং আরও সাতজন কারারক্ষীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির বক্তব্য: তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, “এটি কেবল গাফিলতি নয়, এর পেছনে কোনো অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ বা বড় ধরনের সিন্ডিকেট আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির এভাবে বের হয়ে যাওয়া জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি।”

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ: এই ঘটনার পর সারা দেশের কারাগারগুলোতে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারাগারের ডিজিটাল ডাটাবেজ এবং ভেরিফিকেশন সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করলে এ ধরনের জালিয়াতি অসম্ভব ছিল।

বর্তমানে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি ডেপুটি জেলারসহ ৮ কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত।

Update Time : ০২:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে নজিরবিহীন এক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ মামলার এক আসামির জামিনের কাগজপত্র ব্যবহার করে কারাগার থেকে পালিয়ে গেছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক দুর্ধর্ষ আসামি। এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও গাফিলতির দায়ে একজন ডেপুটি জেলারসহ ৮ জন কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ: কারা সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন আগে একটি সাধারণ মামলার আসামির জামিননামা কারাগারে পৌঁছায়। সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ওই আসামির নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কারামুক্ত হয়ে বেরিয়ে যায়। কারাগারের গেটে সাধারণত মুক্তির আগে আসামির ছবি ও আঙুলের ছাপ (Biometrics) যাচাই করার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে তা করা হয়নি অথবা কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর গণনা এবং নথিপত্র যাচাই করতে গিয়ে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

প্রশাসনিক ব্যবস্থা: ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনায় কারা অধিদপ্তর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে। দায়িত্ব অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় ডেপুটি জেলার (নাম পাওয়া গেলে যুক্ত করবেন) এবং আরও সাতজন কারারক্ষীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির বক্তব্য: তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, “এটি কেবল গাফিলতি নয়, এর পেছনে কোনো অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ বা বড় ধরনের সিন্ডিকেট আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির এভাবে বের হয়ে যাওয়া জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি।”

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ: এই ঘটনার পর সারা দেশের কারাগারগুলোতে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারাগারের ডিজিটাল ডাটাবেজ এবং ভেরিফিকেশন সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করলে এ ধরনের জালিয়াতি অসম্ভব ছিল।

বর্তমানে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।