১০:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“বাগেরহাট-রামপালে পানিসংকট; সরকারি খাল–পুকুর অবমুক্তের দাবি”

বাগেরহাট প্রতিনিধি: মোঃ হুসাইন শেখ
  • Update Time : ১০:০৫:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১২০ Time View

 

বাগেরহাট ও রামপাল উপজেলায় তীব্র পানিসংকট, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং সরকারি খাল ও খাস পুকুর দখল হওয়ায় কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে এক্টিভিস্টা বাগেরহাট ও রামপালের উদ্যোগে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সম্মেলনে জানানো হয়, এক সময় হজরত খানজাহান আলী (রহ.) অঞ্চলের সেচ ব্যবস্থায় বিপ্লব আনতে বাগেরহাটের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য খাল, দীঘি ও জলাধার খনন করেছিলেন। যেগুলো কৃষি উৎপাদন ও সুপেয় পানির প্রধান উৎস ছিল। কিন্তু বর্তমানে দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে এসব জলাধার অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ফলে পানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং ধীরে ধীরে বাড়ছে লবণাক্ততার মাত্রা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট জেলার মোট আবাদযোগ্য জমি ১ লাখ ২২ হাজার ২৩১ হেক্টর। বর্তমানে আবাদ হচ্ছে মাত্র ১ লাখ ৪ হাজার ৪৭৩ হেক্টরে। পতিত জমির পরিমাণ ৮ হাজার ৭০৭ হেক্টর এবং প্রায় ১৫ হাজার ৫৯২ হেক্টর জমি সারা বছর পানির নিচে থাকে। শুধু রামপাল উপজেলাতেই অনাবাদী জমির পরিমাণ ২৭ হাজার ৬৪৪ হেক্টর।

এ সময় বক্তারা বলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার মাদারতলা, খুনতাকাটা, শশিখালী, গোদাড়ার খালসহ গুরুত্বপূর্ণ খাল দখল হয়ে যাওয়ায় পানি ধারণ ব্যাহত হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা। সরকারি পুকুর লিজে মাছ চাষের কারণে সাধারণ মানুষ সুপেয় পানি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, খাল–নদী পুনঃখনন, টেকসই সেচব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং লবণাক্ততা–সহনশীল ফসল চাষের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। বক্তাদের ভাষ্য—সমন্বিত উদ্যোগ নিলে বাগেরহাট ও রামপাল আবারও কৃষি উপযোগী ও সবুজ জনপদে ফিরে আসতে পারবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, “সরকারি পুকুর রাষ্ট্রীয় সম্পদ, এগুলো রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। কিছু অসাধু ব্যক্তি খাল–পুকুর দখল করে চাষাবাদ করছে বলে খবর পেয়েছি। খুব দ্রুতই দখলমুক্ত করে পুনঃসংস্কারের মাধ্যমে সুপেয় পানি নিশ্চিত করা হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

“বাগেরহাট-রামপালে পানিসংকট; সরকারি খাল–পুকুর অবমুক্তের দাবি”

Update Time : ১০:০৫:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

 

বাগেরহাট ও রামপাল উপজেলায় তীব্র পানিসংকট, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং সরকারি খাল ও খাস পুকুর দখল হওয়ায় কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে এক্টিভিস্টা বাগেরহাট ও রামপালের উদ্যোগে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সম্মেলনে জানানো হয়, এক সময় হজরত খানজাহান আলী (রহ.) অঞ্চলের সেচ ব্যবস্থায় বিপ্লব আনতে বাগেরহাটের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য খাল, দীঘি ও জলাধার খনন করেছিলেন। যেগুলো কৃষি উৎপাদন ও সুপেয় পানির প্রধান উৎস ছিল। কিন্তু বর্তমানে দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে এসব জলাধার অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ফলে পানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং ধীরে ধীরে বাড়ছে লবণাক্ততার মাত্রা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট জেলার মোট আবাদযোগ্য জমি ১ লাখ ২২ হাজার ২৩১ হেক্টর। বর্তমানে আবাদ হচ্ছে মাত্র ১ লাখ ৪ হাজার ৪৭৩ হেক্টরে। পতিত জমির পরিমাণ ৮ হাজার ৭০৭ হেক্টর এবং প্রায় ১৫ হাজার ৫৯২ হেক্টর জমি সারা বছর পানির নিচে থাকে। শুধু রামপাল উপজেলাতেই অনাবাদী জমির পরিমাণ ২৭ হাজার ৬৪৪ হেক্টর।

এ সময় বক্তারা বলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার মাদারতলা, খুনতাকাটা, শশিখালী, গোদাড়ার খালসহ গুরুত্বপূর্ণ খাল দখল হয়ে যাওয়ায় পানি ধারণ ব্যাহত হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা। সরকারি পুকুর লিজে মাছ চাষের কারণে সাধারণ মানুষ সুপেয় পানি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, খাল–নদী পুনঃখনন, টেকসই সেচব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং লবণাক্ততা–সহনশীল ফসল চাষের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। বক্তাদের ভাষ্য—সমন্বিত উদ্যোগ নিলে বাগেরহাট ও রামপাল আবারও কৃষি উপযোগী ও সবুজ জনপদে ফিরে আসতে পারবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, “সরকারি পুকুর রাষ্ট্রীয় সম্পদ, এগুলো রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। কিছু অসাধু ব্যক্তি খাল–পুকুর দখল করে চাষাবাদ করছে বলে খবর পেয়েছি। খুব দ্রুতই দখলমুক্ত করে পুনঃসংস্কারের মাধ্যমে সুপেয় পানি নিশ্চিত করা হবে।