১২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছায় পিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ উঠেছে

মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৭:৫৫:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / ২৮ Time View

 

খুলনার পাইকগাছায় প্রসাব করাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মারধরের ঘটনায় হাসান (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পুলিশের উপস্থিতিতেই তাকে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী গরুর হাট সংলগ্ন চাঁদখালী গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে হাসানের একটি বেড়াবিহীন গোলপাতার ঘর রয়েছে। রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গরুর হাট চলাকালে কালিদাসপুর গ্রামের খালেক গাজীর ছেলে কুদ্দুস ওই ঘরের পাশে প্রসাব করতে বসেন। এ সময় হাসান তাকে বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, পরে কুদ্দুস মোবাইল ফোনে নাজমুল হাসান মিন্টু, আজহারুল, জহিরুল, জাহাঙ্গীর, মনিরুল, কবির, খায়রুল খোকন হাজীসহ আরও কয়েকজনকে ডেকে আনেন। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে হাসানের ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা হাসানকে দড়ি দিয়ে বেঁধে দীর্ঘ সময় ধরে মারধর করে।

এ সময় পাইকগাছা থানার এসআই মঞ্জুর সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেও মারধর অব্যাহত থাকে।

গুরুতর আহত অবস্থায় রাত প্রায় ৮টার দিকে হাসানকে স্থানীয়ভাবে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করে। পরে এসআই আজিজ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।

সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের স্ত্রী তাসলিমার সঙ্গে কথা হলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, “রবিবার বিকেলে আমি ও আমার স্বামী বাজারের ঘরে বসে কথা বলছিলাম। এ সময় কুদ্দুস ঘরের পাশে প্রসাব করতে বসলে আমার স্বামী তাকে বাধা দেন। পরে কুদ্দুস মোবাইলে লোকজন ডেকে এনে আমার স্বামীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে পুলিশের উপস্থিতিতেই পিটিয়ে হত্যা করে।” এবিষয়ে এস আই মঞ্জুরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি সন্ধার পর চাঁদ খালী বাজারে যায় বলে বলেন আমার কিছু বলা বিধি সম্মত না,তাই ওসি সারের কাছ মন্তব্য নেন।

এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্নের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

পাইকগাছায় পিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ উঠেছে

Update Time : ০৭:৫৫:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

 

খুলনার পাইকগাছায় প্রসাব করাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মারধরের ঘটনায় হাসান (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পুলিশের উপস্থিতিতেই তাকে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী গরুর হাট সংলগ্ন চাঁদখালী গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে হাসানের একটি বেড়াবিহীন গোলপাতার ঘর রয়েছে। রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গরুর হাট চলাকালে কালিদাসপুর গ্রামের খালেক গাজীর ছেলে কুদ্দুস ওই ঘরের পাশে প্রসাব করতে বসেন। এ সময় হাসান তাকে বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, পরে কুদ্দুস মোবাইল ফোনে নাজমুল হাসান মিন্টু, আজহারুল, জহিরুল, জাহাঙ্গীর, মনিরুল, কবির, খায়রুল খোকন হাজীসহ আরও কয়েকজনকে ডেকে আনেন। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে হাসানের ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা হাসানকে দড়ি দিয়ে বেঁধে দীর্ঘ সময় ধরে মারধর করে।

এ সময় পাইকগাছা থানার এসআই মঞ্জুর সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেও মারধর অব্যাহত থাকে।

গুরুতর আহত অবস্থায় রাত প্রায় ৮টার দিকে হাসানকে স্থানীয়ভাবে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করে। পরে এসআই আজিজ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।

সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের স্ত্রী তাসলিমার সঙ্গে কথা হলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, “রবিবার বিকেলে আমি ও আমার স্বামী বাজারের ঘরে বসে কথা বলছিলাম। এ সময় কুদ্দুস ঘরের পাশে প্রসাব করতে বসলে আমার স্বামী তাকে বাধা দেন। পরে কুদ্দুস মোবাইলে লোকজন ডেকে এনে আমার স্বামীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে পুলিশের উপস্থিতিতেই পিটিয়ে হত্যা করে।” এবিষয়ে এস আই মঞ্জুরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি সন্ধার পর চাঁদ খালী বাজারে যায় বলে বলেন আমার কিছু বলা বিধি সম্মত না,তাই ওসি সারের কাছ মন্তব্য নেন।

এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্নের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।