শ্যামনগরে চর দখলের মহোৎসব: এসিল্যান্ডের অভিযানে থমকে গেল বালু দস্যুরা
- Update Time : ০৪:১২:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
- / ১৯৬ Time View

হুমকির মুখে উপকূলের অবদা রাস্তা ও জনজীবন
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নওয়াবেকী এলাকায় খোল পেটুয়া নদীর চর দখল করে এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য চালাচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র। অভিযোগ রয়েছে, মুসা ও মজিবর নামে পরিচিত বালুর পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন বড় চাকার ভারী যানবাহনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বালু পরিবহন করা হচ্ছে। এর ফলে অবদার কাঁচা সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এই অবৈধ বাণিজ্যের কারণে একদিকে যেমন নদীভাঙন তীব্র হচ্ছে, অন্যদিকে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে অবদার (পানি উন্নয়ন বোর্ড) কাঁচা রাস্তা ধ্বংসের মুখে পড়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অবৈধ বালু বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি শ্যামনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন অবৈধ বালুর পয়েন্টে মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করেন। তবে অভিযানের খবর পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রশাসনের এই আকস্মিক অভিযানে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির চোখ ফাঁকি দিয়ে মুসা ও মজিবর নামের দুই ব্যক্তির বালুর পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন বড় চাকার ভারী ড্রাম ট্রাক ও ট্রাফির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার বালু বিক্রি ও সরবরাহ চলছে। নদীর সরকারি চর দখল করে এই পয়েন্টগুলো তৈরি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত।
অভিযানের খবর পেয়ে সরজমিনে দেখা যায় ভারী চাকার গাড়ি দিয়ে বালু পরিবহনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত অবদার কাঁচা রাস্তাগুলো এখন পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে। বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এর ফলে স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ ও রোগীদের যাতায়াতে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্পষ্ট জানিয়েছেন, “নদীর চর দখল বা অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পরিবেশ ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের এই অভিযান চলমান থাকবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ ও জননিরাপত্তা রক্ষায় এই অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও প্রতিরোধ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


















