১২:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাঁশখালী নিখোঁজ হওয়া ৭ শিশুর মায়ের চোখে অশ্রু থামালো বাঁশখালী থানা পুলিশ, নিরাপদে ফিরল সাত শিশু 

মোঃ মিজান চট্টগ্রাম ( প্রতিনিধি)
  • Update Time : ০৫:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ২০৬ Time View

 

বাঁশখালী সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ৭ জন শিশু গতকাল (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকালের দিকে বাঁশখালী পৌরসভা এলাকায় থেকে এডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। নির্ধারিত সময়ে বাড়ি না ফেরায় তাদের পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

শিশুদের নিখোঁজ সংবাদ পাওয়া মাত্রই জেলা পুলিশ সুপার এর নির্দেশে বাঁশখালী থানা পুলিশ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। অফিসার ইনচার্জ জনাব সাইফুল ইসলাম ও থানার ফোর্সসহ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং থানা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেন।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিশুরা মিয়ার বাজার থেকে ইজি বাইকে উত্তর দিকে যাচ্ছে, তবে চেচুরিয়া এলাকায় আর দেখা যায়নি। পুলিশ ধারণা করে, তারা পাহাড়ি পথে প্রবেশ করেছে এবং পথ হারিয়ে গহীন জঙ্গলে আটকে গেছে।

পুলিশ ছয়টি সার্চ টিম তৈরি করে পাহাড়ি অঞ্চল, জঙ্গল ও দুর্গম পথগুলোতে অনুসন্ধান চালায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকাবাসী ও অভিভাবকগণ পুলিশের তত্ত্বাবধানে যৌথভাবে অনুসন্ধানে অংশগ্রহণ করেন

এই তৎপরতার মাধ্যমে আজ (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ০৬:৩০ ঘটিকার সময় ডাকভাঙ্গা পাহাড় হতে সাতজন শিশু সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং তাদের অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ইতোমধ্যে পুলিশ সুপার উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

উদ্ধারকৃত শিশুরা হলো,( ১)আবরার উদ্দীন ইশরাক (১১), পিতা- সালাউদ্দিন ওয়াশিম,( ২)মাহাতাফ মঞ্জুর চৌধুরী (১১), পিতা- মোঃ মঞ্জুর আলম চৌধুরী,( ৩) কৃতশিক দাশ স্বপ্নীল (১২), পিতা- শিব শংকর দাস,(৪) মোহাম্মদ জিনান (১১), পিতা- মোহাম্মদ ইউনুস,( ৫) মোহাম্মদ বিন মাহমুদ (১১), পিতা-মাহমুদুল ইসলাম,( ৬) আকতার (১২), পিতা- আবুল কাশেম ও( ৭)মোঃ সাইদ (১২), পিতা- আমির হোসেন।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শিশুরা বন্ধুবান্ধব মিলে পাহাড়ে প্রবেশ করে এবং রাতভর পাহাড়ে অবস্থান করেছিল। ভোরের আলো দেখা দিলে তারা পাহাড়ের রাস্তা ধরে পুনরায় অলি মিয়ার দোকান হয়ে থানায় ফিরে আসে।

এই বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শিক্ষক ও অভিভাবকদের নির্দেশনা উল্লেখিত
১. শিশুদের একা দুর্গম এলাকা বা পাহাড়ে যেতে নিরুৎসাহিত করুন।
২. শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় শেষে নিরাপদে বাড়ি ফেরার বিষয়ে নজর দিন।
৩. শিশুদের মোবাইল ফোন বা পরিচয়পত্র বহনে উৎসাহিত করুন।
৪. অচেনা ব্যক্তি বা যানবাহনের সাথে শিশুদের যাতায়াত এড়িয়ে চলতে নির্দেশ দিন।
৫. অভিভাবক ও শিক্ষকরা নিয়মিতভাবে শিশুদের সাথে নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করুন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু বিপিএম-বার বলেন – “শিশুদের নিরাপত্তা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। বাঁশখালী থানার পুলিশ অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনা করে শিশুদের নিরাপদে উদ্ধার করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।”

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বদা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অব্যাহত রাখবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বাঁশখালী নিখোঁজ হওয়া ৭ শিশুর মায়ের চোখে অশ্রু থামালো বাঁশখালী থানা পুলিশ, নিরাপদে ফিরল সাত শিশু 

Update Time : ০৫:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

বাঁশখালী সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ৭ জন শিশু গতকাল (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকালের দিকে বাঁশখালী পৌরসভা এলাকায় থেকে এডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। নির্ধারিত সময়ে বাড়ি না ফেরায় তাদের পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

শিশুদের নিখোঁজ সংবাদ পাওয়া মাত্রই জেলা পুলিশ সুপার এর নির্দেশে বাঁশখালী থানা পুলিশ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। অফিসার ইনচার্জ জনাব সাইফুল ইসলাম ও থানার ফোর্সসহ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং থানা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেন।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিশুরা মিয়ার বাজার থেকে ইজি বাইকে উত্তর দিকে যাচ্ছে, তবে চেচুরিয়া এলাকায় আর দেখা যায়নি। পুলিশ ধারণা করে, তারা পাহাড়ি পথে প্রবেশ করেছে এবং পথ হারিয়ে গহীন জঙ্গলে আটকে গেছে।

পুলিশ ছয়টি সার্চ টিম তৈরি করে পাহাড়ি অঞ্চল, জঙ্গল ও দুর্গম পথগুলোতে অনুসন্ধান চালায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকাবাসী ও অভিভাবকগণ পুলিশের তত্ত্বাবধানে যৌথভাবে অনুসন্ধানে অংশগ্রহণ করেন

এই তৎপরতার মাধ্যমে আজ (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ০৬:৩০ ঘটিকার সময় ডাকভাঙ্গা পাহাড় হতে সাতজন শিশু সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং তাদের অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ইতোমধ্যে পুলিশ সুপার উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

উদ্ধারকৃত শিশুরা হলো,( ১)আবরার উদ্দীন ইশরাক (১১), পিতা- সালাউদ্দিন ওয়াশিম,( ২)মাহাতাফ মঞ্জুর চৌধুরী (১১), পিতা- মোঃ মঞ্জুর আলম চৌধুরী,( ৩) কৃতশিক দাশ স্বপ্নীল (১২), পিতা- শিব শংকর দাস,(৪) মোহাম্মদ জিনান (১১), পিতা- মোহাম্মদ ইউনুস,( ৫) মোহাম্মদ বিন মাহমুদ (১১), পিতা-মাহমুদুল ইসলাম,( ৬) আকতার (১২), পিতা- আবুল কাশেম ও( ৭)মোঃ সাইদ (১২), পিতা- আমির হোসেন।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শিশুরা বন্ধুবান্ধব মিলে পাহাড়ে প্রবেশ করে এবং রাতভর পাহাড়ে অবস্থান করেছিল। ভোরের আলো দেখা দিলে তারা পাহাড়ের রাস্তা ধরে পুনরায় অলি মিয়ার দোকান হয়ে থানায় ফিরে আসে।

এই বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শিক্ষক ও অভিভাবকদের নির্দেশনা উল্লেখিত
১. শিশুদের একা দুর্গম এলাকা বা পাহাড়ে যেতে নিরুৎসাহিত করুন।
২. শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় শেষে নিরাপদে বাড়ি ফেরার বিষয়ে নজর দিন।
৩. শিশুদের মোবাইল ফোন বা পরিচয়পত্র বহনে উৎসাহিত করুন।
৪. অচেনা ব্যক্তি বা যানবাহনের সাথে শিশুদের যাতায়াত এড়িয়ে চলতে নির্দেশ দিন।
৫. অভিভাবক ও শিক্ষকরা নিয়মিতভাবে শিশুদের সাথে নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করুন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম সানতু বিপিএম-বার বলেন – “শিশুদের নিরাপত্তা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। বাঁশখালী থানার পুলিশ অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনা করে শিশুদের নিরাপদে উদ্ধার করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।”

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বদা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অব্যাহত রাখবে।