০৮:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোহাম্মদপুরে আতঙ্কের রাত, সীমান্তে ষড়যন্ত্র — রুখে দাঁড়ানোর ডাক মামুনুল হকের

আল আমিন মিরা, ঢাকা প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৬:৫৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • / ৩৮ Time View

 

ঢাকা, ১১ মে ২০২৬: ভারতে মুসলিম নিধনের প্রতিবাদ এবং মোহাম্মদপুরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে মোহাম্মদপুরস্থ কওমি মাদ্রাসাসমূহের ঐক্যবদ্ধ ফোরাম ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া। আজ সোমবার মোহাম্মদপুর টাউন হল চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়।

 

মিছিল-পূর্ব সমাবেশে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার মুহতামিম ও বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক।

 

তিনি বলেন, “আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে এদেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিল। তাদের একজন দাসীকে এদেশের ক্ষমতায় বসিয়েছিল। এদেশের মানুষ তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে।”

 

মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “মোহাম্মদপুরের মানুষের উপর একজন দুর্বলচিত্তের বহিরাগত মানুষকে বসিয়ে দিয়ে এ এলাকাকে সন্ত্রাসের আস্তানায় পরিণত করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর এ অঞ্চল একটি ভূতুরে রাজ্যে পরিণত হয়। প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।”

 

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলব। যদি অপরাধীরা গণরোষের শিকার হয়, তার দায় প্রশাসনকে বহন করতে হবে।”

 

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “মোহাম্মদপুরে যে এমপি নিয়োগ দিয়েছেন তিনি সরাসরি ব্যর্থ হয়েছেন। তাই মোহাম্মদপুরের জনগণের প্রতি বিশেষ নজর দিন। ঢাকা-১৭, ঢাকা-১৫ আর ঢাকা-১১ আসনের মতো ঢাকা-১৩-কেও নিজের আসন মনে করে এ এলাকার উন্নয়নে বিশেষ নজর দিন।”

 

ভারতে মুসলিম নিধনের প্রতিবাদ জানিয়ে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাগরিকত্ব বাতিল করে বাংলাদেশে পুশইন করা হচ্ছে। সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, সীমান্তে কঠোর পাহারা বসান। রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কঠোর কূটনৈতিক বার্তা প্রেরণ করুন। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে — তা রুখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।”

 

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, জামিয়া ইসলামিয়া ওয়াহিদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা জুবায়ের এবং বায়তুল জান্নাত মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি ওমর ফারুক।

 

মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ বলেন, “আজ সারাদেশে মোহাম্মদপুর আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছে। মিডিয়ায় কিছু দিন পরপর এখানকার ছিনতাই ও খুনের সংবাদ আসে। ডিএমপির তেজগাঁও জোনের এডিসি জুয়েল রানা মিডিয়ায় বলেছেন, যাদের নিয়ে চাঁদাবাজি ও ছিনতাই বন্ধ করতে চান, তারাই অপরাধীদের গডফাদার। যদি এটাই বাস্তব হয়, তাহলে তাদের দ্রুত গ্রেফতার করুন। আমরা মোহাম্মদপুরের মানুষ, আমরা সন্ত্রাসমুক্ত শান্তির সমাজ চাই।”

 

তিনি আরও বলেন, “সীমান্তহত্যা চলছে, বিভিন্ন জায়গায় খুন-ধর্ষণ চলছে, কাপাসিয়ায় এক পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিকে সংবিধানের ক্লাস নিচ্ছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। ব্যর্থতার দায় নিয়ে তাঁকে পদত্যাগ করা উচিত।”

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মোহাম্মদপুরে আতঙ্কের রাত, সীমান্তে ষড়যন্ত্র — রুখে দাঁড়ানোর ডাক মামুনুল হকের

Update Time : ০৬:৫৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

 

ঢাকা, ১১ মে ২০২৬: ভারতে মুসলিম নিধনের প্রতিবাদ এবং মোহাম্মদপুরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে মোহাম্মদপুরস্থ কওমি মাদ্রাসাসমূহের ঐক্যবদ্ধ ফোরাম ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া। আজ সোমবার মোহাম্মদপুর টাউন হল চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়।

 

মিছিল-পূর্ব সমাবেশে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার মুহতামিম ও বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক।

 

তিনি বলেন, “আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে এদেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিল। তাদের একজন দাসীকে এদেশের ক্ষমতায় বসিয়েছিল। এদেশের মানুষ তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে।”

 

মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “মোহাম্মদপুরের মানুষের উপর একজন দুর্বলচিত্তের বহিরাগত মানুষকে বসিয়ে দিয়ে এ এলাকাকে সন্ত্রাসের আস্তানায় পরিণত করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর এ অঞ্চল একটি ভূতুরে রাজ্যে পরিণত হয়। প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।”

 

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলব। যদি অপরাধীরা গণরোষের শিকার হয়, তার দায় প্রশাসনকে বহন করতে হবে।”

 

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “মোহাম্মদপুরে যে এমপি নিয়োগ দিয়েছেন তিনি সরাসরি ব্যর্থ হয়েছেন। তাই মোহাম্মদপুরের জনগণের প্রতি বিশেষ নজর দিন। ঢাকা-১৭, ঢাকা-১৫ আর ঢাকা-১১ আসনের মতো ঢাকা-১৩-কেও নিজের আসন মনে করে এ এলাকার উন্নয়নে বিশেষ নজর দিন।”

 

ভারতে মুসলিম নিধনের প্রতিবাদ জানিয়ে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাগরিকত্ব বাতিল করে বাংলাদেশে পুশইন করা হচ্ছে। সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, সীমান্তে কঠোর পাহারা বসান। রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কঠোর কূটনৈতিক বার্তা প্রেরণ করুন। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে — তা রুখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।”

 

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, জামিয়া ইসলামিয়া ওয়াহিদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা জুবায়ের এবং বায়তুল জান্নাত মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি ওমর ফারুক।

 

মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ বলেন, “আজ সারাদেশে মোহাম্মদপুর আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছে। মিডিয়ায় কিছু দিন পরপর এখানকার ছিনতাই ও খুনের সংবাদ আসে। ডিএমপির তেজগাঁও জোনের এডিসি জুয়েল রানা মিডিয়ায় বলেছেন, যাদের নিয়ে চাঁদাবাজি ও ছিনতাই বন্ধ করতে চান, তারাই অপরাধীদের গডফাদার। যদি এটাই বাস্তব হয়, তাহলে তাদের দ্রুত গ্রেফতার করুন। আমরা মোহাম্মদপুরের মানুষ, আমরা সন্ত্রাসমুক্ত শান্তির সমাজ চাই।”

 

তিনি আরও বলেন, “সীমান্তহত্যা চলছে, বিভিন্ন জায়গায় খুন-ধর্ষণ চলছে, কাপাসিয়ায় এক পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিকে সংবিধানের ক্লাস নিচ্ছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। ব্যর্থতার দায় নিয়ে তাঁকে পদত্যাগ করা উচিত।”