০১:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশনে অন্ধকারে যাত্রী দুর্ভোগ, নিরাপত্তা ঝুঁকি চরমে

ঝিকরগাছা প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৩:১৬:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৪০ Time View

 

যশোরের ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশনে পর্যাপ্ত আলোর অভাবে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। স্টেশনে বিদ্যুৎ সংযোগ ও লাইটের ব্যবস্থা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম পাশের একাধিক লাইট নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, যা আজও মেরামত করা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

 

ফুলের রাজ্য হিসেবে খ্যাত গদখালি এলাকার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই রেলওয়ে স্টেশনটি ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন যাত্রী যাতায়াত করেন। ফুল ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ, নারী ও বয়স্ক যাত্রীরা নিয়মিত এই স্টেশন দিয়ে চলাচল করলেও সন্ধ্যার পর স্টেশনের পশ্চিম পাশসহ প্ল্যাটফর্মের বিভিন্ন অংশে ঘন অন্ধকার নেমে আসে, যা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

 

 

সম্প্রতি আলোর অভাবে বেনাপোল থেকে খুলনাগামী বেনাপোল কমিউটার (বেতনা) ট্রেনের এক নারী যাত্রী বিপাকে পড়েন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের বেলায় ট্রেনে উঠতে গিয়ে স্টেশনের অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে তিনি অন্ধকারে বগিতে ওঠার সময় নিজের চাদর হারিয়ে ফেলেন। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর তিনি চাদরটি ফিরে পান। তবে ওই ঘটনা স্টেশনের আলোকব্যবস্থার দুরবস্থার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তোলে।

 

 

যাত্রীদের অভিযোগ, পশ্চিম পাশ দিয়ে চলাচল করা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও রেললাইনের আশপাশ স্পষ্টভাবে দেখা যায় না, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বেশি কাজ করছে।

 

 

একজন নিয়মিত যাত্রী বলেন,

 

“পশ্চিম পাশে একাধিক লাইট আছে, কিন্তু সবই নষ্ট। লাইন থাকলেও ঠিক করা হচ্ছে না। অন্ধকরে পশ্চিম পশের পুরাতন স্টেশনের রাস্তাদিয়ে এই দিকে আসতে ভয় লাগে।”

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা দ্রুত নষ্ট লাইটগুলো মেরামত করে স্টেশনের সব অংশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত স্টেশন হওয়া সত্ত্বেও এমন অবহেলা অগ্রহণযোগ্য।

 

 

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার নিগার সুলতানা বলেন,

 

“বারবার লোক পাঠিয়ে লাইট ঠিক করা হচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বারবারই সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশনে অন্ধকারে যাত্রী দুর্ভোগ, নিরাপত্তা ঝুঁকি চরমে

Update Time : ০৩:১৬:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

 

যশোরের ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশনে পর্যাপ্ত আলোর অভাবে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। স্টেশনে বিদ্যুৎ সংযোগ ও লাইটের ব্যবস্থা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম পাশের একাধিক লাইট নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, যা আজও মেরামত করা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

 

ফুলের রাজ্য হিসেবে খ্যাত গদখালি এলাকার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই রেলওয়ে স্টেশনটি ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন যাত্রী যাতায়াত করেন। ফুল ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ, নারী ও বয়স্ক যাত্রীরা নিয়মিত এই স্টেশন দিয়ে চলাচল করলেও সন্ধ্যার পর স্টেশনের পশ্চিম পাশসহ প্ল্যাটফর্মের বিভিন্ন অংশে ঘন অন্ধকার নেমে আসে, যা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

 

 

সম্প্রতি আলোর অভাবে বেনাপোল থেকে খুলনাগামী বেনাপোল কমিউটার (বেতনা) ট্রেনের এক নারী যাত্রী বিপাকে পড়েন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের বেলায় ট্রেনে উঠতে গিয়ে স্টেশনের অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে তিনি অন্ধকারে বগিতে ওঠার সময় নিজের চাদর হারিয়ে ফেলেন। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর তিনি চাদরটি ফিরে পান। তবে ওই ঘটনা স্টেশনের আলোকব্যবস্থার দুরবস্থার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তোলে।

 

 

যাত্রীদের অভিযোগ, পশ্চিম পাশ দিয়ে চলাচল করা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও রেললাইনের আশপাশ স্পষ্টভাবে দেখা যায় না, ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বেশি কাজ করছে।

 

 

একজন নিয়মিত যাত্রী বলেন,

 

“পশ্চিম পাশে একাধিক লাইট আছে, কিন্তু সবই নষ্ট। লাইন থাকলেও ঠিক করা হচ্ছে না। অন্ধকরে পশ্চিম পশের পুরাতন স্টেশনের রাস্তাদিয়ে এই দিকে আসতে ভয় লাগে।”

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা দ্রুত নষ্ট লাইটগুলো মেরামত করে স্টেশনের সব অংশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত স্টেশন হওয়া সত্ত্বেও এমন অবহেলা অগ্রহণযোগ্য।

 

 

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার নিগার সুলতানা বলেন,

 

“বারবার লোক পাঠিয়ে লাইট ঠিক করা হচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বারবারই সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”