০৫:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট

বাগেরহাট প্রতিনিধি: মোঃ হুসাইন শেখ
  • Update Time : ০৯:০৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৩২ Time View

 

বাগেরহাট প্রতিনিধি: মোঃ হুসাইন শেখ

ভুক্তভোগী বলেন “সবকিছু লুট করে নেওয়ার সময় ডাকাতরা আমাদের হত্যার হুমকি দেয়। পুলিশকে জানালে আবারও এসে ভয়াবহ পরিণতি ঘটাবে বলে শাসিয়ে যায়।”

বাগেরহাট সদর উপজেলায় এক জাপান প্রবাসীর বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ডাকাতরা ওই বাড়ি থেকে প্রায় ১৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে পরিবারটি।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ভোর ৪টার দিকে সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের সুন্দরঘোনা এলাকায় জাপান প্রবাসী খন্দকার রবিউল ইসলামের বাড়িতে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাগেরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাসুম খান।

ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় বাড়িতে অবস্থান করছিলেন রবিউল ইসলামের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা খন্দকার আবু জাফর, তার স্ত্রী, বড় ছেলে ও পুত্রবধূ। ভোরে বাথরুমে যাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠতেই কয়েকজন ডাকাত অস্ত্রের মুখে খন্দকার আবু জাফরকে জিম্মি করে। পরে তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও জিম্মি করা হয়।

এরপর ডাকাতরা বাড়ির একাধিক কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে আসবাবপত্র তছনছ করে প্রায় ১৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা লুট করে নেয়।

পরিবারটির দাবি, এ ঘটনায় তাদের অন্তত ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তারা ধারণা করছেন, ডাকাতরা কৌশলে ছাদে উঠে মূল গেট ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে।

খন্দকার আবু জাফর বলেন,
“আমাদের সবাইকে বেঁধে রেখে ঘরের সবকিছু এলোমেলো করে নেয়। অস্ত্রের মুখে থাকায় কাউকে কিছু বলার সুযোগ ছিল না।”

বাড়ির বড় ছেলে ব্যবসায়ী খন্দকার মাইনুল ইসলাম বলেন, তিনিও একসময় জাপানে বসবাস করতেন। ডাকাতরা তার কক্ষেও তল্লাশি চালায়।
তিনি বলেন,
“সব নিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাতরা আমাদের হত্যার হুমকি দেয় এবং পুলিশকে জানালে আবারও আসবে বলে ভয় দেখায়।”

খন্দকার আবু জাফরের স্ত্রী জাহানারা বেগম জানান, ডাকাতরা তার কক্ষে ঢুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে কম্বল দিয়ে মুখ ঢেকে রাখে। তিনি বলেন, ডাকাত দলে ছয়জন পুরুষের পাশাপাশি একজন নারীও ছিল।
তার ভাষ্য,
“ওরা বলছিল বেশি কথা বললে মেরে ফেলবে। পুলিশকে জানালে আবার আসবে।”

এ বিষয়ে সদর থানার ওসি মো. মাসুম খান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে একাধিক টিম কাজ করছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বাগেরহাটে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট

Update Time : ০৯:০৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

 

বাগেরহাট প্রতিনিধি: মোঃ হুসাইন শেখ

ভুক্তভোগী বলেন “সবকিছু লুট করে নেওয়ার সময় ডাকাতরা আমাদের হত্যার হুমকি দেয়। পুলিশকে জানালে আবারও এসে ভয়াবহ পরিণতি ঘটাবে বলে শাসিয়ে যায়।”

বাগেরহাট সদর উপজেলায় এক জাপান প্রবাসীর বাড়িতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ডাকাতরা ওই বাড়ি থেকে প্রায় ১৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে পরিবারটি।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ভোর ৪টার দিকে সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের সুন্দরঘোনা এলাকায় জাপান প্রবাসী খন্দকার রবিউল ইসলামের বাড়িতে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাগেরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাসুম খান।

ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় বাড়িতে অবস্থান করছিলেন রবিউল ইসলামের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা খন্দকার আবু জাফর, তার স্ত্রী, বড় ছেলে ও পুত্রবধূ। ভোরে বাথরুমে যাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠতেই কয়েকজন ডাকাত অস্ত্রের মুখে খন্দকার আবু জাফরকে জিম্মি করে। পরে তার হাত-পা ও মুখ বেঁধে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও জিম্মি করা হয়।

এরপর ডাকাতরা বাড়ির একাধিক কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে আসবাবপত্র তছনছ করে প্রায় ১৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা লুট করে নেয়।

পরিবারটির দাবি, এ ঘটনায় তাদের অন্তত ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তারা ধারণা করছেন, ডাকাতরা কৌশলে ছাদে উঠে মূল গেট ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে।

খন্দকার আবু জাফর বলেন,
“আমাদের সবাইকে বেঁধে রেখে ঘরের সবকিছু এলোমেলো করে নেয়। অস্ত্রের মুখে থাকায় কাউকে কিছু বলার সুযোগ ছিল না।”

বাড়ির বড় ছেলে ব্যবসায়ী খন্দকার মাইনুল ইসলাম বলেন, তিনিও একসময় জাপানে বসবাস করতেন। ডাকাতরা তার কক্ষেও তল্লাশি চালায়।
তিনি বলেন,
“সব নিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাতরা আমাদের হত্যার হুমকি দেয় এবং পুলিশকে জানালে আবারও আসবে বলে ভয় দেখায়।”

খন্দকার আবু জাফরের স্ত্রী জাহানারা বেগম জানান, ডাকাতরা তার কক্ষে ঢুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে কম্বল দিয়ে মুখ ঢেকে রাখে। তিনি বলেন, ডাকাত দলে ছয়জন পুরুষের পাশাপাশি একজন নারীও ছিল।
তার ভাষ্য,
“ওরা বলছিল বেশি কথা বললে মেরে ফেলবে। পুলিশকে জানালে আবার আসবে।”

এ বিষয়ে সদর থানার ওসি মো. মাসুম খান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে একাধিক টিম কাজ করছে।