০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাইক্ষ্যংছড়িতে হিফজখানার দুই ছাত্রীকে ফুসলিয়ে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ

মোঃ শাহারিয়া রেজা জিসাদ, নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান)
  • Update Time : ০৩:৩১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৯৪ Time View

 

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় হিফজখানায় পড়ুয়া দুই নাবালিকা ছাত্রীকে ফুসলিয়ে কক্সবাজারে নিয়ে গিয়ে একজনকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের রূপনগর ব্রিজ এলাকার পাকা সড়কে দুই নাবালিকা ছাত্রীকে একা পেয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেয় অভিযুক্ত ব্যক্তি। পরে তাদের প্রথমে নিজের বাসায় নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে প্রলোভন দেখিয়ে মোটরসাইকেলে করে কক্সবাজার সদরের বাণিজ্য মেলায় নিয়ে যায়।

মেলা শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তি কক্সবাজার সদর থানাধীন একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে রাতযাপন করে। ২০ জানুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে, এক ভিকটিম ঘুমিয়ে পড়লে অপর ভিকটিমের প্রতি অভিযুক্ত ব্যক্তি যৌন আগ্রাসী আচরণ করে। বাধা দিলে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানার পক্ষ থেকে এফআইআর নং–১১, জি আর নং–১১, তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিঃ রুজু করা হয়। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৯(১) ধারা প্রযোজ্য করা হয়েছে।

মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন—মো. আয়াত উল্লাহ, পিতা: ফেরদৌস আহমেদ, মাতা: ছফুরা বেগম, সাং: মৌলবীর কাটা, কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এসআই (নিরস্ত্র) আ. হক-কে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দোষীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

নাইক্ষ্যংছড়িতে হিফজখানার দুই ছাত্রীকে ফুসলিয়ে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ

Update Time : ০৩:৩১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

 

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় হিফজখানায় পড়ুয়া দুই নাবালিকা ছাত্রীকে ফুসলিয়ে কক্সবাজারে নিয়ে গিয়ে একজনকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের রূপনগর ব্রিজ এলাকার পাকা সড়কে দুই নাবালিকা ছাত্রীকে একা পেয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেয় অভিযুক্ত ব্যক্তি। পরে তাদের প্রথমে নিজের বাসায় নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে প্রলোভন দেখিয়ে মোটরসাইকেলে করে কক্সবাজার সদরের বাণিজ্য মেলায় নিয়ে যায়।

মেলা শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তি কক্সবাজার সদর থানাধীন একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে রাতযাপন করে। ২০ জানুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে, এক ভিকটিম ঘুমিয়ে পড়লে অপর ভিকটিমের প্রতি অভিযুক্ত ব্যক্তি যৌন আগ্রাসী আচরণ করে। বাধা দিলে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানার পক্ষ থেকে এফআইআর নং–১১, জি আর নং–১১, তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিঃ রুজু করা হয়। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৯(১) ধারা প্রযোজ্য করা হয়েছে।

মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন—মো. আয়াত উল্লাহ, পিতা: ফেরদৌস আহমেদ, মাতা: ছফুরা বেগম, সাং: মৌলবীর কাটা, কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এসআই (নিরস্ত্র) আ. হক-কে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দোষীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।