০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিকরগাছার এনামুল হত্যা মামলার আসামী রবিউল মালয়েশিয়ায় আটক

ঝিকরগাছা প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৮:২৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • / ৮৭ Time View

 

নাতনিকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের ফারাসাতপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম এর পুত্র রাজমিস্ত্রী এনামুল সরদার (৫৫) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী, হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী, হুকুমদাতা ও অর্থ জোগানদাতা রবিউল ইসলাম মালয়েশিয়া পুলিশের হাতে আটক হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।

 

গত ৮ জুন (সোমবার) রাত ৯টার দিকে এনামুল সরদার স্মরণপুর জামতলা মোড় থেকে বাড়ি ফেরার পথে মনিরামপুর থানার রোহিতা ইউনিয়নের স্মরণপুর বাঁশতলা তিন রাস্তার মোড়ে মতিনের দোকানের সামনে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে, চাকু মেরে, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে নৃশংস ভাবে হত্যা করে। এই ঘটনায় মনিরামপুর থানায় একটি মামলা রুজু হয়। মামলা নম্বর ১১, তারিখ ৯/৬/২৬, ধারা ৩০২/৩৪ পিসি। উক্ত মামলায় ফারাসাতপুর গ্রামের ইমামুল সরদার এর ছেলে হুসাইন (২২) ও রাকিব (২০), মফিজুর সরদারের ছেলে রাব্বি (২২), আফজাল সরদারের ছেলে চঞ্চল (৩২), আবুল সরদারের ছেলে সাকিব (২০) ও আরিফ (২৭), খায়রুল সরদারের ছেলে মেহেদী (২৫), লিটন সরদারের ছেলে সিয়াম (১৯), হাবিবুর এর ছেলে ইউনুস (২৪), রফিকুল এর ছেলে মিঠু (২৪), শওকত সরদারের ছেলে রবিউল (৪৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান হাজরা বলেন, উক্ত হত্যাকান্ডের মাস্টারমাইন্ড রবিউল ইসলাম হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার পরপরই ঐ রাতেই মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে ৯ জুন সকাল সাড়ে ৬টার ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন। অন্যদিকে ঐদিনই আসামিদের নামে মামলা রুজু হয় এবং দেশের বিমানবন্দর গুলোতে আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। পরবর্তীতে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের সাথে যোগাযোগ করলে মালয়েশিয়ার পুলিশ রবিউল ইসলামকে কুয়ালালামপুরের শিলংগর, গুডিয়ার কোট ১০ ইউএসজে ১৫, ৪৭৬০০, শুভং পারডানার বিল্ডিং নম্বর এইউ ০০-০৬ এ অবস্থিত রেস্টুরেন্ট আল জাজ থেকে ১০ জুন বেলা ১২টার সময় গ্রেফতার করে। বর্তমানে সে মালয়েশিয়া জেলখানায় আটক আছে। তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান আছে বলে তিনি জানান।

 

মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাঈদ বলেন, হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার সংবাদ পেয়ে পুলিশ অভিযান চালানো শুরু করে এবং মামলার ১ নম্বর আসামি হুসাইনকে গ্রেফতার করে। বাকি আসামিরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে র‍্যাবের অভিযানে রাব্বি এবং রাকিব আটক হয়। হুসাইন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের সম্পৃক্ততার কথা নিশ্চিত করেছে। ইতিমধ্যে আমরা আমরা আরও কয়েকজন আসামিকে নজরদারিতে রেখেছি। খুব শীঘ্রই তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে। বাকী আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত আছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ঝিকরগাছার এনামুল হত্যা মামলার আসামী রবিউল মালয়েশিয়ায় আটক

Update Time : ০৮:২৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

 

নাতনিকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের ফারাসাতপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম এর পুত্র রাজমিস্ত্রী এনামুল সরদার (৫৫) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী, হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী, হুকুমদাতা ও অর্থ জোগানদাতা রবিউল ইসলাম মালয়েশিয়া পুলিশের হাতে আটক হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।

 

গত ৮ জুন (সোমবার) রাত ৯টার দিকে এনামুল সরদার স্মরণপুর জামতলা মোড় থেকে বাড়ি ফেরার পথে মনিরামপুর থানার রোহিতা ইউনিয়নের স্মরণপুর বাঁশতলা তিন রাস্তার মোড়ে মতিনের দোকানের সামনে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে, চাকু মেরে, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে নৃশংস ভাবে হত্যা করে। এই ঘটনায় মনিরামপুর থানায় একটি মামলা রুজু হয়। মামলা নম্বর ১১, তারিখ ৯/৬/২৬, ধারা ৩০২/৩৪ পিসি। উক্ত মামলায় ফারাসাতপুর গ্রামের ইমামুল সরদার এর ছেলে হুসাইন (২২) ও রাকিব (২০), মফিজুর সরদারের ছেলে রাব্বি (২২), আফজাল সরদারের ছেলে চঞ্চল (৩২), আবুল সরদারের ছেলে সাকিব (২০) ও আরিফ (২৭), খায়রুল সরদারের ছেলে মেহেদী (২৫), লিটন সরদারের ছেলে সিয়াম (১৯), হাবিবুর এর ছেলে ইউনুস (২৪), রফিকুল এর ছেলে মিঠু (২৪), শওকত সরদারের ছেলে রবিউল (৪৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান হাজরা বলেন, উক্ত হত্যাকান্ডের মাস্টারমাইন্ড রবিউল ইসলাম হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার পরপরই ঐ রাতেই মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে ৯ জুন সকাল সাড়ে ৬টার ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন। অন্যদিকে ঐদিনই আসামিদের নামে মামলা রুজু হয় এবং দেশের বিমানবন্দর গুলোতে আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। পরবর্তীতে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের সাথে যোগাযোগ করলে মালয়েশিয়ার পুলিশ রবিউল ইসলামকে কুয়ালালামপুরের শিলংগর, গুডিয়ার কোট ১০ ইউএসজে ১৫, ৪৭৬০০, শুভং পারডানার বিল্ডিং নম্বর এইউ ০০-০৬ এ অবস্থিত রেস্টুরেন্ট আল জাজ থেকে ১০ জুন বেলা ১২টার সময় গ্রেফতার করে। বর্তমানে সে মালয়েশিয়া জেলখানায় আটক আছে। তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান আছে বলে তিনি জানান।

 

মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাঈদ বলেন, হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার সংবাদ পেয়ে পুলিশ অভিযান চালানো শুরু করে এবং মামলার ১ নম্বর আসামি হুসাইনকে গ্রেফতার করে। বাকি আসামিরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে র‍্যাবের অভিযানে রাব্বি এবং রাকিব আটক হয়। হুসাইন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের সম্পৃক্ততার কথা নিশ্চিত করেছে। ইতিমধ্যে আমরা আমরা আরও কয়েকজন আসামিকে নজরদারিতে রেখেছি। খুব শীঘ্রই তাদের গ্রেফতার দেখানো হবে। বাকী আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত আছে।