০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, পাল্টা মাঠে ছাত্রদল

ডেক্স রিপোর্ট
  • Update Time : ০২:৫৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৩২ Time View

 

ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশান থেকে চট্টগ্রাম, গাজীপুর, খুলনা, বরিশাল ও শরীয়তপুর—দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল, জমায়েত কিংবা মিছিলের প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, গুলশান-১ এলাকায় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী মিছিলের চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর উত্তরা, চট্টগ্রামের হালিশহর ও আগ্রাবাদ এবং গাজীপুরের পুবাইলেও একই দিনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল বা জমায়েতের চেষ্টা হয়েছে। এসব ঘটনায় মোট নয়জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

শুধু রাজধানী নয়, খুলনায়ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে। বরিশাল নগরীর বান্দ রোড এলাকাতেও আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। শরীয়তপুরের জাজিরায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক সংগঠন কীভাবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে একত্রিত করে মিছিল করার সুযোগ পেল—এ প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনায় এসেছে।

বিশেষ করে গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এতসংখ্যক মানুষ পূর্বপরিকল্পিতভাবে একত্রিত হওয়ার পর পুলিশের উপস্থিতি এবং নজরদারি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, সেটিও তদন্তের বিষয় হতে পারে।

তবে এখানে একটি বিষয়ও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন—ঝটিকা মিছিল সাধারণত অল্প সময়ের মধ্যে সংগঠিত হয় এবং অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে। ফলে শুধু প্রযুক্তিগত নজরদারি থাকলেই প্রতিটি কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই তা প্রতিহত করা সম্ভব—এমন দাবি করাও বাস্তবসম্মত নয়।

গুলশানে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির প্রতিবাদে রাতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেতের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে গুলশানে স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিল এবং এনসিপির মশাল মিছিলের খবরও পাওয়া গেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে—নিষেধাজ্ঞার পরও আওয়ামী লীগের কর্মীরা যদি বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত হয়ে ঝটিকা কর্মসূচি চালাতে সক্ষম হন, তাহলে দলটির সাংগঠনিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে কি না, নাকি তারা নতুন কৌশলে মাঠে ফেরার চেষ্টা করছে?

অন্যদিকে এসব কর্মসূচির পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির ছাত্র ও সহযোগী সংগঠনগুলো মাঠে নামলে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একই সঙ্গে প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে—নিষিদ্ধ সংগঠনের বেআইনি কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা, আবার একই সময়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেন সংঘাত বা জননিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি না হয়।

ফলে ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলোকে শুধু কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঝটিকা মিছিল হিসেবে না দেখে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা, প্রশাসনের গোয়েন্দা নজরদারি এবং পাল্টা রাজনৈতিক কর্মসূচির সম্ভাব্য প্রভাব—এই তিনটি দিক থেকে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, পাল্টা মাঠে ছাত্রদল

Update Time : ০২:৫৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশান থেকে চট্টগ্রাম, গাজীপুর, খুলনা, বরিশাল ও শরীয়তপুর—দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল, জমায়েত কিংবা মিছিলের প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, গুলশান-১ এলাকায় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী মিছিলের চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর উত্তরা, চট্টগ্রামের হালিশহর ও আগ্রাবাদ এবং গাজীপুরের পুবাইলেও একই দিনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল বা জমায়েতের চেষ্টা হয়েছে। এসব ঘটনায় মোট নয়জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

শুধু রাজধানী নয়, খুলনায়ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে। বরিশাল নগরীর বান্দ রোড এলাকাতেও আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। শরীয়তপুরের জাজিরায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক সংগঠন কীভাবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় ১৫০ থেকে ২০০ জনকে একত্রিত করে মিছিল করার সুযোগ পেল—এ প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনায় এসেছে।

বিশেষ করে গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এতসংখ্যক মানুষ পূর্বপরিকল্পিতভাবে একত্রিত হওয়ার পর পুলিশের উপস্থিতি এবং নজরদারি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, সেটিও তদন্তের বিষয় হতে পারে।

তবে এখানে একটি বিষয়ও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন—ঝটিকা মিছিল সাধারণত অল্প সময়ের মধ্যে সংগঠিত হয় এবং অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে। ফলে শুধু প্রযুক্তিগত নজরদারি থাকলেই প্রতিটি কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই তা প্রতিহত করা সম্ভব—এমন দাবি করাও বাস্তবসম্মত নয়।

গুলশানে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির প্রতিবাদে রাতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেতের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে গুলশানে স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিল এবং এনসিপির মশাল মিছিলের খবরও পাওয়া গেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে—নিষেধাজ্ঞার পরও আওয়ামী লীগের কর্মীরা যদি বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত হয়ে ঝটিকা কর্মসূচি চালাতে সক্ষম হন, তাহলে দলটির সাংগঠনিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে কি না, নাকি তারা নতুন কৌশলে মাঠে ফেরার চেষ্টা করছে?

অন্যদিকে এসব কর্মসূচির পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির ছাত্র ও সহযোগী সংগঠনগুলো মাঠে নামলে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একই সঙ্গে প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে—নিষিদ্ধ সংগঠনের বেআইনি কর্মকাণ্ড প্রতিহত করা, আবার একই সময়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেন সংঘাত বা জননিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি না হয়।

ফলে ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলোকে শুধু কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঝটিকা মিছিল হিসেবে না দেখে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মাঠপর্যায়ের সক্ষমতা, প্রশাসনের গোয়েন্দা নজরদারি এবং পাল্টা রাজনৈতিক কর্মসূচির সম্ভাব্য প্রভাব—এই তিনটি দিক থেকে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।