নাইক্ষ্যংছড়ির যুবলীগ ক্যাডার নদীর চর ধ্বংস করে প্রকাশ্যে করছে বালু লুট, প্রশাসন নিরব
- Update Time : ০৩:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৮৬ Time View

বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে চলছে বালু উত্তোলনের ভয়াবহ দৌরাত্ম্য।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনিক অভিযান উপেক্ষা করে প্রতিদিনই চলছে নদী-খাল ও পাহাড় ধ্বংসের এই মহোৎসব।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাগজিখোলা এলাকায় একাধিক স্থানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বালু।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান আসে কেবল একদিনের জন্য, পরের দিনই ফের চালু হয় ড্রেজার মেশিন।
সর্বশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয় ৬ অক্টোবর।
সে সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাত জাহান ইতিু’র নেতৃত্বে প্রায় ৭ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করা হয় এবং একটি ড্রেজার মেশিন আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় দেওয়া হয়।
তবে তিন সপ্তাহও না যেতেই আবারো নতুন করে শুরু হয়েছে উত্তোলন—তাও প্রশাসনের চোখের সামনেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই অবৈধ বালু ব্যবসার পেছনে রয়েছে দুই রাজনৈতিক দলের নেতাদের যৌথ সিন্ডিকেট।
একদিকে আওয়ামী লীগ, অন্যদিকে বিএনপি — দুই পক্ষই মিলেমিশে ভাগাভাগি করে নিচ্ছে নদী ও পাহাড়ের সম্পদ।
স্থানীয় বাসিন্দা মংথোয়াই চিং মার্মা বলেন,
“আমাদের জমি আর খাল ভেঙে যাচ্ছে। আমি বাধা দিলে উল্টো তারা হুমকি দেয়।” স্থানীয় যুবক রিয়াদ বলেন, “অনেক দিন ধরে সিন্ডিকেট করে বালু তোলে। প্রশাসনের অভিযান শেষ হলেই আবার শুরু হয়।”
স্থানীয়দের দাবি, এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন যুবলীগ নেতা আজিজুল হক ও বিএনপি নেতা মো. ইব্রাহিম।
সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন উভয় দলের আরও কয়েকজন স্থানীয় নেতা ও কর্মী।
“স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের অভিযান এক দিনের, কিন্তু বালু উত্তোলন চলে প্রতিদিনই—ফলে পরিবেশের ওপর পড়ছে মারাত্মক প্রভাব।”
এ বিষয়ে কাগজিখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মনজুরুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।”
অন্যদিকে, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “বালু উত্তোলন রোধে নিয়মিত অভিযান চলছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, “নাইক্ষ্যংছড়িতে আমাদের স্থানীয় অফিস না থাকায় অভিযান পরিচালনায় সময় লাগে। তবে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের ফলে স্থানীয় সড়ক, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।
নদী ও ছড়া ভাঙনের মুখে, বাড়ছে ভূমিধসের আশঙ্কা।
স্থানীয়রা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নজরদারি ও সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে স্থায়ী টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের ভাষায় — “যতদিন না শক্ত নজরদারি আসবে, ততদিন বালু ব্যবসা বন্ধ হবে না।”




















