ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিসিকে অনিয়ম: নিম্নমানের ইটে কাজ, আড়ালে দুর্নীতির অভিযোগ
- Update Time : ০৭:১৪:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
- / ৯৬ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) জেলা কার্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে নজিরবিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি শিডিউলকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রথম শ্রেণির ইটের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ২ নম্বর ইট। আর এসব অনিয়ম ধামাচাপা দিতে রাতের আঁধারে তড়িঘড়ি করে দেয়াল প্লাস্টার (আস্তর) করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে তদন্তে জানা গেছে, বিসিকের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে গুণগত মান বজায় না রেখেই কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। দেখা যায়, দেয়াল তৈরিতে যে ইট ব্যবহার করা হচ্ছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের এবং ভঙ্গুর। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাংবাদিকদের আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে অনিয়মের প্রমাণ মুছতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি দিনরাত কাজ করে তড়িঘড়ি করে প্লাস্টার করে ফেলছে।
এই প্রকাশ্য দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিক কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক মোঃ রুকনউদ্দিন ভূইয়া দায়সারাভাবে বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, “আমাদের জানামতে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।” অথচ তার এই বক্তব্যের ঠিক উল্টো চিত্র ফুটে উঠেছে খোদ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বীকারোক্তিতে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সোহান সাংবাদিকদের কাছে অন্তত এক হাজার নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। তবে অবশিষ্ট নিম্নমানের ইটগুলো ফেরত দেওয়ার দায়সারা প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সরকারি বরাদ্দের এমন হরিলুট এবং বিসিক কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই কাজের মান তদন্ত করে দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় সরকারি অর্থের এই অপচয় ও নিম্নমানের কাজ বন্ধ হবে না।
























