০৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাট এর এক সাহসী নারীর জীবনের গল্প

বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : ০১:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
  • / ৬৩০ Time View

লালমনিরহাট সদর উপজেলার হিরামানিক গ্রামে জন্ম নেওয়া আশামনি, যিনি আজ সবার কাছে প্রিন্সেস আশা নামেই পরিচিত, এখন শুধু লালমনিরহাটেই নয়—দেশের বিভিন্ন জেলাতেও নিজের পরিচিতি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। ২০২১ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও থেমে থাকেনি তার স্বপ্ন দেখা, কিংবা তা বাস্তবায়নের অদম্য প্রচেষ্টা। বর্তমানে তিনি লালমনিরহাট সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগের ছাত্রী হিসেবে অধ্যয়ন করছেন। তার সততা, সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তিনি সহজেই মানুষের মন জয় করতে পারেন। এই গুণগুলোর মাধ্যমে তিনি পরিচিত হন এসবি মোটর সেল বাজার-এর পরিচালক সোহাগ সরদারের সঙ্গে। সোহাগ সরদারের কাছে নিজের স্বপ্নের কথা খুলে বলেন তিনি। তার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস দেখে সোহাগ সরদার তাকে মিডিয়ায় কাজ করার সুযোগ করে দেন। এই সুযোগই প্রিন্সেস আশার মিডিয়াজগতে পথচলার প্রথম সিঁড়ি হয়ে দাঁড়ায়।

প্রথম দিকে তিনি বিভিন্ন সংবাদ চ্যানেলে ভয়েস ওভার করতেন। তার কণ্ঠের দৃঢ়তা ও আন্তরিকতা নজর কাড়ে সংবাদ মাধ্যমের কর্তৃপক্ষের। ফলে বিভিন্ন চ্যানেল থেকে একে একে কাজের প্রস্তাব আসতে থাকে। এরপর তিনি ভিডিও ফুটেজ সংবাদ উপস্থাপনাও শুরু করেন এবং দ্রুতই দর্শকের মনোযোগ কাড়েন। তবে তার কাজ শুধু সংবাদ উপস্থাপনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস নেওয়া শুরু করেন। তার বাংলা ক্লাসগুলো শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশেষ সাড়া ফেলায় অল্প সময়েই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী তার বাংলা কোর্সে ভর্তি হতে শুরু করে।
প্রিন্সেস আশার কবিতা ও ছোটগল্প বিভিন্ন সাহিত্য ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে এবং ইতোমধ্যে তার লেখা কয়েকটি যৌথ কাব্যগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্যজগতে তার স্বকীয়তা ও শক্তিশালী কলমের জন্য তিনি অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত হয়েছেন। দেশের অনেক প্রখ্যাত কবিও তার লেখায় মুগ্ধ হয়ে তাকে নানা উপহার পাঠিয়েছেন।

তাকে কখনো সাংবাদিক, কখনো কবি, কখনো লেখক, আবার কখনো শিক্ষক বলেও সম্বোধন করতে শোনা যায় বর্তমান একটি অনুসন্ধানমূলক জাতীয় পত্রিকা শিবসা সংবাদ এ সহকারি বার্তা সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন করছেন— প্রতিটি পরিচয়েই তিনি নিজেকে সাবলীলভাবে প্রমাণ করেছেন।

তিনি বিয়ের পরেও এত কিছু করতে গিয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে প্রিন্সেস আশা বলেন, “বিয়ের আগ থেকেই অনেক নেতিবাচক মন্তব্য শুনে আসছি, এখনও শুনতে হয়। কিন্তু এসব আমাকে দমাতে পারেনি, আমি বিচলিত হই না। বরং আমার স্বামী আমাকে যথেষ্ট সাপোর্ট করেন, যা আমার স্বপ্নপূরণে অনেক বড় শক্তি।”তিনি আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, ধৈর্য্য, অধ্যবসায়, পরিশ্রম আর সততা—এই চারটি গুণকে ধারণ করতে পারলে সফলতা একদিন ধরা দেবেই।”জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি হাসিমুখে বলেন, “যেদিন মিডিয়ায় দাঁড়িয়ে বলবো—‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে’, সেদিনই সবাই বুঝে যাবে, এটাই ছিলো আমার স্বপ্ন।”

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

লালমনিরহাট এর এক সাহসী নারীর জীবনের গল্প

Update Time : ০১:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫

লালমনিরহাট সদর উপজেলার হিরামানিক গ্রামে জন্ম নেওয়া আশামনি, যিনি আজ সবার কাছে প্রিন্সেস আশা নামেই পরিচিত, এখন শুধু লালমনিরহাটেই নয়—দেশের বিভিন্ন জেলাতেও নিজের পরিচিতি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। ২০২১ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও থেমে থাকেনি তার স্বপ্ন দেখা, কিংবা তা বাস্তবায়নের অদম্য প্রচেষ্টা। বর্তমানে তিনি লালমনিরহাট সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগের ছাত্রী হিসেবে অধ্যয়ন করছেন। তার সততা, সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তিনি সহজেই মানুষের মন জয় করতে পারেন। এই গুণগুলোর মাধ্যমে তিনি পরিচিত হন এসবি মোটর সেল বাজার-এর পরিচালক সোহাগ সরদারের সঙ্গে। সোহাগ সরদারের কাছে নিজের স্বপ্নের কথা খুলে বলেন তিনি। তার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস দেখে সোহাগ সরদার তাকে মিডিয়ায় কাজ করার সুযোগ করে দেন। এই সুযোগই প্রিন্সেস আশার মিডিয়াজগতে পথচলার প্রথম সিঁড়ি হয়ে দাঁড়ায়।

প্রথম দিকে তিনি বিভিন্ন সংবাদ চ্যানেলে ভয়েস ওভার করতেন। তার কণ্ঠের দৃঢ়তা ও আন্তরিকতা নজর কাড়ে সংবাদ মাধ্যমের কর্তৃপক্ষের। ফলে বিভিন্ন চ্যানেল থেকে একে একে কাজের প্রস্তাব আসতে থাকে। এরপর তিনি ভিডিও ফুটেজ সংবাদ উপস্থাপনাও শুরু করেন এবং দ্রুতই দর্শকের মনোযোগ কাড়েন। তবে তার কাজ শুধু সংবাদ উপস্থাপনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস নেওয়া শুরু করেন। তার বাংলা ক্লাসগুলো শিক্ষার্থীদের মাঝে বিশেষ সাড়া ফেলায় অল্প সময়েই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী তার বাংলা কোর্সে ভর্তি হতে শুরু করে।
প্রিন্সেস আশার কবিতা ও ছোটগল্প বিভিন্ন সাহিত্য ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে এবং ইতোমধ্যে তার লেখা কয়েকটি যৌথ কাব্যগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্যজগতে তার স্বকীয়তা ও শক্তিশালী কলমের জন্য তিনি অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত হয়েছেন। দেশের অনেক প্রখ্যাত কবিও তার লেখায় মুগ্ধ হয়ে তাকে নানা উপহার পাঠিয়েছেন।

তাকে কখনো সাংবাদিক, কখনো কবি, কখনো লেখক, আবার কখনো শিক্ষক বলেও সম্বোধন করতে শোনা যায় বর্তমান একটি অনুসন্ধানমূলক জাতীয় পত্রিকা শিবসা সংবাদ এ সহকারি বার্তা সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন করছেন— প্রতিটি পরিচয়েই তিনি নিজেকে সাবলীলভাবে প্রমাণ করেছেন।

তিনি বিয়ের পরেও এত কিছু করতে গিয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নে প্রিন্সেস আশা বলেন, “বিয়ের আগ থেকেই অনেক নেতিবাচক মন্তব্য শুনে আসছি, এখনও শুনতে হয়। কিন্তু এসব আমাকে দমাতে পারেনি, আমি বিচলিত হই না। বরং আমার স্বামী আমাকে যথেষ্ট সাপোর্ট করেন, যা আমার স্বপ্নপূরণে অনেক বড় শক্তি।”তিনি আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, ধৈর্য্য, অধ্যবসায়, পরিশ্রম আর সততা—এই চারটি গুণকে ধারণ করতে পারলে সফলতা একদিন ধরা দেবেই।”জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি হাসিমুখে বলেন, “যেদিন মিডিয়ায় দাঁড়িয়ে বলবো—‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে’, সেদিনই সবাই বুঝে যাবে, এটাই ছিলো আমার স্বপ্ন।”