কাউতলীতে হোটেল তাজে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ, তরুণী ব্ল্যাকমেইলের শিকার
- Update Time : ১০:১৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
- / ৯৮ Time View

জেলা শহরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত জনবহুল কাউতলী এলাকা। আর এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেই অবস্থিত ‘হোটেল তাজ’ এখন অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। হোটেলের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপের মহোৎসব চলায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। সম্প্রতি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে এই হোটেলে নিয়ে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়া এবং পরবর্তীতে গোপন ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই তরুণী নিজে বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অনুসন্ধানে ভয়ংকর সত্য: ১৫০০ টাকায় ঘণ্টা চুক্তি!
পবিত্র রমজান মাসেও থেমে নেই হোটেল তাজের এই ‘পাপের কারবার’। সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে হোটেলের ম্যানেজারের সাথে কথা বললে বেরিয়ে আসে গা শিউরে ওঠা তথ্য। ম্যানেজার সরাসরি জানান, “প্রেমিক-প্রেমিকা নিয়ে আসলে ঘণ্টা প্রতি ১৫০০ টাকা দিতে হবে। এখানে পুলিশের কোনো ভয় নেই।” প্রশাসনের নাকের ডগায় পুলিশের দোহাই দিয়ে প্রকাশ্যে এমন অনৈতিক বাণিজ্যের প্রস্তাবে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের টার্গেট ও মোটরসাইকেল রহস্য:
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন এই হোটেলের নিচে সারি সারি মোটরসাইকেল রেখে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা হোটেলের ভেতরে অবস্থান করে। হোটেলের আড়ালে এসব নোংরামি চলায় এলাকার সামাজিক পরিবেশ চরমভাবে বিষিয়ে উঠছে। তারা জানান, হোটেলের মালিকপক্ষ একজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি হওয়ায় এবং তার উগ্র আচরণের কারণে ভয়ে কেউ সরাসরি প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।
মালিকপক্ষের রহস্যজনক পলাতক অবস্থা:
ঘটনার বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ব্যবহৃত সকল মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এমনকি সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলেও দায়িত্বশীল কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, অপরাধ ঢাকতেই তারা গা ঢাকা দিয়েছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চায় এলাকাবাসী:
কাউতলী বাসী জানান, হোটেলের নামে এই অসামাজিক কার্যকলাপের মহোৎসব চলায় তারা আজ অতিষ্ঠ। দ্রুত এই ‘অপরাধের আস্তানা’ সিলগালা করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে এবং তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছে সচেতন মহল।
























