০৩:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জে বিএনপি-আ.লীগ সংঘর্ষ, ওসিসহ অর্ধশত আহত

ডেক্স রিপোর্টঃ
  • Update Time : ০২:৫০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / ২০ Time View

 

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সংঘর্ষে বানিয়াচং থানার ওসিসহ উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কালাইনজুড়া গ্রামে অবস্থিত ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদ আহমদ গ্রেপ্তার হন। পরে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা মিজানুর রহমান কপিল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জাতীয় নির্বাচনের পরে ফরিদ আহমদ জামিনে মুক্তি পান। মুক্তির পর তিনি পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের উদ্যোগ নিলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিল এতে আপত্তি জানান। এ নিয়ে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। পরে হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে ফরিদ আহমদ তার চেয়ারম্যান পদ ফিরে পান। পরে জেলা প্রশাসন ও বানিয়াচং উপজেলা প্রশাসন থেকেও তাকে দায়িত্ব গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়।

সোমবার সকালে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ উপস্থিত হলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিলের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ফরিদ আহমদকে কপিলের সমর্থকরা অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে।

খবর ছড়িয়ে পড়লে ফরিদ আহমদের সমর্থনে নোয়াগাঁও, কদুপুরসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজন এবং কপিলের পক্ষে হলদারপুর গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে পুরো ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রায় ৩ ঘন্টা ধরে চলে এই সংঘর্ষ৷

খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ৫টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হকসহ উভয় পক্ষের প্রায় শতাধিক লোকজন আহত হন।

গুরুতর আহত কয়েকজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আহতদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল ও নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে তিনিও আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৩ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস ও ৫ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রাশেদুজ্জামান চৌধুরী জানান, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে বড়ইউড়ি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে কয়েকটি গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

হবিগঞ্জে বিএনপি-আ.লীগ সংঘর্ষ, ওসিসহ অর্ধশত আহত

Update Time : ০২:৫০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

 

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সংঘর্ষে বানিয়াচং থানার ওসিসহ উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কালাইনজুড়া গ্রামে অবস্থিত ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদ আহমদ গ্রেপ্তার হন। পরে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা মিজানুর রহমান কপিল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

দীর্ঘদিন কারাভোগের পর জাতীয় নির্বাচনের পরে ফরিদ আহমদ জামিনে মুক্তি পান। মুক্তির পর তিনি পুনরায় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের উদ্যোগ নিলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিল এতে আপত্তি জানান। এ নিয়ে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। পরে হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে ফরিদ আহমদ তার চেয়ারম্যান পদ ফিরে পান। পরে জেলা প্রশাসন ও বানিয়াচং উপজেলা প্রশাসন থেকেও তাকে দায়িত্ব গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়।

সোমবার সকালে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ উপস্থিত হলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিলের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ফরিদ আহমদকে কপিলের সমর্থকরা অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে।

খবর ছড়িয়ে পড়লে ফরিদ আহমদের সমর্থনে নোয়াগাঁও, কদুপুরসহ কয়েকটি গ্রামের লোকজন এবং কপিলের পক্ষে হলদারপুর গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে পুরো ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রায় ৩ ঘন্টা ধরে চলে এই সংঘর্ষ৷

খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ৫টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হকসহ উভয় পক্ষের প্রায় শতাধিক লোকজন আহত হন।

গুরুতর আহত কয়েকজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আহতদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল ও নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বানিয়াচং থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে তিনিও আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৩ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস ও ৫ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রাশেদুজ্জামান চৌধুরী জানান, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে বড়ইউড়ি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে কয়েকটি গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।