১২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‎সুন্দরবনে বনদস্যুদের কবল থেকে জিম্মি ২১ জেলে উদ্ধার

‎ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট
  • Update Time : ০৫:৫৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • / ৪৪ Time View

 

‎পূর্ব সুন্দরবন থেকে বনদস্যু ‘বড় জাহাঙ্গীর’ ও ‘দয়াল’ বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ২১ জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড।

‎শুক্রবার (২২ মে) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

‎কোস্ট গার্ড জানায়, খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার জেলেরা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের গভীরে প্রবেশ করলে দয়াল বাহিনীর সদস্যরা ফিরিঙ্গি খাল ও কুনচিরখাল সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, জিম্মিকৃত জেলেদের নিয়ে দয়াল বাহিনীর সদস্যরা কয়রা থানার আন্দারমানিকের টোটা ও কেওড়াতলা খাল এলাকায় অবস্থান করছে।

‎এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা বনের ভেতরে পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে দয়াল বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ১০ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

‎অন্যদিকে কোস্ট গার্ড ও র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, কুখ্যাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানার সুন্দরবনের শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খাল এলাকায় অবস্থান করছে। এর ভিত্তিতে একই দিন বিকেল ৫টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা সেখানে আরেকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

‎অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা আভিযানিক দলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে ডাকাতরা বনের গভীরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও এক রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা আরও ১১ জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

‎লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

‎তিনি বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

‎সুন্দরবনে বনদস্যুদের কবল থেকে জিম্মি ২১ জেলে উদ্ধার

Update Time : ০৫:৫৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

 

‎পূর্ব সুন্দরবন থেকে বনদস্যু ‘বড় জাহাঙ্গীর’ ও ‘দয়াল’ বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ২১ জেলেকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড।

‎শুক্রবার (২২ মে) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

‎কোস্ট গার্ড জানায়, খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার জেলেরা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনের গভীরে প্রবেশ করলে দয়াল বাহিনীর সদস্যরা ফিরিঙ্গি খাল ও কুনচিরখাল সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, জিম্মিকৃত জেলেদের নিয়ে দয়াল বাহিনীর সদস্যরা কয়রা থানার আন্দারমানিকের টোটা ও কেওড়াতলা খাল এলাকায় অবস্থান করছে।

‎এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২১ মে) ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা বনের ভেতরে পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে দয়াল বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ১০ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।

‎অন্যদিকে কোস্ট গার্ড ও র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, কুখ্যাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ থানার সুন্দরবনের শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খাল এলাকায় অবস্থান করছে। এর ভিত্তিতে একই দিন বিকেল ৫টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা সেখানে আরেকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

‎অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা আভিযানিক দলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে ডাকাতরা বনের গভীরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও এক রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা আরও ১১ জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

‎লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

‎তিনি বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।