০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিশোর গ্যাং ও মাদক সমস্যা নিয়ে চিন্তায় অভিভাবকরা।

বিশেষ প্রতিনিধি : মোঃ মিজানুর রহমান শান্ত
  • Update Time : ০৪:৪৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৭৮ Time View

 

নারায়ণগঞ্জ ‘প্রাচ্যের ডান্ডি’ বলে পরিচিত। এ জেলা রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। নারায়ণগঞ্জ ১৯৪৭ সালে মহকুমা এবং ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হয়। ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও রেলপথ নির্মাণের আগে ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগ মূলত শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদীপথেই হতো। নারায়ণগঞ্জ জেলায় রয়েছে অনেক ইতিহাস ও ঐতিহ্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব দিকেই নারায়ণগঞ্জ জেলাটির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে এবং এটি আরও সমৃদ্ধ হয়েছে।

 

তবে এত কিছুর মাঝেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জ জেলায় বেশ কিছু সমস্যার মধ্যে দুটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা অভিভাবকদের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তা হলো কিশোর গ্যাং ও মাদক। নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

 

সরেজমিন প্রতিবেদনে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে মাদক বিক্রি ও মাদক সেবন। মাদক এমন একটি বিষয়, যা যুব সমাজ থেকে শুরু করে যে কোনো মানুষের জীবন খুব সহজেই ধ্বংস করে দিতে পারে। জীবন ধ্বংসকারী মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ে নারায়ণগঞ্জে বসবাসরত অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

 

প্রতিবেদনে উঠে আসে, নারায়ণগঞ্জের রেলস্টেশন, বন্দর, চাষাড়া, পাগলা, ফতুল্লা, খানপুর, ইসদাইর, সিদ্ধিরগঞ্জসহ আরও বেশ কিছু এলাকায় সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যার পর কিশোরদের দল বেঁধে আড্ডা দিতে দেখা যায়। জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে তারা মারামারি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও হুমকি-ধামকির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এমনকি তারা ছোটখাটো বিষয় নিয়েও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে দ্বিধাবোধ করছে না।

 

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী নাসিক ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এক অভিভাবক বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাং যুব সমাজ ধ্বংসের অন্যতম কারণ। কিন্তু আফসোস, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের এই কালো থাবা থেকে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে পারছি না। তারা মাদকের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

 

অপরদিকে ফতুল্লার একজন সচেতন সমাজকর্মী বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পরিবার, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছাই পারে এই সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করতে।

 

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্কুল-কলেজের অনেক শিক্ষার্থীও মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইয়াবা ও ফেনসিডিল এখন অনেক এলাকায় হাতবদল হয়ে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, নদীর পাড় ও বিভিন্ন পরিত্যক্ত ভবনের আশপাশে মাদকের লেনদেন সহজেই চলছে।

 

সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমান সময়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষার পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিশোর গ্যাং ও মাদক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসনসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

 

তাই নারায়ণগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে মাদক ও কিশোর গ্যাং থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে পরিবার, স্কুলশিক্ষক, রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কাউন্সেলিং এবং প্রশাসনের সর্বোচ্চ আইন প্রয়োগই পারে কিশোর গ্যাং ও মাদকমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়তে।

 

অন্যদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুরে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারায়ণগঞ্জ জেলার দুর্নীতি ও মাদক সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, “নারায়ণগঞ্জ শহরে অন্তত ২০টি স্পট রয়েছে, যেখানে মাদকের ব্যবসা চলে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কিশোর গ্যাং ও মাদক সমস্যা নিয়ে চিন্তায় অভিভাবকরা।

Update Time : ০৪:৪৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

 

নারায়ণগঞ্জ ‘প্রাচ্যের ডান্ডি’ বলে পরিচিত। এ জেলা রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। নারায়ণগঞ্জ ১৯৪৭ সালে মহকুমা এবং ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হয়। ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও রেলপথ নির্মাণের আগে ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের যোগাযোগ মূলত শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদীপথেই হতো। নারায়ণগঞ্জ জেলায় রয়েছে অনেক ইতিহাস ও ঐতিহ্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব দিকেই নারায়ণগঞ্জ জেলাটির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে এবং এটি আরও সমৃদ্ধ হয়েছে।

 

তবে এত কিছুর মাঝেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জ জেলায় বেশ কিছু সমস্যার মধ্যে দুটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা অভিভাবকদের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তা হলো কিশোর গ্যাং ও মাদক। নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

 

সরেজমিন প্রতিবেদনে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে মাদক বিক্রি ও মাদক সেবন। মাদক এমন একটি বিষয়, যা যুব সমাজ থেকে শুরু করে যে কোনো মানুষের জীবন খুব সহজেই ধ্বংস করে দিতে পারে। জীবন ধ্বংসকারী মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ে নারায়ণগঞ্জে বসবাসরত অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

 

প্রতিবেদনে উঠে আসে, নারায়ণগঞ্জের রেলস্টেশন, বন্দর, চাষাড়া, পাগলা, ফতুল্লা, খানপুর, ইসদাইর, সিদ্ধিরগঞ্জসহ আরও বেশ কিছু এলাকায় সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যার পর কিশোরদের দল বেঁধে আড্ডা দিতে দেখা যায়। জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে তারা মারামারি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও হুমকি-ধামকির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এমনকি তারা ছোটখাটো বিষয় নিয়েও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে দ্বিধাবোধ করছে না।

 

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী নাসিক ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এক অভিভাবক বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাং যুব সমাজ ধ্বংসের অন্যতম কারণ। কিন্তু আফসোস, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের এই কালো থাবা থেকে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে পারছি না। তারা মাদকের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

 

অপরদিকে ফতুল্লার একজন সচেতন সমাজকর্মী বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পরিবার, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছাই পারে এই সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করতে।

 

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্কুল-কলেজের অনেক শিক্ষার্থীও মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইয়াবা ও ফেনসিডিল এখন অনেক এলাকায় হাতবদল হয়ে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, নদীর পাড় ও বিভিন্ন পরিত্যক্ত ভবনের আশপাশে মাদকের লেনদেন সহজেই চলছে।

 

সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমান সময়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষার পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিশোর গ্যাং ও মাদক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে প্রশাসনসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

 

তাই নারায়ণগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে মাদক ও কিশোর গ্যাং থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে পরিবার, স্কুলশিক্ষক, রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কাউন্সেলিং এবং প্রশাসনের সর্বোচ্চ আইন প্রয়োগই পারে কিশোর গ্যাং ও মাদকমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়তে।

 

অন্যদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুরে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারায়ণগঞ্জ জেলার দুর্নীতি ও মাদক সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, “নারায়ণগঞ্জ শহরে অন্তত ২০টি স্পট রয়েছে, যেখানে মাদকের ব্যবসা চলে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।