১২:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অর্ধশত মাদ্রাসার অংশগ্রহণে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
  • Update Time : ০৭:৩৮:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১০৬ Time View

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসার ১০ বছর পদার্পণ উপলক্ষে জেলাব্যাপী হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাদ আছর শহরের কাউতলী বাইপাস মোড় সংলগ্ন শেখ হাবিবুল্লাহ রোডের হাজী আব্দুল মোতালেব ম্যানশনে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন সম্পন্ন হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৫০টিরও অধিক মাদ্রাসার হাফেজরা এই প্রতিযোগিতায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন কলেজপাড়া ইকরা মাদ্রাসার হাফেজ সফিউল্লাহ। পুরস্কার হিসেবে তাকে একটি বাইসাইকেল প্রদান করা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় স্থান অধিকারী গোকর্ণঘাট মারকাজুল কুরআন মডেল মাদ্রাসার ছাত্র হাফেজ দেলোয়ার হোসেনকে একটি ডিনার সেট এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী কাউতলী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ মাদ্রাসার হাফেজ বাইজিদকে একটি ইলেকট্রিক ইস্ত্রি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৪র্থ থেকে ২০তম স্থান অর্জনকারী হাফেজদের বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জনাব এম এ আবু মুসার সভাপতিত্বে এবং প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা ইসহাক আল মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাউতলী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ এনাম সরদার। প্রধান বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব হাফেজ ক্বারী সফিউল্লাহ।

পুরস্কার বিতরণী অধিবেশনে আমন্ত্রিত অতিথিরা তাদের বক্তব্যে হাফেজদের ফজিলত বর্ণনা করে বলেন, “কিয়ামতের দিন হাফেজদের বলা হবে—কোরআন তেলাওয়াত করতে থাকো এবং জান্নাতের উচ্চ মাকামে আরোহণ করতে থাকো। একজন হাফেজ তার বংশের দশজন ব্যক্তিকে জান্নাতে নেওয়ার সুপারিশ করার সুযোগ পাবেন।” তারা আরও বলেন, হাফেজদের সম্মান করা সমাজের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব, কারণ তারা আল্লাহর পবিত্র বাণী সংরক্ষণে নিয়োজিত পবিত্র ফেরেশতাদের সমতুল্য।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাউতলী পূর্ব পাড়া বায়তুল আমান জামে মসজিদের সভাপতি হাজী রহিস সরদার, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মসজিদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ হাফিজ এবং কাউতলী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের কোষাধ্যক্ষ মোঃ বাবুল চৌধুরী।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা বোরহান উদ্দিন আল মতিন, কাউতলী ছাত্র উলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল্লাহ, মাওলানা মাসুদুর রহমান হানাফি, জেলা ছাত্রদলের তথ্য বিষয়ক সম্পাদক শেখ জনিসহ স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় অধিবেশনে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। সবশেষে আলহাজ্ব হাফেজ ক্বারী শফিউল্লাহর বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অর্ধশত মাদ্রাসার অংশগ্রহণে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

Update Time : ০৭:৩৮:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসার ১০ বছর পদার্পণ উপলক্ষে জেলাব্যাপী হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাদ আছর শহরের কাউতলী বাইপাস মোড় সংলগ্ন শেখ হাবিবুল্লাহ রোডের হাজী আব্দুল মোতালেব ম্যানশনে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন সম্পন্ন হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৫০টিরও অধিক মাদ্রাসার হাফেজরা এই প্রতিযোগিতায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্বের ভিত্তিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন কলেজপাড়া ইকরা মাদ্রাসার হাফেজ সফিউল্লাহ। পুরস্কার হিসেবে তাকে একটি বাইসাইকেল প্রদান করা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় স্থান অধিকারী গোকর্ণঘাট মারকাজুল কুরআন মডেল মাদ্রাসার ছাত্র হাফেজ দেলোয়ার হোসেনকে একটি ডিনার সেট এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী কাউতলী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ মাদ্রাসার হাফেজ বাইজিদকে একটি ইলেকট্রিক ইস্ত্রি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৪র্থ থেকে ২০তম স্থান অর্জনকারী হাফেজদের বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জনাব এম এ আবু মুসার সভাপতিত্বে এবং প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা ইসহাক আল মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাউতলী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ এনাম সরদার। প্রধান বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব হাফেজ ক্বারী সফিউল্লাহ।

পুরস্কার বিতরণী অধিবেশনে আমন্ত্রিত অতিথিরা তাদের বক্তব্যে হাফেজদের ফজিলত বর্ণনা করে বলেন, “কিয়ামতের দিন হাফেজদের বলা হবে—কোরআন তেলাওয়াত করতে থাকো এবং জান্নাতের উচ্চ মাকামে আরোহণ করতে থাকো। একজন হাফেজ তার বংশের দশজন ব্যক্তিকে জান্নাতে নেওয়ার সুপারিশ করার সুযোগ পাবেন।” তারা আরও বলেন, হাফেজদের সম্মান করা সমাজের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব, কারণ তারা আল্লাহর পবিত্র বাণী সংরক্ষণে নিয়োজিত পবিত্র ফেরেশতাদের সমতুল্য।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাউতলী পূর্ব পাড়া বায়তুল আমান জামে মসজিদের সভাপতি হাজী রহিস সরদার, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মসজিদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ হাফিজ এবং কাউতলী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের কোষাধ্যক্ষ মোঃ বাবুল চৌধুরী।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা বোরহান উদ্দিন আল মতিন, কাউতলী ছাত্র উলামা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল্লাহ, মাওলানা মাসুদুর রহমান হানাফি, জেলা ছাত্রদলের তথ্য বিষয়ক সম্পাদক শেখ জনিসহ স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় অধিবেশনে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। সবশেষে আলহাজ্ব হাফেজ ক্বারী শফিউল্লাহর বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।