এক বুক হাহাকার মুছে এবার ফুটলো হাসি: ৩ প্রতিবন্ধী ভাই-বোনের পাশে দেবদূত হয়ে দাঁড়ালেন ইউএনও
- Update Time : ০২:৩৭:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
- / ৩৫ Time View

নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে একই পরিবারের তিন ভাই-বোন জন্ম থেকেই শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে এই তিন সন্তানের চিকিৎসা ও ভরণপোষণ চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত এক বুক হাহাকার নিয়ে দিন কাটছিল অসহায় পরিবারের । অবশেষে সেই অন্ধকারের মেঘ কেটে অবুঝ এই ভাই-বোনদের মুখে ফুটলো অনাবিল হাসি। দেবদূত হয়ে এই অসহায় পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: বায়েজীদ-বিন-আখন্দ।
সূত্রে জানা যায়, শিফা আক্তার, পিতা-শাহ আলম, চুনতি, ৭নং ওয়ার্ডের সাতগড় গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা উপজেলা নির্বাহী বরাবর একটি আর্থিক সহয়তার আবেদন করে। এতে তিনি ( শিফা আক্তার) উল্লেখ করেন আমি অত্যন্ত হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় আমি, আমার বাবা ও আমার ৩ ভাই-বোনই প্রতিবন্ধী। আমার মা ১ পূর্বে মারা যায়। এপর্যন্ত আমরা আত্মীয় স্বজনের সহায়তায় দিনাতিপাত করে আসছি। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, এ পর্যন্ত আমি ও আমার কোন ভাই-বোনই সরকারিভাবে কোন প্রতিবন্ধী ভাতা বা কোনরূপ সহায়তা পাইনি। এমতাবস্থায় আমাদের ভবিষ্যৎ চিকিৎসা ও জীবন-যাপনের জন্য সরকারিভাবে সহযোগিতা প্রয়োজন।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেন লোহাগাড়ার মানবিক ইউএনও মো: বায়েজীদ-বিন-আখন্দ। তিনি আজ ওই অসহায় প্রতিবন্ধী ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়ায় । এ সময় তিনি তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে, ৪জুন ( বৃহস্পতিবার) ওই পরিবারের জন্য ১০ হাজার টাকার একটি প্রদান করা হয় । একই সাথে তাদের স্থায়ী পুনর্বাসনের লক্ষে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দ্রুত সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন ইউএনও।
সহায়তা পেয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে প্রতিবন্ধী পরিবার বলেন, টাকার অভাবে ভালো খাবার খেতে পারতাম না। রাতে ঘুমাতে পারতাম না কষ্টের কথা চিন্তা করে। আজ ইউএনও স্যার যেভাবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, তা কখনো ভুলব না। আল্লাহ উনার মঙ্গল করুন।
এই মানবিক উদ্যোগ প্রসঙ্গে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, একই পরিবারে তিনটি সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়া অত্যন্ত কষ্টদায়ক। এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের তাৎক্ষণিক খাদ্য ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই তিন ভাই-বোনের যেকোনো প্রয়োজনে এবং তাদের পরিবারের স্থায়ী চিকিৎসার্থে প্রশাসন সবসময় পাশে থাকবে।
প্রশাসনের এই অনন্য ও মানবিক কর্মকাণ্ডে পুরো লোহাগাড়া জুড়ে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের এমন মানবিক ও জনবান্ধব রূপ সমাজের অন্য বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে।















