শালিখায় সমবায় অধিদপ্তরের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ
- Update Time : ০৩:৪৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৬৬ Time View

শালিখায় সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধিত “শিক্ষক কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড” নামে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আমানতকারীদের সঞ্চিত প্রায় দেড় কোটি টাকা তসরুপের অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান শালিখা উপজেলার শ্রীহট্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাহারুল ইসলাম ক্রেডিট ইউনিয়নের একাউন্ট থেকে মোট ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫ হাজার টাকা সরিয়ে উপজেলার জুনারি, হাজরাহাটি ও আড়পাড়া এলাকার এক একর ৯৯ শতাংশ জমি নিজ নামে খরিদ করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা গেছে, শিক্ষক কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড নামের এ আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ সাল থেকে জেলার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া বাজারে কার্যক্রম শুরু করে। সমবায় অধিপ্তরের নিবন্ধন সাপেক্ষে তারা সদস্য সংগ্রহ করে জামানত তৈরি এবং ঋণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। বর্তমানে এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটিতে ৫শত ৪৬ জন আমানতকারী রয়েছে। ইতোমধ্যে যাদের সঞ্চিত তহবিলের পরিমান প্রায় ৬ কোটি টাকা।
ক্রেডিট ইউনিয়নের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটিতে ৬ সদস্যের একটি পরিচালনা কমিটি থাকলেও চেয়ারম্যান বাহারুল ইসলাম একক উদ্যোগে গত বছরের ২৩ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৬ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের শালিখা শাখায় ক্রেডিট ইউনিয়নের দুটি হিসাব থেকে পাঁচ কিস্তিতে মোট ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫ হাজার টাকা ৫ জন ব্যক্তির হিসাব শাখায় স্থানান্তর করেছেন। বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে এক একর ৯৯ শতাংশ জমি নিজ নামে খরিদ করেছেন। আবার সমুদয় জমির বিপরীতে নিজ নামে অপ্রত্যাহারযোগ্য আম মোক্তারনামা দলির সম্পাদন করে নেওয়ায় ওই দলিলে জমির প্রকৃত মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। এমনিভাবে ক্রেডিট ইউনিয়নটির আমানতকারীদের অর্থ আত্মসাথের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
শালিখা উপজেলা শিক্ষক কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের আমানতকারীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধিত এবং শিক্ষকদের সংগঠন হওয়ায় বিশ্বাস করে এখানে সদস্য হয়ে অনেকেই নিজেদের অর্থ গচ্ছিত রেখেছেন। কিন্তু পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আমানতকারীদের অর্থ দিয়ে নিজ নামে সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। এতে করে সঞ্চিত অর্থ ফেরত না পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।
পরিচালনা কমিটির সদস্য আড়পাড়া মহিলা কলেজের ডেমোনেস্টেটর সিরাজুল ইসলাম জানান, এ বছরের শুরুতে বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রতিষ্ঠানটির তহবিলে সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু জমি ক্রয়ের বিষয়ে সমবায় অধিদপ্তরের অনুমোদন না থাকার পরও জমি ক্রয় এবং ব্যক্তি বিশেষের নামে আমমোক্তার নামা তৈরি করে আইনের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শালিখা শিক্ষক কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বাহারুল ইসলাম বলেন, আমানতকারীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের জন্যে জমি ক্রয় করা হয়েছে। তবে আমি মাস্টারি করি, নিয়ম কানুন ভালো জানি না। ক্রেডিট ইউনিয়নের মাগুরা জেলা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক সাহাজুল ইসলামের সাথে পরামর্শ করেই জমি কেনা হয়েছে। জমি নিজ নামে কেনা হলেও কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই।
তবে কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড মাগুরা জেলা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. শাহাজুল হক তার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে মাগুরা জেলা সমবায় কার্যালয়ের উপ-সহকারী নিবন্ধক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমানতকারীদের অর্থ দিয়ে জমি ক্রয় এখতিয়ার বহির্ভূত এবং অনিয়ম। এছাড়া নিজ নামে জমি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত অপরাধ হিসেবেই গণ্য হয়। তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হলে সমবায় আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















