০৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্যামনগরে শিক্ষিকার নির্দেশে ছাদের ট্যাংকি পরিষ্কার করতে গিয়ে ছাত্র বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ

রিপোর্টঃ রায়হান কবির ও হাবিবুল্লাহ বাহার। (পর্ব -১)
  • Update Time : ০৭:৪২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • / ২৩৪ Time View

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের ১২০ নং দক্ষিণ ছোটকুপট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার নির্দেশে ছাদের পানির ট্যাংকি পরিষ্কার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইয়ামিন (০৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। আহত ইয়ামিন ওই এলাকার আব্দুল মোমিনের ছেলে। বর্তমানে সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাজমুন নাহারের নির্দেশে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ইয়ামিন স্কুলের ছাদের পানির ট্যাংকি পরিষ্কার করতে যায়। ট্যাংকি পরিষ্কার করার একপর্যায়ে সেখানে থাকা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে সে গুরুতর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। চিৎকার শুনে অন্যান্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এই ঘটনার পর ফুসে উঠেছে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী। ঘটনার অনুসন্ধানে নেমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সেরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধেও উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক সেরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত কাজ করিয়ে আসছেন। শিক্ষার্থীদের দিয়ে বাজার থেকে সিগারেট কেনানো, বিদ্যালয় ও শিক্ষকদের কক্ষ ঝাড়ু দেওয়ানো এবং চা বানানোর মতো কাজ করাতে বাধ্য করেন তিনি। প্রতিবাদ করলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার শিকার হতে হয়, কাজ না করলে পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ দেখানোর হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এক শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পানির ট্যাংকি পরিষ্কার করানোর ঘটনায় স্কুলের নিরাপত্তা ও শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল মোমিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে পড়তে পাঠিয়েছি, শিক্ষকের ব্যক্তিগত বা স্কুলের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে নয়। শিক্ষিকার অবহেলা আর দায়িত্বহীনতার কারণেই আজ আমার ছেলে হাসপাতালের বিছানায় ছটফট করছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষিকা নাজমুন নাহার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রধান শিক্ষক মোঃ সেরাজুল ইসলাম বলেন ঘটনাটি আমি মৌখিক ভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার কে জানিয়েছি এবং নিজের বিরুদ্ধে ওটা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তবে অনুসন্ধান বলছে চঞ্চল্যকর অপরাধের গল্প।

আরো বিস্ফোরক তথ্য নিয়ে, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের ভিডিও বক্তব্য সহ থাকছে, আমাদের অনুসন্ধানী ভিডিও প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে।

এ বিষয়ে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আইন পরিপন্থী। কোনো শিক্ষার্থীকে দিয়ে স্কুলের এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, এ ধরনের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

শ্যামনগরে শিক্ষিকার নির্দেশে ছাদের ট্যাংকি পরিষ্কার করতে গিয়ে ছাত্র বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ

Update Time : ০৭:৪২:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের ১২০ নং দক্ষিণ ছোটকুপট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার নির্দেশে ছাদের পানির ট্যাংকি পরিষ্কার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইয়ামিন (০৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। আহত ইয়ামিন ওই এলাকার আব্দুল মোমিনের ছেলে। বর্তমানে সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাজমুন নাহারের নির্দেশে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ইয়ামিন স্কুলের ছাদের পানির ট্যাংকি পরিষ্কার করতে যায়। ট্যাংকি পরিষ্কার করার একপর্যায়ে সেখানে থাকা বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে সে গুরুতর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। চিৎকার শুনে অন্যান্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এই ঘটনার পর ফুসে উঠেছে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী। ঘটনার অনুসন্ধানে নেমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সেরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধেও উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক সেরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত কাজ করিয়ে আসছেন। শিক্ষার্থীদের দিয়ে বাজার থেকে সিগারেট কেনানো, বিদ্যালয় ও শিক্ষকদের কক্ষ ঝাড়ু দেওয়ানো এবং চা বানানোর মতো কাজ করাতে বাধ্য করেন তিনি। প্রতিবাদ করলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার শিকার হতে হয়, কাজ না করলে পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ দেখানোর হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এক শিশু শিক্ষার্থীকে দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পানির ট্যাংকি পরিষ্কার করানোর ঘটনায় স্কুলের নিরাপত্তা ও শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল মোমিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেকে পড়তে পাঠিয়েছি, শিক্ষকের ব্যক্তিগত বা স্কুলের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে নয়। শিক্ষিকার অবহেলা আর দায়িত্বহীনতার কারণেই আজ আমার ছেলে হাসপাতালের বিছানায় ছটফট করছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষিকা নাজমুন নাহার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রধান শিক্ষক মোঃ সেরাজুল ইসলাম বলেন ঘটনাটি আমি মৌখিক ভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার কে জানিয়েছি এবং নিজের বিরুদ্ধে ওটা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তবে অনুসন্ধান বলছে চঞ্চল্যকর অপরাধের গল্প।

আরো বিস্ফোরক তথ্য নিয়ে, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের ভিডিও বক্তব্য সহ থাকছে, আমাদের অনুসন্ধানী ভিডিও প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে।

এ বিষয়ে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আইন পরিপন্থী। কোনো শিক্ষার্থীকে দিয়ে স্কুলের এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, এ ধরনের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।