০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরের ঝিকরগাছায় কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু 

ঝিকরগাছা প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৮:২৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২২ Time View

 

যশোরের ঝিকরগাছার

পল্লীতে ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া সাদিয়া আক্তার (১৩)নামের এক কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে।

স্বজনদের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ঝিকরগাছা থানার পুলিশ হুমায়ুন কবির (৩০)নামে সন্দেহ ভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিহত কিশোরী সাদিয়া আক্তার উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের দেউলী গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক শহিদুল ইসলামের মেয়ে।

অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির নিহতের নিকট প্রতিবেশী আব্দুস সালাম ওরফে ভোলার ছেলে।

ঘটনাটি ঘটেছে, গত শুক্রবার (১৮সেপ্টেম্বর) বিকালে।

নিহতের মা মোছা: সালমা খাতুনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মাদকাসক্ত বখাটে যুবক

হুমায়ুন কবিরকে দেউলী গ্রামের বটতলা মোড় থেকে সোমবার রাতে (২১সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তার করে।

সাদিয়ার মায়ের দাবি, তার মেয়েকে পাশবিক নির্যাতন করে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি অভিযুক্তের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

নিহত সাদিয়া আক্তার দেওলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তো।

নিহতের মা সালমা খাতুন, পিতা শহিদুল ইসলামসহ আত্মীয়-স্বজন ও নিকট প্রতিবেশীদের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হয়।

নিহতের মা সালমা খাতুন ও বাবা শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, হুমায়ুন কবির তার মেয়েকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি তাদের কাছে প্রকাশ করেছিল মেয়ে সাদিয়া আক্তার। ঘটনার পাঁচ দিন আগেও সাদিয়ার হাতে কিছু একটা দিতে দেখেন তার মা। ফলে তার মা মেয়েকে সতর্ক করেছিল। ঘটনার দিন তার মা সালমা খাতুন মাঠে ঘাস কাটতে গেছিল। তার বাবা ভ্যান চালক শহিদুল ইসলাম তার চাচা হযরতের নার্সারি থেকে গাছের চারা নিয়ে মহেশপাড়া বাজারে গিয়েছিল। এসময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না।এ পর্যায়ে প্রতিবেশী রাজুর মেয়ে মিম(১০)প্রথমে সাদিয়ার ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। তার ডাকচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। এ পর্যায়ে বাড়ির আশপাশের মহিলাদের মাধ্যমে নিহতের চাচা মাসুম বিল্লাহ ও তাদের নিকট প্রতিবেশী আব্দুর রহিম সাদিয়া আক্তার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে মর্মে জানতে পারেন। তারা বিষয়টি জানতে পেরে সাদিয়ার বাবার মোবাইলে তার মেয়েকে ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থার কথা জানান।প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষূ অবস্থায় উদ্ধার করে বাগআঁচড়া বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে সাদিয়ার মৃত্যু ঘটেছে বলে জানানো হয়।

এ ব্যাপারে নিহতের দাদা শওকত গাজী,দাদি রফিকা বেগম, প্রতিবেশী মোস্তাফিজুর রহমান, নাজমুন নাহার বেগম, নেহাতের চাচা মাসুম বিল্লাহ, প্রতিবেশী আব্দুর রহিম, নিহতের ফুপু কাজল বেগম, প্রতিবেশী চাচা মুসা রাজের দাবি, অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির নিয়মিত গাঁজাসেবনের পাশাপাশি সব রকমের নেশায় আসক্ত ছিল। তার প্রথম স্ত্রীসহ দ্বিতীয় স্ত্রীকে একটি কন্যা সন্তান থাকা অবস্থায় তালাক দিয়েছে।

জানা যায়, খবর পেয়ে ঝিকরগাছা থানার পুলিশের উপ পরিদর্শ মুস্তাফিজুর রহমান লাশের সুরতাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। অতঃপর লাশ যশোর ২৫০শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। এ ব্যাপারে ঝিকরগাছা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করেন।

এদিকে এ ব্যাপারে ঝিকরগাছা থানা হাজতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে থাকা অভিযুক্তের কোন প্রকার বক্তব্য ছাড়াই ভিডিও ক্লিপ ধারণের অনুমতি চাইলে ডিউটি অফিসার এসআই ফিরোজ জানান, অফিসার ইনচার্জ ছুটিতে আছেন। ওসি তদন্ত বর্তমানে পুলিশ স্টেশনে নেই। তাদের অনুমতি ছাড়া ফুটেজ দেয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি নাভারন সার্কেল এএসপি আরিফের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টার পর তিনি ফোন রিসিভ করেন। কিন্তু, সাংবাদিকদের তথ্য দেয়া যাবে না বলে তিনি জানিয়ে দেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

যশোরের ঝিকরগাছায় কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু 

Update Time : ০৮:২৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

যশোরের ঝিকরগাছার

পল্লীতে ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া সাদিয়া আক্তার (১৩)নামের এক কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে।

স্বজনদের অভিযোগ, তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ঝিকরগাছা থানার পুলিশ হুমায়ুন কবির (৩০)নামে সন্দেহ ভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিহত কিশোরী সাদিয়া আক্তার উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের দেউলী গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক শহিদুল ইসলামের মেয়ে।

অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির নিহতের নিকট প্রতিবেশী আব্দুস সালাম ওরফে ভোলার ছেলে।

ঘটনাটি ঘটেছে, গত শুক্রবার (১৮সেপ্টেম্বর) বিকালে।

নিহতের মা মোছা: সালমা খাতুনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মাদকাসক্ত বখাটে যুবক

হুমায়ুন কবিরকে দেউলী গ্রামের বটতলা মোড় থেকে সোমবার রাতে (২১সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তার করে।

সাদিয়ার মায়ের দাবি, তার মেয়েকে পাশবিক নির্যাতন করে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি অভিযুক্তের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

নিহত সাদিয়া আক্তার দেওলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তো।

নিহতের মা সালমা খাতুন, পিতা শহিদুল ইসলামসহ আত্মীয়-স্বজন ও নিকট প্রতিবেশীদের সাথে এ প্রতিবেদকের কথা হয়।

নিহতের মা সালমা খাতুন ও বাবা শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, হুমায়ুন কবির তার মেয়েকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি তাদের কাছে প্রকাশ করেছিল মেয়ে সাদিয়া আক্তার। ঘটনার পাঁচ দিন আগেও সাদিয়ার হাতে কিছু একটা দিতে দেখেন তার মা। ফলে তার মা মেয়েকে সতর্ক করেছিল। ঘটনার দিন তার মা সালমা খাতুন মাঠে ঘাস কাটতে গেছিল। তার বাবা ভ্যান চালক শহিদুল ইসলাম তার চাচা হযরতের নার্সারি থেকে গাছের চারা নিয়ে মহেশপাড়া বাজারে গিয়েছিল। এসময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না।এ পর্যায়ে প্রতিবেশী রাজুর মেয়ে মিম(১০)প্রথমে সাদিয়ার ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। তার ডাকচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। এ পর্যায়ে বাড়ির আশপাশের মহিলাদের মাধ্যমে নিহতের চাচা মাসুম বিল্লাহ ও তাদের নিকট প্রতিবেশী আব্দুর রহিম সাদিয়া আক্তার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে মর্মে জানতে পারেন। তারা বিষয়টি জানতে পেরে সাদিয়ার বাবার মোবাইলে তার মেয়েকে ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থার কথা জানান।প্রতিবেশীরা তাকে মুমূর্ষূ অবস্থায় উদ্ধার করে বাগআঁচড়া বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে সাদিয়ার মৃত্যু ঘটেছে বলে জানানো হয়।

এ ব্যাপারে নিহতের দাদা শওকত গাজী,দাদি রফিকা বেগম, প্রতিবেশী মোস্তাফিজুর রহমান, নাজমুন নাহার বেগম, নেহাতের চাচা মাসুম বিল্লাহ, প্রতিবেশী আব্দুর রহিম, নিহতের ফুপু কাজল বেগম, প্রতিবেশী চাচা মুসা রাজের দাবি, অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির নিয়মিত গাঁজাসেবনের পাশাপাশি সব রকমের নেশায় আসক্ত ছিল। তার প্রথম স্ত্রীসহ দ্বিতীয় স্ত্রীকে একটি কন্যা সন্তান থাকা অবস্থায় তালাক দিয়েছে।

জানা যায়, খবর পেয়ে ঝিকরগাছা থানার পুলিশের উপ পরিদর্শ মুস্তাফিজুর রহমান লাশের সুরতাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। অতঃপর লাশ যশোর ২৫০শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। এ ব্যাপারে ঝিকরগাছা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করেন।

এদিকে এ ব্যাপারে ঝিকরগাছা থানা হাজতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে থাকা অভিযুক্তের কোন প্রকার বক্তব্য ছাড়াই ভিডিও ক্লিপ ধারণের অনুমতি চাইলে ডিউটি অফিসার এসআই ফিরোজ জানান, অফিসার ইনচার্জ ছুটিতে আছেন। ওসি তদন্ত বর্তমানে পুলিশ স্টেশনে নেই। তাদের অনুমতি ছাড়া ফুটেজ দেয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি নাভারন সার্কেল এএসপি আরিফের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টার পর তিনি ফোন রিসিভ করেন। কিন্তু, সাংবাদিকদের তথ্য দেয়া যাবে না বলে তিনি জানিয়ে দেন।