নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ৬৫০ বোতল মাদকসহ দুই ব্যবসায়ী গ্রেফতার
- Update Time : ০৬:৫২:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১০৬ Time View

নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লায় মাদকবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেয়েছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।
ভোররাতে চালানো বিশেষ অভিযানে ৬৫০ বোতল নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য FAIRDYL এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মিনি পিকআপসহ দুইজন কুখ্যাত মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, গ্রেফতার শুধু বাহক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না-এই চালানের পেছনে থাকা মূল হোতা ও সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনতেই হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল মান্নান-এর নির্দেশনায় এসআই (নিঃ) জহিরুল ইসলাম ও এসআই (নিঃ) মিলন ফকির সঙ্গীয় ফোর্সসহ ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিঃ ভোর আনুমানিক ৫টা ১০ মিনিটে ফতুল্লা থানাধীন নিউ চাষাড়া সংলগ্ন ইসদাইর বাজারের বিবির বাজার রোডে, রানার সুতার মিলের সামনে পাকা রাস্তার ওপর চেকপোস্ট স্থাপন করে অভিযান পরিচালনা করেন।
এ সময় একটি সন্দেহজনক মিনি পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে ৬৫০ বোতল নেশাজাতীয় মাদক FAIRDYL উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই দুই মাদক ব্যাবসায়ীকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো:
১। মোঃ মতিন মনির (৪৮), পিতা: মৃত হাকিম, সাং: ইন্দুরকান্দি হাসপাতালের পাশে, পিরোজপুর (বর্তমানে ঢাকার কুড়ের ঘাট খেয়াঘাট এলাকা)।
২। মোঃ শমসের আলী (৩২), পিতা: মৃত আসাদূল মিয়া, সাং: হাসান নগর বাবলা হাট চৌরাস্তা, কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা।
পরে তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মিনি পিকআপ (রেজিঃ ঢাকা মেট্রো-ন-১২-০৮৫৫) জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করে বিজ্ঞ নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে,কল লিস্ট-কল ট্র্যাকিং করে ‘মূল হোতা’ ধরার জোর দাবি
তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও মাদকবিরোধী সংগঠনগুলোর দাবি, এত বড় চালান দুইজনের পক্ষে সম্ভব নয়।
এই মাদক কোথা থেকে এসেছে, কাদের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল এবং কারা এই নেটওয়ার্কের মূল নিয়ন্ত্রক-তা উদঘাটনে গ্রেফতার কৃতদের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট ও কল ট্র্যাকিং অবিলম্বে বিশ্লেষণ করা জরুরি।
তাদের মতে, কল ডাটা রেকর্ড (CDR) বিশ্লেষণ করলে বেরিয়ে আসবে-কার নির্দেশে এই চালান আনা হয়েছিল,কোন রুট ব্যবহার করা হয়েছে,কারা নিয়মিত এই সিন্ডিকেটকে সাপোর্ট দিচ্ছে,
কারা এর অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক হোতা,সচেতন নাগরিকরা আরও বলেন, মূল হোতাদের ধরতে না পারলে মাদক ব্যাবসা বন্ধ হবে না।
বাহক নয়,সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে।প্রয়োজনে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদকের পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচনের দাবি জানান তারা।মাদকবিরোধী এই অভিযানে পুলিশি তৎপরতার প্রশংসা করা হলেও, একই সঙ্গে নেপথ্যের গডফাদারদের আইনের আওতায় আনার জন্য কঠোর ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।




















