নওগাঁয় ইসলামি ফাউন্ডেশনের শিক্ষক-কর্মচারীদের মানববন্ধন
- Update Time : ০৯:২১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫
- / ২১১ Time View

ঈদের আগেই বকেয়া পরিশোধ ও রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির দাবি
ইসলামি ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৮ম পর্যায়)’ প্রকল্পের দ্রুত অনুমোদন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং প্রকল্পের জনবলকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে নওগাঁয় মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকাল ১১টায় নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় কেন্দ্রীয় মডেল মসজিদের সামনে শিক্ষক, কেয়ারটেকার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন পালিত হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন জেলা ইসলামি ফাউন্ডেশনের মাঠকর্মী মাওলানা তৌফিকুর রহমান। বক্তব্য রাখেন পুলিশ লাইন মসজিদের শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, সরকারি শিশু পরিবারের শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, পত্নীতলা উপজেলার মডেল কেয়ারটেকার মাওলানা ওমর ফারুক, রানীনগর উপজেলার সহজ কুরআন শিক্ষা শিক্ষক মাওলানা রুহুল কুদ্দুস এবং মহাদেবপুর উপজেলার কেয়ারটেকার শিক্ষক মাওলানা আব্দুল মতিন।
“ঈদের আগেই বেতন-ভাতা না পেলে সরকারের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে”
বক্তারা বলেন, ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টার পক্ষ থেকে প্রকল্পের কর্মরত জনবলকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। সর্বশেষ ১৪ মে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রকল্প অনুমোদনের তারিখ থেকে বেতন-ভাতা দেওয়া হবে; পূর্ববর্তী পাঁচ মাসের বকেয়া পরিশোধ করা হবে না—যা প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ৮৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
তাঁরা অভিযোগ করেন, ঈদুল ফিতরের সময়ও কোনো বেতন-ভাতা দেওয়া হয়নি। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তাঁরা। তারপরও তাঁরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহার পূর্বে যদি বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদান না করা হয়, তাহলে সারা দেশে শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেবে এবং সরকারের ভাবমর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।”
মানববন্ধন থেকে ৫ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়:
১. ‘নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়ন’ প্রকল্পের দ্রুত অনুমোদন
২. জানুয়ারি ২০২৫ থেকে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ
৩. ঈদের পূর্বে সম্পূর্ণ বেতন-ভাতা পরিশোধ
৪. প্রকল্পের জনবলকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দ্রুত ব্যবস্থা
৫. চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ
মানববন্ধন শেষে বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, দ্রুত এসব দাবি মেনে নিয়ে ৮৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর জীবনমান রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

























