ঝিকরগাছা উপজেলায় স্কুল ফিডিং অনিয়ম বিরুদ্ধে শিক্ষা অফিসারের একাধিক প্রতিবেদন
- Update Time : ০৮:২৬:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
- / ২০ Time View

ঝিকরগাছা উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচী বাস্তাবায়নকারী এনজিও সুশীলনের বিভিন্ন অনিয়ম বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর একের পর এক পর লিখিত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিসারের পক্ষ থেকে এনজিও কর্তৃপক্ষকে বলা হলেও তারা কোন কর্ণপাত করছেন না।
এনজিও সুশীলনের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে
চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল, ২১ মে ও ৩০ জুলাই জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর ঝিকরগাছা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ ওয়ালীয়ার রহমান স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে সুত্রে জানাগেছে,
উপজেলার ১৩১ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরবরাহকরা কলা ও ডিমের নির্ধারিত ওজন না থাকা, নির্ধারিত সময়ের কয়েকদিন আগেই খাদ্যসামগ্রী বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া এবং নিম্নমানের পাউরুটি সরবরাহের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল, ২১ মে ও ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে দেওয়া পৃথক চিঠিগুলোতে এসব অভিযোগ ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য তুলে ধরা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ঝিকরগাছা উপজেলার ১৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের কলা, ডিম ও পাউরুটি সরবরাহ করছেন এনজিও সুশীলন। কর্মসূচি শুরু থেকেই খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ ও বিতরণে বিভিন্ন অনিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছে।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা প্যাকেটের গায়ে মেয়াদ উল্লেখ থাকলেও কোনো কোনো প্যাকেটের পাউরুটি নিম্নমানের, রং পরিবর্তিত ও দুর্গন্ধযুক্ত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৫ জুলাই ঝিকরগাছার একটি বিদ্যালয়ে এমন ঘটনার কথা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও প্রমাণও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকারি বিধি অনুযায়ী সরবরাহ করা প্রতিটি কলার ওজন ১০০ গ্রাম হওয়ার কথা। কিন্তু বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা কলার ওজন মাত্র ৬০ থেকে ৭০ গ্রামের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি নির্ধারিত তারিখের বিতরণের দিনের ৩/৪ দিন আগেই অধিকাংশ বিদ্যালয়ে কলা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এতে কলা নষ্ট হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া ডিম সরবরাহের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত মান ও আকার বজায় না রাখার অভিযোগ উঠেছে। চিঠিতে বলা হয়, অনেক বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা ডিমের মান ও আকার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্যসামগ্রী বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনাতেও অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।
একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হলেও অভিযোগের প্রতিকারে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। এমনকি এখনো পর্যন্ত সরবরাহ করা কলা, ডিম, পাউরুটির মান নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
চিঠিগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাদ্যসামগ্রীর মান নিশ্চিত করা, নির্ধারিত ওজন ও মান বজায় রাখা এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
জানতে চাইলে, ঝিকরগাছা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ওয়ালীয়ার রহমান বলেন, নষ্ট ও আকারে ছোট কলা ও ডিম, মেয়াদ উত্তীর্ণ পাউরুটিসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে তার পক্ষ থেকে লিখিত ভাবে জেলায় জানানো হয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিসারসহ তিনি কয়েকদফা এনজিও সুশীলন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হলেও তারা কর্ণপাত করছেন না।
এ বিষয়ে এনজিও সুশীলনের প্রতিনিধি জাবেদ আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।









