১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যালয় সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

দিদারুল হৃদয়ঃ গুইমারা প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৮:১৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • / ১০২ Time View

 

খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়নের অধীনস্থ সিন্দুকছড়ি জোন।

এই উদ্যোগের আওতায় উপজেলার দক্ষিণ হাফছড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বিদ্যালয় ভবনটি সিন্দুকছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে পুনঃসংস্কার করা হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও মনোরম পরিবেশে পাঠদানের সুবিধার্থে বিদ্যালয়ে একটি নতুন বারান্দাও নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা এখন আরও উন্নত ও উপযোগী পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করতে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হয়, যা তাদের শিক্ষাজীবনে নতুন উদ্দীপনা যোগাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

বিদ্যালয় সংস্কার ও শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসমাইল সামস আজিজি, পিএসসি, জি, জোন কমান্ডার, সিন্দুকছড়ি জোন। তিনি নবনির্মিত স্থাপনার উদ্বোধন করেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিয়মিত অধ্যয়ন, নৈতিক শিক্ষা অর্জন এবং দেশ গঠনে যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “শিক্ষাই জাতির উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। শিক্ষার মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ, উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ জনকল্যাণমূলক ও মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সিন্দুকছড়ি জোনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় জনগণ আশা প্রকাশ করেন, পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের ইতিবাচক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যালয় সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

Update Time : ০৮:১৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

 

খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়নের অধীনস্থ সিন্দুকছড়ি জোন।

এই উদ্যোগের আওতায় উপজেলার দক্ষিণ হাফছড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বিদ্যালয় ভবনটি সিন্দুকছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে পুনঃসংস্কার করা হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও মনোরম পরিবেশে পাঠদানের সুবিধার্থে বিদ্যালয়ে একটি নতুন বারান্দাও নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা এখন আরও উন্নত ও উপযোগী পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করতে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হয়, যা তাদের শিক্ষাজীবনে নতুন উদ্দীপনা যোগাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

বিদ্যালয় সংস্কার ও শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসমাইল সামস আজিজি, পিএসসি, জি, জোন কমান্ডার, সিন্দুকছড়ি জোন। তিনি নবনির্মিত স্থাপনার উদ্বোধন করেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিয়মিত অধ্যয়ন, নৈতিক শিক্ষা অর্জন এবং দেশ গঠনে যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “শিক্ষাই জাতির উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। শিক্ষার মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ, উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ জনকল্যাণমূলক ও মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সিন্দুকছড়ি জোনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় জনগণ আশা প্রকাশ করেন, পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের ইতিবাচক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।