১১:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জে ৩১০ শতাংশ জমি জবরদখলের অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : ০৯:৫৪:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২০ Time View

 

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার হাওরে সাফ-কবলা দলিলমূলে কেনা ৩১০ শতাংশ জমি জবরদখল করে রাখার অভিযোগ করেছেন করিমগঞ্জের কৃষক মো. মাসুদুর রহমান। এ ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশের এক সদস্য ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জমির দলিল ফেরত নিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই কৃষক।

 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের স্টেশন রোড এলাকার সুফিয়া ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মাসুদুর রহমান।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ইটনা উপজেলার বেতেগা গ্রামের বাসিন্দা বীরমুক্তিযোদ্ধা নিহার রঞ্জন ঘোষ ও একজন মহিলার কাছ থেকে ২/৩ টি দাগে আইনানুগভাবে সর্বমোট ৩১০ শতাংশ জমি কেনেন তাঁর দাদা ও পিতা। জমি কেনার পর প্রয়োজনীয় খাজনা ও নামজারি সম্পন্ন করে তাঁরা জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন।

 

মাসুদুর রহমানের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে নিহার রঞ্জন ঘোষ ও তাঁর ছেলে বিপুল রঞ্জন ঘোষ জমিটি পুনরায় দখলে রাখেন। বিপুল রঞ্জন ঘোষ বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, পুলিশের পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে তাঁকে জমি ছেড়ে দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি জমির দলিল ফেরত নিতে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে মাসুদুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, ইটনার এরশাদ নগরের মোঃ জাকির হোসেন নামে জনৈক ব্যক্তি বিপুলের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে তার দলবল নিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দেয়। যে এবছর জমিতে গেলে আমাদের হত্যা করবে। মেরে হাড়গোড় ভেঙ্গে দেবে।

জমিতে গেলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আসন্ন কৃষি মৌসুমে জমিতে যেতে না পারার আশঙ্কায় তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

 

তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তাঁদের সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে কর্মরত হওয়ার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন সাধারণ নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

 

সংবাদ সম্মেলন থেকে জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত, জমি নিয়ে বিরোধের আইনানুগ নিষ্পত্তি, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশ সদস্য বিপুল রঞ্জন ঘোষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান মাসুদুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে এ মাসুদুর রহমানের পিতা রুক্কু মিয়া ও ছোটভাই উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কিশোরগঞ্জে ৩১০ শতাংশ জমি জবরদখলের অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

Update Time : ০৯:৫৪:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

 

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার হাওরে সাফ-কবলা দলিলমূলে কেনা ৩১০ শতাংশ জমি জবরদখল করে রাখার অভিযোগ করেছেন করিমগঞ্জের কৃষক মো. মাসুদুর রহমান। এ ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশের এক সদস্য ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জমির দলিল ফেরত নিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই কৃষক।

 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের স্টেশন রোড এলাকার সুফিয়া ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মাসুদুর রহমান।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ইটনা উপজেলার বেতেগা গ্রামের বাসিন্দা বীরমুক্তিযোদ্ধা নিহার রঞ্জন ঘোষ ও একজন মহিলার কাছ থেকে ২/৩ টি দাগে আইনানুগভাবে সর্বমোট ৩১০ শতাংশ জমি কেনেন তাঁর দাদা ও পিতা। জমি কেনার পর প্রয়োজনীয় খাজনা ও নামজারি সম্পন্ন করে তাঁরা জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন।

 

মাসুদুর রহমানের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে নিহার রঞ্জন ঘোষ ও তাঁর ছেলে বিপুল রঞ্জন ঘোষ জমিটি পুনরায় দখলে রাখেন। বিপুল রঞ্জন ঘোষ বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, পুলিশের পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে তাঁকে জমি ছেড়ে দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি জমির দলিল ফেরত নিতে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে মাসুদুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, ইটনার এরশাদ নগরের মোঃ জাকির হোসেন নামে জনৈক ব্যক্তি বিপুলের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে তার দলবল নিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দেয়। যে এবছর জমিতে গেলে আমাদের হত্যা করবে। মেরে হাড়গোড় ভেঙ্গে দেবে।

জমিতে গেলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আসন্ন কৃষি মৌসুমে জমিতে যেতে না পারার আশঙ্কায় তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

 

তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তাঁদের সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে কর্মরত হওয়ার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন সাধারণ নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

 

সংবাদ সম্মেলন থেকে জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত, জমি নিয়ে বিরোধের আইনানুগ নিষ্পত্তি, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশ সদস্য বিপুল রঞ্জন ঘোষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান মাসুদুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে এ মাসুদুর রহমানের পিতা রুক্কু মিয়া ও ছোটভাই উপস্থিত ছিলেন।