০৯:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিকরগাছায় প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ অতপর সন্তান প্রসব, থানায় মামলা, অভিযুক্ত পরিবারের অস্বীকার 

ঝিকরগাছা প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৯:৫৩:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • / ৭৯ Time View

 

যশোরের ঝিকরগাছার পল্লীতে বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী এক তরুণী (২১) ধর্ষণের শিকার হয়ে পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। গত ১৮ মার্চ নাভারন পল্লী ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার এর মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত সোমবার (১২ মে) স্থানীয় এক কবিরাজের নামে ঝিকরগাছা থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নং- ২১ তারিখ:- ১৩/০৫/২৬ খ্রিঃ, ধারা : নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১)।

 

সরজমিন ঐ বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ফুটফুটে একটা পুত্র সন্তান নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছে তরুণী। তবে বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় সে বাচ্চাকে কোলে নিতে পারেনা। বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে গেলেও অন্যের সহায়তা নেওয়া লাগে বলে জানান বাড়ির লোকজন।

 

তরুণীর মা বলেন, স্থানীয় কবিরাজ তাদের প্রতিবেশী আব্দুর রহমান (৬০) প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে। তিনি বলেন, মেয়েটি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। সে ঠিকমতো সঠিক উচ্চারণে কথাও বলতে পারেনা। গত অক্টোবর মাসে তার শরীরে পরিবর্তন দেখা দিলে আমরা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষা করে জানান মেয়ে ৪ মাসের গর্ভবতী। জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি জানায়, আমাদের প্রতিবেশী হুজুর পান খাওয়ানোর ও টাকার লোভ দেখিয়ে তাকে তার কবিরাজির ঘরে নিয়ে গিয়ে খারাপ কাজ করেছে। প্রতিবন্ধী হওয়ায় এই বিষয়ে সে কাউকে কিছু বলতে পারেনি। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে স্থানীয় ভাবে সালিশ হয়। অভিযুক্তের পরিবার প্রভাবশালী আর আমাদের পরিবার গরীব হওয়ায় তারা কোনো সমাধান করেনি। উল্টো ঐ পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা নিয়ে বাচ্চা নষ্ট করতে বলে। কিন্তু আমরা সেটা করিনি। থানায় গিয়ে মামলা দিতে চাইলেও স্থানীয় সমাজপতিরা বিভিন্ন ভাবে আমাদের ভয়ভীতি দেখায়। ফলে সেসময় থানায় মামলাও করতে পারিনি। এরপর গত মার্চ মাসের ১৯ তারিখে মেয়ের প্রসব বেদনা উঠলে নাভারণ পল্লী ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে সন্তান ডেলিভারি করানো হয়। সন্তান হওয়ার পরে আমরা সমাজের লোকজনের কাছে হেঁটেছি, আমার মেয়ের দায়িত্ব নিতে বলেছি কিন্তু কেউ আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে থানায় মামলা করেছি।

 

এদিকে আব্দুর রহমান সম্পর্কে অনুসন্ধানে জানা যায় তার আদী নিবাস খুলনা। ১৫ বছর আগে একটি মামলার আসামী হলে সেখান থেকে স্বপরিবারে ঝিকরগাছায় চলে আসেন। তার ২ ছেলে ও ২ মেয়ে। সবার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলেরা বিদেশে থাকে। বাড়িতে তিনি এবং তার স্ত্রী থাকেন। ঘটনার দিন তার স্ত্রী বেড়াতে গিয়েছিল। ধর্ষণের ঘটনা অস্বীকার করে আব্দুর রহমানের স্ত্রী বলেন, পাগলের কথা বিশ্বাস করা যায়না। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তিনি সত্য উদঘাটন এর দাবী জানান।

 

ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: শাহজালাল আলম বলেন, প্রতিবন্ধী ধর্ষণের ঘটনায় ঝিকরগাছা থানায় মামলা রুজু হওয়ার পর পুলিশ আসামি গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু আসামি আত্মগোপনে আছে। দ্রুতই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

 

স্থানীয় লোকজন এই ঘটনায় দোষী ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ঝিকরগাছায় প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ অতপর সন্তান প্রসব, থানায় মামলা, অভিযুক্ত পরিবারের অস্বীকার 

Update Time : ০৯:৫৩:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

 

যশোরের ঝিকরগাছার পল্লীতে বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী এক তরুণী (২১) ধর্ষণের শিকার হয়ে পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। গত ১৮ মার্চ নাভারন পল্লী ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার এর মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত সোমবার (১২ মে) স্থানীয় এক কবিরাজের নামে ঝিকরগাছা থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নং- ২১ তারিখ:- ১৩/০৫/২৬ খ্রিঃ, ধারা : নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১)।

 

সরজমিন ঐ বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ফুটফুটে একটা পুত্র সন্তান নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছে তরুণী। তবে বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় সে বাচ্চাকে কোলে নিতে পারেনা। বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে গেলেও অন্যের সহায়তা নেওয়া লাগে বলে জানান বাড়ির লোকজন।

 

তরুণীর মা বলেন, স্থানীয় কবিরাজ তাদের প্রতিবেশী আব্দুর রহমান (৬০) প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে। তিনি বলেন, মেয়েটি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। সে ঠিকমতো সঠিক উচ্চারণে কথাও বলতে পারেনা। গত অক্টোবর মাসে তার শরীরে পরিবর্তন দেখা দিলে আমরা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষা করে জানান মেয়ে ৪ মাসের গর্ভবতী। জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি জানায়, আমাদের প্রতিবেশী হুজুর পান খাওয়ানোর ও টাকার লোভ দেখিয়ে তাকে তার কবিরাজির ঘরে নিয়ে গিয়ে খারাপ কাজ করেছে। প্রতিবন্ধী হওয়ায় এই বিষয়ে সে কাউকে কিছু বলতে পারেনি। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে স্থানীয় ভাবে সালিশ হয়। অভিযুক্তের পরিবার প্রভাবশালী আর আমাদের পরিবার গরীব হওয়ায় তারা কোনো সমাধান করেনি। উল্টো ঐ পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা নিয়ে বাচ্চা নষ্ট করতে বলে। কিন্তু আমরা সেটা করিনি। থানায় গিয়ে মামলা দিতে চাইলেও স্থানীয় সমাজপতিরা বিভিন্ন ভাবে আমাদের ভয়ভীতি দেখায়। ফলে সেসময় থানায় মামলাও করতে পারিনি। এরপর গত মার্চ মাসের ১৯ তারিখে মেয়ের প্রসব বেদনা উঠলে নাভারণ পল্লী ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে সন্তান ডেলিভারি করানো হয়। সন্তান হওয়ার পরে আমরা সমাজের লোকজনের কাছে হেঁটেছি, আমার মেয়ের দায়িত্ব নিতে বলেছি কিন্তু কেউ আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে থানায় মামলা করেছি।

 

এদিকে আব্দুর রহমান সম্পর্কে অনুসন্ধানে জানা যায় তার আদী নিবাস খুলনা। ১৫ বছর আগে একটি মামলার আসামী হলে সেখান থেকে স্বপরিবারে ঝিকরগাছায় চলে আসেন। তার ২ ছেলে ও ২ মেয়ে। সবার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলেরা বিদেশে থাকে। বাড়িতে তিনি এবং তার স্ত্রী থাকেন। ঘটনার দিন তার স্ত্রী বেড়াতে গিয়েছিল। ধর্ষণের ঘটনা অস্বীকার করে আব্দুর রহমানের স্ত্রী বলেন, পাগলের কথা বিশ্বাস করা যায়না। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তিনি সত্য উদঘাটন এর দাবী জানান।

 

ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: শাহজালাল আলম বলেন, প্রতিবন্ধী ধর্ষণের ঘটনায় ঝিকরগাছা থানায় মামলা রুজু হওয়ার পর পুলিশ আসামি গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু আসামি আত্মগোপনে আছে। দ্রুতই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

 

স্থানীয় লোকজন এই ঘটনায় দোষী ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।