০৯:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামপালে তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত – কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন দিনমজুররা

বাগেরহাট প্রতিনিধি: মোঃ হুসাইন শেখ
  • Update Time : ১০:৪১:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৮৮ Time View

 

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় তীব্র শীতের প্রকোপে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত হাড় কাঁপানো ঠান্ডা জনজীবনে নিয়ে এসেছে স্থবিরতা।

ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সকাল পর্যন্ত কুয়াশা না কাটায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, ফলে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ পড়ছেন চরম দুর্ভোগে।

শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর, দুর্বল বৃদ্ধ, ভ্যানচালক ও জেলেরা। কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেক দিনমজুর পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় অনেক অসহায় মানুষ খোলা আকাশের নিচে বা ছেঁড়া কাঁথা জড়িয়ে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।

এদিকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানাচ্ছেন, শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে – বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মাঝে সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ বেশি দেখা যাচ্ছে।

হাটবাজারগুলোতেও সকালে লোকসমাগম কমে গেছে – ফলে ব্যবসায়ীরা বিক্রিবাটায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষকরাও জানিয়েছেন, শীতের প্রভাবে শীতকালীন সবজি ও বীজতলা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে – আগামী কয়েকদিন শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রামপালে তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত – কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন দিনমজুররা

Update Time : ১০:৪১:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

 

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় তীব্র শীতের প্রকোপে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত হাড় কাঁপানো ঠান্ডা জনজীবনে নিয়ে এসেছে স্থবিরতা।

ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সকাল পর্যন্ত কুয়াশা না কাটায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, ফলে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ পড়ছেন চরম দুর্ভোগে।

শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর, দুর্বল বৃদ্ধ, ভ্যানচালক ও জেলেরা। কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেক দিনমজুর পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় অনেক অসহায় মানুষ খোলা আকাশের নিচে বা ছেঁড়া কাঁথা জড়িয়ে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।

এদিকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানাচ্ছেন, শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে – বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মাঝে সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ বেশি দেখা যাচ্ছে।

হাটবাজারগুলোতেও সকালে লোকসমাগম কমে গেছে – ফলে ব্যবসায়ীরা বিক্রিবাটায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষকরাও জানিয়েছেন, শীতের প্রভাবে শীতকালীন সবজি ও বীজতলা ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে – আগামী কয়েকদিন শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।