বদলগাছীতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিএড সনদ ও স্কেল গ্রহণের অভিযোগ
- Update Time : ০৫:১৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
- / ২৮৬ Time View

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ধর্মপুর গোয়ালভিটা হোসেনিয়া আলিম মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মমতাজ আরা’র বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিএড প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং পরবর্তীতে সেই সনদে বিএড স্কেল গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। তার স্কেল প্রাপ্তি প্রক্রিয়ায় রেজুলেশন ও অনুমতির ঘাটতি থাকায় এলাকায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষক মমতাজ আরা ২০১৫ সালের ২৫ নভেম্বর উক্ত মাদ্রাসায় নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং ২০১৬ সালের ১ মে থেকে এমপিওভুক্ত হন। ২০২১ সালে তিনি জয়পুরহাট বিএড কলেজ থেকে বিএড সনদ গ্রহণ করেন, তবে তা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ওই সনদ দিয়ে বিএড স্কেল প্রাপ্তির আবেদন করেন।
মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “তিনি (মমতাজ আরা) প্রশিক্ষণের জন্য ছুটি নেননি। যখন স্কেল প্রাপ্তির জন্য আবেদন করেন, আমি তা অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানাই। পরে অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে আমাকে অনুরোধ করেন। তিনি ভুল স্বীকার করে একটি অঙ্গীকারনামা দেন, যেখানে উল্লেখ করেন—এই স্কেল অবৈধ হলে তিনি নিজেই অর্থ ফেরত দেবেন এবং দায়ভার গ্রহণ করবেন। এরপর আমি তার স্কেল অনুমোদনের ব্যবস্থা করি।”
অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ আছে, “করোনা মহামারীর সময় প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনুমতি না নিয়েই বিএড কোর্স করেছি, এটা আমার ভুল হয়েছে। স্কেল গ্রহণ অবৈধ প্রমাণিত হলে সমস্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেব এবং দায়ভার এককভাবে গ্রহণ করব।”
বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেওয়ান আমানুল্লাহ বলেন, “আমরা শিক্ষকরা সম্মিলিতভাবে অধ্যক্ষকে স্কেল দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর দেখি—রেজুলেশন বইয়ে শুধু মমতাজ আরার বিএড প্রশিক্ষণ অনুমতির একটি রেজুলেশনই রয়েছে, অন্য কোনো রেজুলেশন নেই।”
অভিযুক্ত শিক্ষক মমতাজ আরা বলেন, “আমি সত্যিই প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই কোর্স করেছি। পরে স্কেলও গ্রহণ করেছি। এটা সঠিক হয়েছে কিনা, তা আমি জানি না।”
বিষয়টি নিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিএড প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং সেই সনদে স্কেল নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও শিক্ষানুরাগীদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিধি বহির্ভূতভাবে সরকারি সুবিধা গ্রহণের এমন নজির অনুশাসনের জন্য হুমকি হতে পারে। তদন্তপূর্বক সুষ্ঠু সিদ্ধান্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।





















