০৩:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামপালে কুমড়ো বড়ি বানিয়ে স্বপ্ন বুনছেন গ্রামের নারীরা

মোঃ হুসাইন শেখ, রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৬:২৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৩৭ Time View

oplus_0

 

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় কুমড়ো বড়ি তৈরি করে এখন নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছেন অনেক গ্রামের নারী। শীত এলেই উপজেলার গ্রামগুলোতে বাড়ির উঠানে রোদে শুকাতে দেওয়া কুমড়ো বড়ি যেন নারীদের পরিশ্রম আর আত্মনির্ভরতার গল্পই বলে দেয়।

আগে কুমড়ো বড়ি ছিল শুধু পারিবারিক খাবারের অংশ। এখন সেটাই হয়ে উঠেছে নারীদের আয়ের বড় ভরসা। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি—এই শীতের তিন মাসই বড়ি তৈরির মূল সময়। এ সময় ঘরের কাজ সামলে অনেক নারী বড়ি বানিয়ে সংসারে বাড়তি আয় করছেন।

রামপালের গৌরম্ভা, উজলকুড় , চাঁদপুর,ফয়লাহাট, ভাগা, বাইনতলা, সগুনা, গোনা, হুড়কা, রাজনগরসহ বিভিন্ন গ্রামে এখন ঘরে ঘরে বড়ি তৈরির ধুম। সকালে ডাল পরিষ্কার, ভিজানো ও বাটার কাজ শুরু হয়। এরপর কুমড়োর সঙ্গে মিশিয়ে হাতে হাতে বড়ি বানিয়ে রোদে দেওয়া হয়। ভালো রোদ পেলে এক-দুই দিনেই বড়ি শুকিয়ে বিক্রির উপযোগী হয়।

স্থানীয়রা জানান, একজন নারী প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন কেজি কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে পারেন। শীতকালে বানানো বড়ি সারা বছর বিক্রি করা যায়, ফলে এটি দীর্ঘদিনের আয়ের সুযোগ তৈরি করছে।

সোনাকুড় গ্রামের শাহানারা বেগম বলেন, “আমি ১২ বছর ধরে কুমড়ো বড়ি বানাই। ভালো মানের বড়ি কেজি প্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। শীতের সময় বানানো বড়ি সারা বছরেই বিক্রি হয়ে যায়। এতে সংসারের অনেক খরচ চলে।”

তিনি আরও জানান, শুধু রামপাল নয়, আশপাশের উপজেলা থেকেও পাইকাররা এসে বড়ি কিনে নিয়ে যান।

রামপাল উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা শেফা বলেন, “এ এলাকার নারীরা খুব আগ্রহ নিয়ে বড়ি তৈরি করছেন। ঘরে বসেই কাজ করে তারা পরিবারের আয় বাড়াচ্ছেন। অনেক নারী এখন স্বাবলম্বী হচ্ছেন।”

তিনি জানান, নারীদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের মত, যদি সহজ ঋণ, উন্নত প্রশিক্ষণ ও ভালো বাজারব্যবস্থা করা যায়, তাহলে রামপালের কুমড়ো বড়ি শিল্প আরও বড় হবে এবং ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানির সুযোগও তৈরি হতে পারে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রামপালে কুমড়ো বড়ি বানিয়ে স্বপ্ন বুনছেন গ্রামের নারীরা

Update Time : ০৬:২৯:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

 

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় কুমড়ো বড়ি তৈরি করে এখন নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছেন অনেক গ্রামের নারী। শীত এলেই উপজেলার গ্রামগুলোতে বাড়ির উঠানে রোদে শুকাতে দেওয়া কুমড়ো বড়ি যেন নারীদের পরিশ্রম আর আত্মনির্ভরতার গল্পই বলে দেয়।

আগে কুমড়ো বড়ি ছিল শুধু পারিবারিক খাবারের অংশ। এখন সেটাই হয়ে উঠেছে নারীদের আয়ের বড় ভরসা। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি—এই শীতের তিন মাসই বড়ি তৈরির মূল সময়। এ সময় ঘরের কাজ সামলে অনেক নারী বড়ি বানিয়ে সংসারে বাড়তি আয় করছেন।

রামপালের গৌরম্ভা, উজলকুড় , চাঁদপুর,ফয়লাহাট, ভাগা, বাইনতলা, সগুনা, গোনা, হুড়কা, রাজনগরসহ বিভিন্ন গ্রামে এখন ঘরে ঘরে বড়ি তৈরির ধুম। সকালে ডাল পরিষ্কার, ভিজানো ও বাটার কাজ শুরু হয়। এরপর কুমড়োর সঙ্গে মিশিয়ে হাতে হাতে বড়ি বানিয়ে রোদে দেওয়া হয়। ভালো রোদ পেলে এক-দুই দিনেই বড়ি শুকিয়ে বিক্রির উপযোগী হয়।

স্থানীয়রা জানান, একজন নারী প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন কেজি কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে পারেন। শীতকালে বানানো বড়ি সারা বছর বিক্রি করা যায়, ফলে এটি দীর্ঘদিনের আয়ের সুযোগ তৈরি করছে।

সোনাকুড় গ্রামের শাহানারা বেগম বলেন, “আমি ১২ বছর ধরে কুমড়ো বড়ি বানাই। ভালো মানের বড়ি কেজি প্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। শীতের সময় বানানো বড়ি সারা বছরেই বিক্রি হয়ে যায়। এতে সংসারের অনেক খরচ চলে।”

তিনি আরও জানান, শুধু রামপাল নয়, আশপাশের উপজেলা থেকেও পাইকাররা এসে বড়ি কিনে নিয়ে যান।

রামপাল উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা শেফা বলেন, “এ এলাকার নারীরা খুব আগ্রহ নিয়ে বড়ি তৈরি করছেন। ঘরে বসেই কাজ করে তারা পরিবারের আয় বাড়াচ্ছেন। অনেক নারী এখন স্বাবলম্বী হচ্ছেন।”

তিনি জানান, নারীদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের মত, যদি সহজ ঋণ, উন্নত প্রশিক্ষণ ও ভালো বাজারব্যবস্থা করা যায়, তাহলে রামপালের কুমড়ো বড়ি শিল্প আরও বড় হবে এবং ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানির সুযোগও তৈরি হতে পারে।