শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর স্বজন ও সাংবাদিকের সাথে চিকিৎসকের চরম দুর্ব্যবহার, প্রেসক্রিপশন ছেঁড়ার অভিযোগ
- Update Time : ০৯:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
- / ১৩৩ Time View

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসার নামে এক রোগীবান্ধব পরিবেশের চরম অবমাননা ও এক চিকিৎসকের অপেশাদার আচরণের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৫ জুলাই ২০২৬ (বুধবার) জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. ইন্দ্রজিৎ জোয়াদ্দারের বিরুদ্ধে রোগীর আত্মীয়-স্বজন এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে আসা এক স্থানীয় সাংবাদিকের সাথে চরম দুর্ব্যবহার ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই চিকিৎসক সাংবাদিকের সামনেই রোগীর প্রেসক্রিপশন ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা এক মুমূর্ষু রোগীর স্বজনদের সাথে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন দায়িত্বরত আরএমও/মেডিকেল অফিসার ডা. ইন্দ্রজিৎ জোয়াদ্দার। একপর্যায়ে তিনি রোগীর স্বজনদের ওপর চরম চড়াও হন এবং অমানবিক আচরণ শুরু করেন।ঐ সময় হাসপাতালে কাকতালীয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সাংবাদিক ইয়াসিন আরাফাত। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মতো একটি সংবেদনশীল জায়গায় এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতে দেখে এবং রোগীর স্বজনদের অনুরোধে তিনি বিষয়টি শান্ত করার মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে যান। তিনি ওই চিকিৎসককে শান্ত হওয়ার এবং রোগীর প্রতি মানবিক আচরণ করার অনুরোধ জানান।
উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও রোগীদের অভিযোগ, সাংবাদিক ইয়াসিন আরাফাত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে ডা. ইন্দ্রজিৎ জোয়াদ্দার আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি সাংবাদিকের পেশাগত পরিচয়কে তোয়াক্কা না করে তার সামনেই রোগীর চিকিৎসার জন্য লেখা প্রেসক্রিপশনটি কুচিকুচি করে ছিঁড়ে ফেলেন এবং অকথ্য ও আপত্তিকর ভাষায় কথা বলতে থাকেন। একজন সরকারি চিকিৎসকের কাছ থেকে এমন অভাবনীয় ও অপেশাদার আচরণ দেখে জরুরি বিভাগে উপস্থিত অন্যান্য রোগী ও তাদের আতঙ্কিত স্বজনরা স্তব্ধ হয়ে পড়েন।
জরুরি বিভাগে আসা অসহায় রোগীরা সবচেয়ে বেশি মানবিক আচরণ ও সহানুভূতি আশা করেন। কিন্তু সরকারি হাসপাতালের চেয়ারে বসে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি হাসপাতালে যদি চিকিৎসকদের কাছ থেকে এই ধরণের দুর্ব্যবহার পেতে হয়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? এই কারণেই সাধারণ জনগণ সরকারি হাসপাতালে না গিয়ে ধার-দেনা করে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে ছুটতে বাধ্য হয়। চিকিৎসকদের এমন আচরণ পুরো সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে।
এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজের মধ্যে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। একজন মহান পেশার মানুষের কাছ থেকে এই ধরণের ঔদ্ধত্য কোনোভাবেই কাম্য নয় উল্লেখ করে স্থানীয়রা দ্রুত ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ইন্দ্রজিৎ জোয়াদ্দার এবং উপস্থিত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে, বক্তব্য পাওয়া মাত্রই আরো বিস্তারিত নিয়ে সংবাদের দ্বিতীয় পর্বে যুক্ত করা হবে।


















