০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুগঞ্জে ওজনে কম ও ভেজাল ওষুধ বিক্রি: অভিযানে ৪ প্রতিষ্ঠান জরিমানা

নওশাদ ভুইয়া জেলা প্রতিনিধী ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  • Update Time : ১০:১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • / ১১০ Time View

 

৩ মার্চ, ২০২৬ আশুগঞ্জের তালশহর বাজারে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা আর স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার মহোৎসব থামিয়ে দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিনভর চালানো এক ঝটিকা অভিযানে উঠে এসেছে প্রতারণার ভয়ংকর সব চিত্র। কাপড়ের মাপে চুরি থেকে শুরু করে ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ—কোনো কিছুই বাদ রাখেনি অসাধু সিন্ডিকেট।

অপারেশন ‘তালশহর’: কার কী অপরাধ?

অভিযান চলাকালীন প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে ধরা পড়ে চার প্রতিষ্ঠানের চরম অনিয়ম। যার সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:

কাপড়ের মাপে বিষফোঁড়া: ‘তাওহিদ কাপড় বিতান’-এ সহজ-সরল ক্রেতাদের মাপে কম দিয়ে আসছিলেন মালিক বাচ্চু মিয়া। হাতেনাতে প্রমাণ মেলায় তাকে ৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

নোংরা পরিবেশে বিষাক্ত খাবার: ‘প্রিন্স বেকারি’র চিত্র ছিল আরও ভয়াবহ। মেয়াদহীন এবং ঠিকানাহীন নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছিল খাদ্যপণ্য। জনস্বাস্থ্যের হুমকির দায়ে মনির নামের ওই অসাধু ব্যবসায়ীকে ৭,০০০ টাকা গুণতে হয়েছে।

ঔষধের নামে মরণফাঁদ: সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা দেখা গেছে ‘জহির মেডিকেল’-এ। জীবন রক্ষাকারী ঔষধের বদলে সেখানে বিক্রি হচ্ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ বিষ। মরণফাঁদ পাতার অপরাধে জহিরুল ইসলামকে ২,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

অদৃশ্য মূল্য তালিকা: ইচ্ছেমতো দাম হাঁকানোর ফন্দি এঁটেছিলেন ‘আশিক শুটকি’র মালিক। মূল্য তালিকা না রাখায় তাকে ১,০০০ টাকা জরিমানা দিয়ে পার পেতে হয়।

“এসব রক্তচোষা ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় নেই। সাধারণ মানুষের জীবন আর স্বাস্থ্য নিয়ে যারা খেলবে, তাদের মুখোশ আমরা এভাবেই খুলে দেব।” — সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া।

প্রশাসনের হুঁশিয়ারি

ভোক্তা অধিকারের এই অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বিপরীতে স্বস্তি ফিরে এসেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এই ধরনের অনুসন্ধানী অভিযান এবং ঝটিকা হানা নিয়মিত চলবে। কোনো অসাধু চক্রকেই রেহাই দেওয়া হবে না।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

আশুগঞ্জে ওজনে কম ও ভেজাল ওষুধ বিক্রি: অভিযানে ৪ প্রতিষ্ঠান জরিমানা

Update Time : ১০:১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

 

৩ মার্চ, ২০২৬ আশুগঞ্জের তালশহর বাজারে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা আর স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার মহোৎসব থামিয়ে দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিনভর চালানো এক ঝটিকা অভিযানে উঠে এসেছে প্রতারণার ভয়ংকর সব চিত্র। কাপড়ের মাপে চুরি থেকে শুরু করে ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ—কোনো কিছুই বাদ রাখেনি অসাধু সিন্ডিকেট।

অপারেশন ‘তালশহর’: কার কী অপরাধ?

অভিযান চলাকালীন প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে ধরা পড়ে চার প্রতিষ্ঠানের চরম অনিয়ম। যার সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:

কাপড়ের মাপে বিষফোঁড়া: ‘তাওহিদ কাপড় বিতান’-এ সহজ-সরল ক্রেতাদের মাপে কম দিয়ে আসছিলেন মালিক বাচ্চু মিয়া। হাতেনাতে প্রমাণ মেলায় তাকে ৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

নোংরা পরিবেশে বিষাক্ত খাবার: ‘প্রিন্স বেকারি’র চিত্র ছিল আরও ভয়াবহ। মেয়াদহীন এবং ঠিকানাহীন নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছিল খাদ্যপণ্য। জনস্বাস্থ্যের হুমকির দায়ে মনির নামের ওই অসাধু ব্যবসায়ীকে ৭,০০০ টাকা গুণতে হয়েছে।

ঔষধের নামে মরণফাঁদ: সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা দেখা গেছে ‘জহির মেডিকেল’-এ। জীবন রক্ষাকারী ঔষধের বদলে সেখানে বিক্রি হচ্ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ বিষ। মরণফাঁদ পাতার অপরাধে জহিরুল ইসলামকে ২,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

অদৃশ্য মূল্য তালিকা: ইচ্ছেমতো দাম হাঁকানোর ফন্দি এঁটেছিলেন ‘আশিক শুটকি’র মালিক। মূল্য তালিকা না রাখায় তাকে ১,০০০ টাকা জরিমানা দিয়ে পার পেতে হয়।

“এসব রক্তচোষা ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় নেই। সাধারণ মানুষের জীবন আর স্বাস্থ্য নিয়ে যারা খেলবে, তাদের মুখোশ আমরা এভাবেই খুলে দেব।” — সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া।

প্রশাসনের হুঁশিয়ারি

ভোক্তা অধিকারের এই অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বিপরীতে স্বস্তি ফিরে এসেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এই ধরনের অনুসন্ধানী অভিযান এবং ঝটিকা হানা নিয়মিত চলবে। কোনো অসাধু চক্রকেই রেহাই দেওয়া হবে না।