০৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্যামনগরে বরাদ্দ কম, কার্ড বেশি: জেলেদের চাল দিতে গিয়ে ‘চোর’ সাজছেন জনপ্রতিনিধিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পর্ব-১
  • Update Time : ০৪:৩৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • / ১১২ Time View

 

সাতক্ষীরা শ্যামনগরের আটুলিয়া ইউনিয়নে জেলেদের সরকারি কার্ড থেকেও মিলছে না চাল। কার্ডধারী প্রায় ২১০০ জেলের বিপরীতে বরাদ্দ এসেছে মাত্র ৪৫০ জনের। ফলে বাকি ১৬৫০ জন জেলে চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বিপুল পরিমাণ বঞ্চিত জেলের ক্ষোভের মুখে পড়ে প্রতিনিয়ত ‘চোর’ অপবাদ সইতে হচ্ছে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের। তৎকালীন চেয়ারম্যান ডঃ আব্দুল হামিদ এর আমলে মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত এই কার্ডগুলোর সঙ্গে বর্তমান বরাদ্দের এমন বিশাল বৈষম্যে এলাকায় চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর থেকে তৎকালীন চেয়ারম্যান ডঃ আব্দুল হামিদ এর সময়ে প্রায় ২১০০ জন জেলের নামে সরকারি কার্ড ইস্যু করা হয়েছিল। কার্ডধারী সব জেলেই সরকারি চাল পাওয়ার আইনি অধিকার রাখেন। কিন্তু বর্তমানে সরকারিভাবে মাত্র ৪৫০ জনের মত চাল বরাদ্দ আসায় বিপাকে পড়েছেন বর্তমান পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা।

এ বিষয়ে ১০ নম্বর আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু সালেহ বাবু ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ইউপি সদস্যরা জানান, “কার্ড আছে ২১০০ জনের, চাল আসে ৪৫০ জনের। আমরা কাকে রেখে কাকে দেব? চাল না পেয়ে বাকি ১৬৪০ জন জেলে মনে করছেন আমরা চাল চুরি করছি। সরকারের বরাদ্দ সংকটের কারণে আমাদের চোর সাজতে হচ্ছে। আমরা এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান চাই।

“ক্ষুব্ধ জেলেরা জানান, “সরকার আমাদের কার্ড দিয়েছে চাল দেওয়ার জন্য। কিন্তু চেয়ারম্যানরা-মেম্বাররা চাল দিচ্ছেন না। আমরা কার্ড থাকা সত্ত্বেও কেন বঞ্চিত হবো?

“ভুক্তভোগী জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন মহল বর্তমান সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে মাঠ পর্যায়ে সঠিক জরিপ চালানো হোক। প্রকৃত জেলেদের সংখ্যা এবং বরাদ্দের পরিমাণের সাথে সমন্বয় করে কার্ডের সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করা হোক।

সম্ভব হলে ২১০০ জনেরই চালের ব্যবস্থা করা হোক, না হয় বরাদ্দ অনুযায়ী কার্ডের সংখ্যা নামিয়ে এনে বাকি কার্ড বাতিল করা হোক। অন্যথায় এই ত্রাণের চাল নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ভাবমূর্তি চরম সংকটে পড়বে।

এ বিষয়ে “২১০০ কার্ডের বিপরীতে মাত্র ৪৫০ জনের বরাদ্দ আসার বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

শ্যামনগরে বরাদ্দ কম, কার্ড বেশি: জেলেদের চাল দিতে গিয়ে ‘চোর’ সাজছেন জনপ্রতিনিধিরা

Update Time : ০৪:৩৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

 

সাতক্ষীরা শ্যামনগরের আটুলিয়া ইউনিয়নে জেলেদের সরকারি কার্ড থেকেও মিলছে না চাল। কার্ডধারী প্রায় ২১০০ জেলের বিপরীতে বরাদ্দ এসেছে মাত্র ৪৫০ জনের। ফলে বাকি ১৬৫০ জন জেলে চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বিপুল পরিমাণ বঞ্চিত জেলের ক্ষোভের মুখে পড়ে প্রতিনিয়ত ‘চোর’ অপবাদ সইতে হচ্ছে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের। তৎকালীন চেয়ারম্যান ডঃ আব্দুল হামিদ এর আমলে মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত এই কার্ডগুলোর সঙ্গে বর্তমান বরাদ্দের এমন বিশাল বৈষম্যে এলাকায় চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর থেকে তৎকালীন চেয়ারম্যান ডঃ আব্দুল হামিদ এর সময়ে প্রায় ২১০০ জন জেলের নামে সরকারি কার্ড ইস্যু করা হয়েছিল। কার্ডধারী সব জেলেই সরকারি চাল পাওয়ার আইনি অধিকার রাখেন। কিন্তু বর্তমানে সরকারিভাবে মাত্র ৪৫০ জনের মত চাল বরাদ্দ আসায় বিপাকে পড়েছেন বর্তমান পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা।

এ বিষয়ে ১০ নম্বর আটুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু সালেহ বাবু ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ইউপি সদস্যরা জানান, “কার্ড আছে ২১০০ জনের, চাল আসে ৪৫০ জনের। আমরা কাকে রেখে কাকে দেব? চাল না পেয়ে বাকি ১৬৪০ জন জেলে মনে করছেন আমরা চাল চুরি করছি। সরকারের বরাদ্দ সংকটের কারণে আমাদের চোর সাজতে হচ্ছে। আমরা এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান চাই।

“ক্ষুব্ধ জেলেরা জানান, “সরকার আমাদের কার্ড দিয়েছে চাল দেওয়ার জন্য। কিন্তু চেয়ারম্যানরা-মেম্বাররা চাল দিচ্ছেন না। আমরা কার্ড থাকা সত্ত্বেও কেন বঞ্চিত হবো?

“ভুক্তভোগী জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন মহল বর্তমান সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে মাঠ পর্যায়ে সঠিক জরিপ চালানো হোক। প্রকৃত জেলেদের সংখ্যা এবং বরাদ্দের পরিমাণের সাথে সমন্বয় করে কার্ডের সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করা হোক।

সম্ভব হলে ২১০০ জনেরই চালের ব্যবস্থা করা হোক, না হয় বরাদ্দ অনুযায়ী কার্ডের সংখ্যা নামিয়ে এনে বাকি কার্ড বাতিল করা হোক। অন্যথায় এই ত্রাণের চাল নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ভাবমূর্তি চরম সংকটে পড়বে।

এ বিষয়ে “২১০০ কার্ডের বিপরীতে মাত্র ৪৫০ জনের বরাদ্দ আসার বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।