১২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিকরগাছায় প্রতিবন্ধী তরুণীর ধর্ষণকারি মামলার আসামি গ্রেফতার

ঝিকরগাছা পতিনিধি 
  • Update Time : ০৫:৫৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / ৩৬ Time View

 

যশোরের ঝিকরগাছায় বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার একমাত্র আসামি কথিত কবিরাজ আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৫ মে) মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঝিকরগাছা থানায় নিয়ে আসা হয়।

 

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে এসআই পলাশ দাস ও এসআই তাপস কুমার রায়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল টানা দুই দিন অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

 

ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজালাল আলম জানান, বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণ ও সন্তান প্রসবের বিষয়টি জানার পর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে গত ১২ মে সরাসরি ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান এবং প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরই অভিযুক্ত আব্দুর রহমান বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

 

তিনি আরও জানান, তদন্তে জানা যায়, ১২ মে রাতে অভিযুক্ত নাভারনে অবস্থান করে এবং পরদিন সকালে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার জামাইবাড়িতে আত্মগোপন করে। এ সময় সে নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে নতুন একটি বাটন ফোন ব্যবহার করছিল এবং জামাইয়ের সিম ব্যবহার করছিল। পুলিশ আরও জানতে পারে, সে সৌদি আরবে অবস্থানরত ছেলের কাছে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করছিল।

 

ওসি শাহজালাল আলম বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আদালতে আসামির ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করা হবে।”

 

আসামি গ্রেফতারের খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। তারা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আমরা চাই নিষ্পাপ শিশুটি তার পিতার পরিচয় পাক এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক।”

 

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে কোনো একসময় পান খাওয়ানো ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কথিত কবিরাজ ও ইমাম আব্দুর রহমান নিজ বাড়িতে ওই বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। কয়েক মাস পর তরুণীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি গর্ভবতী বলে জানতে পারেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী পরিবারের সদস্যদের জানান, “হুজুর” তার সঙ্গে খারাপ কাজ করেছে।

 

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিস হলেও প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গর্ভপাতের পরামর্শ দেয় এবং মামলা না করতে ভয়ভীতি দেখায়। পরে গত ১৯ মার্চ ২০২৬ তরুণী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।

 

ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে ঝিকরগাছার ঐতিহ্যবাহী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “সেবা”র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মাষ্টার আশরাফুজ্জামান বাবু, নাগরিক টিভির যশোর জেলা প্রতিনিধি খন্দকার তরিকুল ইসলাম এবং দৈনিক রানার পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ওবায়েদ সামি ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করেন এবং বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তারা ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলে ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য আইনি সহায়তা চান। এরই প্রেক্ষিতে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ঝিকরগাছায় প্রতিবন্ধী তরুণীর ধর্ষণকারি মামলার আসামি গ্রেফতার

Update Time : ০৫:৫৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

 

যশোরের ঝিকরগাছায় বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার একমাত্র আসামি কথিত কবিরাজ আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৫ মে) মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঝিকরগাছা থানায় নিয়ে আসা হয়।

 

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে এসআই পলাশ দাস ও এসআই তাপস কুমার রায়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল টানা দুই দিন অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

 

ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজালাল আলম জানান, বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণ ও সন্তান প্রসবের বিষয়টি জানার পর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে গত ১২ মে সরাসরি ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান এবং প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরই অভিযুক্ত আব্দুর রহমান বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

 

তিনি আরও জানান, তদন্তে জানা যায়, ১২ মে রাতে অভিযুক্ত নাভারনে অবস্থান করে এবং পরদিন সকালে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার জামাইবাড়িতে আত্মগোপন করে। এ সময় সে নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে নতুন একটি বাটন ফোন ব্যবহার করছিল এবং জামাইয়ের সিম ব্যবহার করছিল। পুলিশ আরও জানতে পারে, সে সৌদি আরবে অবস্থানরত ছেলের কাছে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করছিল।

 

ওসি শাহজালাল আলম বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আদালতে আসামির ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করা হবে।”

 

আসামি গ্রেফতারের খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। তারা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আমরা চাই নিষ্পাপ শিশুটি তার পিতার পরিচয় পাক এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক।”

 

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে কোনো একসময় পান খাওয়ানো ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কথিত কবিরাজ ও ইমাম আব্দুর রহমান নিজ বাড়িতে ওই বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। কয়েক মাস পর তরুণীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তিনি গর্ভবতী বলে জানতে পারেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী পরিবারের সদস্যদের জানান, “হুজুর” তার সঙ্গে খারাপ কাজ করেছে।

 

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিস হলেও প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গর্ভপাতের পরামর্শ দেয় এবং মামলা না করতে ভয়ভীতি দেখায়। পরে গত ১৯ মার্চ ২০২৬ তরুণী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।

 

ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে ঝিকরগাছার ঐতিহ্যবাহী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “সেবা”র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মাষ্টার আশরাফুজ্জামান বাবু, নাগরিক টিভির যশোর জেলা প্রতিনিধি খন্দকার তরিকুল ইসলাম এবং দৈনিক রানার পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ওবায়েদ সামি ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করেন এবং বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তারা ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলে ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য আইনি সহায়তা চান। এরই প্রেক্ষিতে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে।